১২ ডিসেম্বর ২০২২
ডেস্ক রিপোর্ট : বদলে যাচ্ছে সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরসহ দেশের ৭টি বিমানবন্দরের অবকাঠামো। বিমানবন্দরগুলোর উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় বর্তমানে ৩৫ হাজার ৮৫০ কোটি টাকার কাজ চলছে। আগামী বছরের শেষ নাগাদ প্রকল্পগুলোর কাজের সমাপ্তি ঘটবে।
সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরের বিদ্যমান রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণ
এই প্রকল্পের আওতায় ৪৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে রানওয়ে ও টেক্সিওয়ের শক্তি ৪১ পিসিএন থেকে ৯০ পিসিএনে উন্নীত করা হচ্ছে। কাজের ৯৯ শতাংশ শেষ হয়ে গেছে। এটি বাস্তবায়ন হলে এই বিমানবন্দরে পুরো দমে বোয়িং-৭৭৭ উড়োজাহাজ অবতরণ করতে পারবে। ইতোমধ্যে এই রুটে লন্ডন-সিলেট ফ্লাইট চালু হয়ে গেছে।
সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প
২৩১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের আওতায় ৩৪৯১৯ বর্গমিটার প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, ৬৮৯২ বর্গমিটারের কার্গো ভবন, কন্ট্রোল টাওয়ারসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা। যদিও প্রকল্পের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার একগুঁয়েমির কারণে প্রকল্পটির মাত্র ১৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে, এভিয়েশন খাতের মেগা প্রকল্প হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের অপারেশনাল কার্যক্রম উদ্বোধন হবে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বপ্নের এই টার্মিনালটি উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান। এই প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে প্রকল্পের ৭০ শতাংশ কাজ শেষ। এখন চলছে অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা আর টার্মিনাল পরিচালনা কর্তৃপক্ষ নিয়োগের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার এই প্রকল্পটির অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু এখন সময়ের ব্যাপার।
এটি শুরু হলে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শাহজালালের যাত্রী আর কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের চাহিদা পূরণ হবে। ২৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি শুরু হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, ২০২৩ সালের মধ্যে সব প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। এতে পালটে যাবে দেশের বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামোগত চেহারা। প্রতিটি বিমানবন্দর হবে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন। তিনি বলেন, করোনার মধ্যেও বেবিচকের প্রকৌশলীরা এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করেছেন। প্রতিটি কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিটি কেনাকাটায় দুর্নীতি ও অনিয়মকে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। ইকুইপমেন্ট ও নিরাপত্তা সামগ্রীর মান ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড করা হয়েছে। তার মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী তারা প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বেবিচকের চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের অধিকাংশই ২-৩ বছরের জন্য এখানে নিয়োগ পান। প্রথম এক-দেড় বছর তাদের কাজ শিখতে সময় চলে যায়। যখনই তারা পুরোপুরি অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন তখনই তাদের অন্যত্র পোস্টিং দেওয়া হয়। যা বড় প্রকল্পগুলোর কাজে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে।
এই মুহূর্তে যদি এমন কোনো পরিস্থিতি হয় তবে থার্ড টার্মিনালসহ বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ছন্দপতনের শঙ্কা আছে। তাই চলমান প্রকল্পগুলোর যথাসময়ে বাস্তবায়নের জন্য বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে সরকারকে।