২৫ মার্চ ২০২৩


জমে উঠেছে বাহারি ইফতার বাজার

শেয়ার করুন

শাহিদ হাতিমী : রামজান উপলক্ষে প্রতিবারই জমে ওঠে ইফতারী বাজার। রোজার শুরুতেই বাহারি ইফতারের পসরা সাজানো হয় নগরীর সর্বত্র, যা থাকে মাসজুড়েই। এবারও হয়নি তার ব্যতিক্রম। এবার না বৃষ্টি, না খুব গরম! সহনীয় মৌসুমে রোজাদারের মাঝে ভালোলাগা কাজ করছে।

নগরীর বেশ কিছু ইফতার দোকানের মালিক জানান, করোনা, সিলেটে ভয়াবহ বন্যার পর এবার সুন্দর করে ইফতারী সামগ্রীর আয়োজন করা হয়েছে ।

নগরীর ব্যস্ততম কয়েকটি স্থানের মধ্যে বন্দরবাজার, আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, মদীনা মার্কেট, শিবগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলাসহ আশে পাশের এলাকাজুড়েইফতারি বাজার পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।

শনিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দুপুর থেকেই দোকানিরা বৈচিত্র্যে ভরপুর লোভনীয় ইফতার সামগ্রী থরে থরে সাজিয়ে রাখছেন টেবিলে। বাহারি সেই ইফতার কিনতে প্রথম দিনই ক্রেতাদের ভিড় ছিল লক্ষ্যনীয়। প্রথম দিন শুক্রবার থাকায় ইফতারের বাজার খুববেশী না হলেও ২য় রোজা থেকে জমে ওঠেছে।প্রতিদিন দুপুর থেকেই নগরীরর প্রধান প্রধান পয়েন্টসহ আশে পাশের অলিগলির বাতাসে ভাসে নানা স্বাদের মুখরোচক খাবারের মনকাড়া সুবাস। দুপুর থেকেই জমে উঠতে শুরু করে ইফতারি বাজার। নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাহারি এসব ইফতার কিনতে ছুটে আসেন ভোজনরসিকরা। তা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে এই ইফতারি বাজার পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। চলে জমজমাট বিকিকিনি। বাহারি সব খাবার নিয়ে বসা ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ছাড়েন নানা হাঁকডাক।

বন্দরবাজারে ইফতার কিনতে আসা ব্যংকার মোশতাক আহমদ জানান- রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাধ্যমে পার হয় রমজান মাস। গতকাল শুক্রবার এবং আজ শনিবার অফিস বন্ধ থাকায় আমি বাজার পরিদর্শনে বেরিয়েছি। রোজার প্রথম দিনে নগরীর প্রতিটি এলাকায় রকমারি ইফতারের আয়োজন দেখা গেছে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, পাড়া-মহল্লার দোকান ও ফুটপাতের ভ্রাম্যমান দোকানগুলোতে। রোজাদারদের ভিড়ও ছিলো লক্ষণীয়। মধ্য ও নিম্ন আয়ের লোকজনকেও লাইন ধরে ইফতার সামগ্রী কিনতে দেখা গেছে। তবে ভ্রাম্যমান দোকানগুলোতে ক্রেতাদের বেশী ভীড় লক্ষ্য করা গেছে।

জিন্দাবাজারের ইফতারী ব্যবসায়ী রফিক মিয়া জানান- ইফতারের উপকরণগুলোর মধ্যে রয়েছে, ছোলাবুট, বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, শাকের বড়া, দুই ধরণের খিচুড়ি, হালিম, আস্ত মুরগির রোস্ট, মাসালা চিকেন, চিকেন ফ্রাই, দই বুন্দিয়া, বিফ আখনি, চিকেন আখনি, বোম্বাই জিলাপি, মুম্বাই চিকেন সমুচা, চিকেন টিক্কা কাবাব, জালি কাবাব, ডিম চপ, চিকেন ড্রামস্টিক, মাটন কাটি কাবাব ও শাহী জিলাপি। এছাড়াও নানা রকমের বাহারী ইফতারী।

নগরীর কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ও দোকান ঘুরে দেখা যায়, নানা রঙ্গের শামিয়ানা টানিয়ে এসব বাহারী ইফতার সামগ্রী সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা।

আম্বরখানার এক রেস্টুরেন্ট মালিক এর সাথে কথা বলে জানাযায়, প্রথম ৪-৫ রমজান পর্যন্ত মানুষ বাসা-বাড়িতে ইফতার করেন। তাই এ সময় বিক্রি কিছুটা কম হয়ে থাকে। এরপরও গতকাল থেকে আজ আরো ভালো বিক্রি হয়েছে। ১০ রমজান পর থেকে চাহিদা আরো বাড়বে। নগরীর চৌহাট্টা, মেডিকেল রোড এলাকা ঘুরেও দেখা যায়, বিভিন্ন ধরণের খাবার দিয়ে সাজানো ইফতারির দোকানগুলো। দোকান ভেদে একেক দোকানের একেক আইটেমের চাহিদা রয়েছে বেশী।

ইফতার সামগ্রী কিনতে আসা সুমন জানান, মানসম্মত পরিবেশে ইফতার সামগ্রী কিনতে আগ্রহী রোজাদাররা। তাই স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশে তৈরি ইফতার সামগ্রীর প্রতি ক্রেতাদের ঝোঁক বেশি।

নগরীর হাওয়া পাড়া এলাকা থেকে ইফতার কিনতে আসা রুমন মিয়া বলেন, কানগুলোতে ইফতারের জাকজমক পসরা বসেছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় সবকিছুর এবার দাম একটু বেশি।

শেয়ার করুন