১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩


লাগামহীন শিশু খাদ্যের দাম

শেয়ার করুন

আজকের সিলেট ডেস্ক : দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। বেড়েই চলেছে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম। লাফিয়ে বাড়ছে শিশুখাদ্যের দামও। গত এক বছরে বিভিন্ন শিশুখাদ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। লাগামহীন শিশু খাদ্যের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় অভিভাবকরা।

পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে গ্রামের চেয়ে শহরে শিশু খাদ্যের দর বেশি বেড়েছে। শিশুর গুড়ো দুধের দাম ছোট প্যাকেটে বেড়েছে ২০ থেকে ৫০ টাকা। বড় মোড়কে দাম আরও চড়া। ন্যানের দাম এক কেজির কৌটায় বেড়েছে প্রায় হাজার টাকা। এক বছর আগেও যেখানে শিশুদের ১ কেজি ৮০০ গ্রামের ল্যাকটোজেন দুধ বিক্রি হতো ২ হাজার ৩০০ টাকায়। সেটি এখন বেড়ে ৩ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ গুড়ো দুধের দামে খুব একটা পরিবর্তন নেই। ডিপ্লোমা, ডানো, ফ্রেশ, ড্যানিশের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে আগের দরেই। তার ওপর অফারও দিচ্ছে কেউ কেউ। কিন্তু ক্রেতার দেখা নেই। যদিও পাড়ার খুচরা দোকানে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সাধারণ গুড়ো দুধ।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, শিশুখাদ্যের দাম যদি এমনভাবে বাড়তে থাকে তাহলে পুষ্টিহীনতায় ভুগবে শিশুরা। নানা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হবে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অযৌক্তিকভাবে শিশু খাদ্যের দাম বাড়াচ্ছে একাধিক কোম্পানি। কিন্তু এসবে কারও নজর নেই।

ব্যবসায়ীরা জানান, এলসি জটিলতায় শিশু খাদ্যের যোগান কমেছে। বাধ্য হয়ে দাম বাড়িয়েছে কোম্পানি। এমন অবস্থায় শিশুদের মা-বাবাদের মাথায় হাত। একদম ছোট শিশু না হলে সন্তানদের খাদ্য তালিকা থেকে দুধ বাদ দিয়েছেন অনেকে। অনেকে আবার ছোট প্যাকেট কিনে চাহিদা সামাল দেয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের অভিযোগ, নিত্যপণ্যের চড়া দামের দাপটে বেবি ফুডের বাজারে কেউ নজরই দিচ্ছে না। এভাবে চললে পুষ্টিহীনতায় পড়বে শিশুরা।

তারা আরও জানান, দুধের মূল্যবৃদ্ধির কারণ বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়া এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধি। মূলত ২০২১ সালের শুরু থেকে গুঁড়া দুধের দাম বাড়ছে। তখন বিদেশি ব্র্যান্ডের এক কেজি দুধের দাম ৬০০ টাকার নিচে ছিল, যা এখন ৯০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

এসএমডি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের স্বত্বাধিকারী কবির আহমেদ বলেন, প্রতিটি দুধের দামই বেড়েছে। দেশি-বিদেশি সব ধরনের দুধের দাম এখন বাড়তি।

পুষ্টিবিদ সামিনা জামান কাজরী বলেন, ‘শিশু গঠনের প্রধান উপাদান আমিষ। বাচ্চাকে সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত আমিষজাতীয় খাদ্য না খাওয়ালে তারা পুষ্টিহীনতায় ভুগবে। এ ছাড়া নানা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হবে। আমিষের অভাব থাকলে শিশুর দৈহিক বৃদ্ধি হয় না। এ ছাড়া শিশুর চুল, চামড়া ও নখে অপুষ্ট ভাব দেখা দেয়। প্রোটিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। আমিষের অভাব থাকলে শরীরের বিভিন্ন হরমোন ও এনজাইমে কোনো না কোনো সময়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে। এ জন্য শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে আমিষজাতীয় খাদ্য খাওয়াতে হবে।’

শেয়ার করুন