১০ জুলাই ২০২২
কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি : ‘আমরার ঈদের আনন্দ বন্যার পানি ভাসাইয়া নিছেগি’- এমন মন্তব্য করে কোম্পানীগঞ্জে হাইটেক পার্কের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারী ফরিদা বেগম বলেন, ‘ইরকম দিন যেন জীবনে আর কোন দিন না আয়’।
প্রায় ২৫দিন থেকে সন্তানদের নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন তিনি। এরকম অসংখ্য বানভাসিদের অবস্থান সিলেটের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে। যাদের কষ্টে ঈদ কাটছে।
সরকারি হিসেবে শনিবার পর্যন্ত সিলেটে মোট ২৬৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ২০ হাজার ১২৫ জন। ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮৩টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ২৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৩৩ জন। মোট ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ৪০ হাজার ৯১টি।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও জকিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এখনো বন্যার পানি নেমে যায়নি। ঢুবে আছে রাস্তাঘাট। চরম দুর্ভোগে রয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।
কোম্পানীগঞ্জের চাতালপাড় গ্রামের বাসিন্দা মঈন উদ্দিন। পাকাঘর ঘর ছিল তার। বানের স্রোতে পাকা দেয়াল ভেঙে পুরো ঘরটি যেন লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন। বাড়ি ফিরে উঠেছেন চাচাতো ভাইয়ের ঘরে।
মঈন উদ্দিন বলেন, ‘যাদের ঘরে আছি তারাও ছিলেন আশ্রয়কেন্দ্রে। একসাথে ফিরেছি। গোলাভরা ধান সব নষ্ট হয়ে গেছে। ঘর বানানো দূরের কথা খেয়ে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।’
তিনি জানান, সন্তানদের নতুন জামা-কাপড় কিনে দিতে পারেননি। খাবার পেলেও রান্না করার ব্যবস্থা নেই। যেখানে নিজের ঘরই নেই, সেখানে আনন্দ কিসের।
২৫দিন পর ঘর থেকে বন্যার পানি নেমেছে দক্ষিণ সুরমার বোয়াল গাঁয়ের বিভিন্ন ঘর বাড়ি থেকে। সানজিদা নামের এক বাসিন্দা জানান, সিলেট নগরীতে বাবার বাসায় অবস্থান নিয়েছিলেন। ইচ্ছে ছিলো নিজ বাড়িতে ঈদ করার। কিন্তু বন্যার পানি নামলেও এখনো ঘরে বসবাসের উপযোগী হয়নি। এখনো ঘর গুছানো হয়নি।
গোয়াইনঘাটের দরাকুল গ্রামের বাসিন্দা বশির উদ্দিন। জানালেন বাড়ি ফিরলেও বাড়ি আর আগের মতো নেই। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোনরকমে প্রাণে বেঁচেছিলেন। আশ্রয় নিয়েছিলেন একটি স্কুলে। এক কাপড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন। টিনসেড ঘরের আসবাবপত্র আর আগের জায়গায় পাননি।
অন্যদিকে পবিত্র ঈদুল আজহা হওয়ায় গরু কোরবানি দিতে ব্যস্ত লোকজন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্ণধার আবুল হোসেন জানান, রান্না করা খাবার নিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে তারা বানভাসিদের কাছে যাবেন। অনেকেই সকালে হালকা খাবার দিয়েছেন।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান জানান, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোত উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের আর্থিক সহায়তা করা হচ্ছে ঘর মেরামতের জন্য।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ জুন থেকে সিলেটে বন্যা দেখা দেয়। ১৬ জুন থেকে সিলেট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। ফলে তলিয়ে যায় যায় সিলেট নগরীর অধিকাংশ এলাকা।