১৩ এপ্রিল ২০২৩


২১ রোজা : এতেকাফে অবস্থানকরীরা সুভাগ্যবান

শেয়ার করুন

শাহিদ হাতিমী : রোজা মুসলমাদের ৫টি স্তম্ভের একটি। আল্লাহর নির্দেশ পালনের উদ্দেশে নিয়তসহ সুবহে সাদিকের শুরু থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকার নামই সওম বা রোজা। গতকাল বিদায় নিয়েছে পবিত্র রামাজানে মাগফিরাতের দশক। আজ থেকে মুসলিম উম্মাহ পালন করছেন নাজাতের দশক। আজ মসজিদে মসজিদে দেখা যাচ্ছে এতেকাফকারীদের। যাদের কপালে এতেকাফে অবস্থান করার সুযোগ হয়েছে, সত্যিই তারা ভাগ্যবান।

ইসলামের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন ২১ রামাজান ১৪৪৩ হিজরী মোতাবেক ২৩ এপ্রিল ২০২২ ইংরেজি। এ দিনে ইসলামের ৪র্থ খলিফা হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু শাহাদাত বরণ করেন। আবার এ দিনেই খেলাফত লাভ করেন তাঁরই পুত্র হজরত হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু। আজ থেকে ৩০ রামাজান বা নতুন চাঁদ দেখার আগ পর্যন্ত সিয়াম সাধনা কাজ চালিয়ে যেতে হবো।
২১ তম রোজায় আমরা এই দোয়া করতে পারি। হে আল্লাহ! এ দিনে আমাকে তোমার সন্তুষ্টির দিকে পরিচালিত কর।

শয়তানদের আমার উপর আধিপত্য বিস্তার করতে দিওনা। জান্নাতকে আমার গন্তব্যে পরিণত কর। হে প্রার্থনাকারীদের অভাব মোচনকারী। রমজানের ২১ তারিখ হজরত মুসা আলাইহিস সালাম জন্মগ্রহণ করেন। আল্লাহ তাআলা হজরত ঈসা আলাইহিস সালামকে আসমানে তুলে নেন। ২১ রমজান অনেক নবি-রাসুল জন্ম ও মৃত্যু হয়। ২১ রমজান মুসলিম উম্মাহর কাছে যেমনি এক হৃদয় বিদারক ঘটনা আবার অন্য দিকে ইসলামের অনন্য আনন্দের দিন। কারণ এ দিনে হজরত হাসান রাযিয়াল্লাহু আনহু খেলাফত লাভ করেছিলেন।

হজরত হাসান ইবনে আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর বাবা হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর গুণাবলী বর্ণনাসহ ওঠে এসেছে ২১ রমজানের আরো কিছু তথ্য। তিনি বলেন, ‘তিনি (হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু) এমন এক রাতে শাহাদাত বরণ করছেন- হজরত ঈসা আলাইহি সালামকে আসমানে তুলে নেয়া হয়েছে এবং হজরত মুসা আলাইহিস সালামও ২১ রমজান ইন্তেকাল করেছেন। এতেকাফে সবচেয়ে তৃপ্তির বিষয় হচ্ছে-
জামাআতে নামায আদায় হয়। জামাআতে নামায আদায়ের ফযীলত প্রসঙ্গে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সা. ইরশাদ করেন, জামাতের সাথে আদায়কৃত নামায একাকী নামাযের চেয়ে ২৭ গুন বেশী ফজীলতপূর্ণ। (বোখারী শরীফ হাদীস নং ৬৪৫)। উসমান ইবনে আফফান রাযি. থেকে বর্ণিত- প্রিয় নবী সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি এশার নামায জামাতের সাথে আদায় করল সে যেন অর্ধরাত দাঁড়িয়ে ইবাদত করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামাতের সাথে আদায় করল, সে যেন সারারাত নামায পড়ল। (মুসলিম শরীফ হাদীস নং ৬৫৬)।

হযরত আনাস রাযি. এর সুত্রে অন্য এক হাদিসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য লাগাতার ৪০ দিন ক্রমাগত তাকবীরে উলার সাথে জামাআতে নামায আদায় করবে, তার জন্য দুটি সনদ লিখে দেওয়া হবে, ১টি হল তার জাহান্নাম থেকে মুক্তির। অপরটি হল মুনাফেকির ফিরিস্তি থেকে মুক্তির। (তিরমিযী শরীফ হাদীস নং ২৪১)। হযরত আবু মূসা আশআরী রাযি. থেকে বর্ণিত, অপর এক হাদীসে রাসূল সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি মসজিদে যতদূর থেকে এসে অবস্থান করে, সে দূর থেকে মসজিদে আসার দরুন ততবেশী সওয়াবের অধিকারী হবে। (বোখারী শরীফ হাদীস নং ৬৫১,মুসলিম শরীফ হাদীস নং ৬৬২)।

হযরত আবু উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত, অন্য এক হাদীসে আছে রাসূল সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ঘর থেকে উযু করে ফরয নামাযের উদ্দেশ্যে মসজিদ পানে রওয়ানা হল, সে ইহরাম বেধে গমনকারীর প্রাপ্ত সওয়াবের পরিমাণ সওয়াবের অধিকারী হবে। (আবু দাউদ শরীফ হাদীস নং ৫৫৮)। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ২১ রমজানের ফজিলত ও মর্যাদায় ধন্য করুন। ইসলামের জন্য শাহাদাতকারী সাহাবায়ে কেরামদের রুহানি ফায়েজ ও বরকত দান করুন। আমিন।

(লেখক : জ্যেষ্ঠ সহ সম্পাদক, আজকের সিলেট ডটকম)

শেয়ার করুন