১৩ এপ্রিল ২০২৩
ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় সিলেটস্থ লিডিং ইউনিভার্সিটির ভিসি’র বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্তঃনেই। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বিশ্ববিদ্যায় পরিচালয়ে স্বেচ্চাচারিতা, অনিয়ম, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ ও প্রদান এবং নিজের প্রভাব বলয় তৈরী সহ বিস্তর অভিযোগ রযেছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগে প্রকাশ, পাবলিক ও প্রাইভেট কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি (উপাচার্য ) ছুটি নিয়ে বিদেশে গেলে অন্য কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যেতে হয়। এমনই নির্দেশনা আছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি)। তবে এ নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়াল-খুশি মতো বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করেন বেসরকারি লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য কাজী আজিজুল মাওলা। সংশ্লিষ্টদের এমন অনেক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
শুধু তা-ই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বিদেশে পাচার, যুক্তরাষ্ট্রে বসে অফিস পরিচালনা, স্বজনপ্রীতি, ব্যক্তিগত ভ্রমণের নামে টিএ-ডিএ নেয়াসহ ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক অনিয়মের অসংখ্য অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
ভিসি কাজী আজিজুল মাওলার বিরুদ্ধে গত ৬ মার্চ ইউজিসিতে এসব অভিযোগ দাখিল করেছেন লিডিং ইউনিভাসিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ রাগীব আলী। আবার ট্রাস্টি বোর্ডের বিরুদ্ধে ইউজিসিতে পাল্টা অভিযোগ দিয়ে নিজের সাফাই গেয়েছেন উপাচার্য নিজেই।
জানা গেছে, একবিংশ শতাব্দির শুরুর দিকে ২০০২ সালের ৪ মার্চ সিলেটের দক্ষিণ সুরমার রাগীব নগরে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটি। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী ২ হাজার ৬২৩ এবং স্থায়ী ও খণ্ডকালীন শিক্ষক ১১৭ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি বিভাগে ১৭টি প্রোগ্রাম চালু আছে।
অভিযোগে প্রকাশ, লিডিং ইউনিভার্সিটিতে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, ইচ্ছেমতো কার্যক্রম পরিচালনা, বিশেষ ব্যক্তিবর্গকে সুবিধা দেয়াসহ নানা কারণে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে ভিসি কাজী আজিজুল মাওলার। এতে পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে সিলেটে রগীব আলী বিরোধী একটি অংশ। নেপথ্যে রয়েছেন সিলেট অঞ্চলের ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালী কয়েকজন রাজনিতিক নেতাও।
সরকারদল সিলেট আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা গণমাধ্যমকে জানান, বিপুল অর্থসম্পদের মালিক শিল্পপতি সৈয়দ রাগীব আলীকে চাপে রাখার অংশ হিসেবে উপাচার্যকে ইন্ধন জোগাচ্ছেন প্রভাবশালী কয়েক রাজনৈতিক নেতা। তাদের লোভ রাগীব আলীর বিপুল সম্পদের উপর। এ ছাড়া অবৈধ আর্থিক সুবিধা আদায়ও এর একটি কারণ। কেননা সমস্যা না থাকলে হস্তক্ষেপেরও সুযোগ থাকে না। এ জন্যই দুপক্ষকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ভিসি কাজী আজিজুল মাওলা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়। সাম্প্রতিক সময়ে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল, তা কিছুটা নিরসন হয়েছে। এখন নিয়মানুযায়ী উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছি। তবে কিছু কর্মকর্তা এখনো অসহযোগিতা করছেন’ বলেও জানান তিনি।’
বিশ্ববিদ্যালিয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি’) ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ দাখিল করা চিঠিতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, বিদেশে অর্থ পাচার এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষতিসাধনের বিস্তর অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ১ মার্চ ড. কাজী আজিজুল মাওলা লিডিং ইউনিভার্সিটিতে যোগদানের পর থেকে তার ছেলেমেয়েকে দেখাশোনা ও প্রমোদ ভ্রমণের জন্য কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে চারবার আমেরিকা সফর করেছেন। বিদেশে অবস্থানকালে তিনি কাউকে উপাচার্যের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে যাননি। এ ছাড়া ব্যক্তিগত আয়কর ফাঁকি দিয়ে বিগত দুই বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিয়েছেন, যার পরিমাণ ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অভিযোগে আরো বলা হয়, ২০২২ সালের ১৯ জুলাই উপাচার্য আড়াই হাজার পাউন্ড স্টার্লিং (প্রায় সোয়া চার লাখ টাকা) লিডিং ইউনিভার্সিটির সাধারণ তহবিল থেকে যুক্তরাজ্যের একটি কোম্পানির হিসাবে পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ করা হয়েছে।
উপাচার্য আজিজুল মাওলা ইউজিসিতে অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ১২ থেকে ২৪ জানুয়ারি একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে ইউজিসির অনুমতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি। তার দাবি, অসুস্থতা ও ফ্লাইট জটিলতার কারণে সময় মতো তিনি দেশে ফিরতে পারেননি। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরার তিন দিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিতে চাইলে ট্রাস্টি বোর্ড বাধা দেয় বলে তার দাবি, ১৩ মার্চ আবারো কর্মক্ষেত্রে ঢুকতে তিনি বাধাপ্রাপ্ত হন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন ও এসএমএস করা হলেও সাড়া মিলেনি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ রাগীব আলী’র।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসির সদস্য (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় ইউজিসি। আর কেউ যদি মিথ্যা অভিযোগ দেয়, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে।