৩১ মে ২০২২
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : লাল টসটসে লিচুতে ভরপুর সুনামগঞ্জের বাজার। কিন্তু দাম চড়া। ৪৫ পিস লিচু বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, বাগান থেকে বাজার পর্যন্ত লিচু আনতে অনেক খরচ হচ্ছে। এজন্য দামও বেশি।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলফাত স্কয়ার পয়েন্ট, ফল বাজার, কালীবাড়ি পয়েন্ট, পুরাতন বাসট্যান্ড, নতুন কোর্ট পয়েন্ট, ডিএস রোড, ওয়েজখালীসহ বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, পুরো বাজারজুড়ে লাল লাল টসটসে লিচু। ফলের দোকানে, ভ্যানগাড়ি কিংবা বড় ঝুড়িতে করে এসব লিচু বিক্রি করা হচ্ছে। বাজারে রাজশাহী, পাবনা, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলার জাতের লিচু উঠেছে। তবে সুনামগঞ্জের বাজারে রাজশাহী জেলার লিচু খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ফলবিক্রেতা আলী হাসান বলেন, আপনারা তো পত্রিকায় লিখবেন সুনামগঞ্জে লিচুর দাম দ্বিগুণ। কিন্তু আমরা বিভিন্ন জেলা শহরের লিচুর বাগানে গিয়ে লিচু পাচ্ছি না। যে সামান্য লিচু পাওয়া যাচ্ছে, বেশি দাম দিয়ে কিনে আনতে হচ্ছে। যাতাযাত ভাড়াও দ্বিগুণ পড়ছে। আমরা বাধ্য হয়েই বেশি দামে লিচু বিক্রি করছি।
পৌর শহরের কালীবাড়ি পয়েন্টের ফলবিক্রিতা হুসেন মিয়া বলেন, সুনামগঞ্জে লিচুর চাহিদা থাকলেও তেমন চাষ হয় না। বাইরের জেলা থেকে দ্বিগুণ দামে লিচু কিনে আনতে হয়। ফলে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। তারপরও লাভ খুব একটা বেশি হয় না।
সুনামগঞ্জের ফল বাজারে লিচু কিনতে আসা তানিয়া আক্তার বলেন, বাজারজুড়ে লাল টসটসে লিচুতে ভরপুর। কিন্তু দাম খুব বেশি। ৪০ থেকে ৪৫টি লিচুর দাম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। লিচুতে এত দাম খুবই অস্বাভাবিক।
পৌর শহরের রিকশাচালক হারুন মিয়া বলেন, বাজারে লিচুর অভাব নেই, কিন্তু দাম দেশি। এত দামে লিচু কিনে খাওয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই। দাম কমলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে লিচু খাবো।
পৌর শহরের ডিএস রোডে লিচু কিনতে আসা বিপ্লব মিয়া বলেন, বাজারে বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন জাতের লিচু উঠেছে। কিন্তু রাজশাহীর লিচুর কদর বেশি। তাই দাম বেশি হলেও কিনে নিয়ে যাচ্ছি।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, সুনামগঞ্জ হাওর এলাকা। এখানে ২৪ ঘণ্টা পানি থাকে, সেজন্য লিচুর তেমন একটা চাষাবাদ হয় না। তবে সুনামগঞ্জের ছাতক, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার উঁচু এলাকায় কিছু লিচু চাষ করা হয়। আগামীতে উঁচু স্থানে যাতে চাষিরা লিচু চাষ করতে পারেন সেজন্য তাদের পরামর্শ দেওয়া হবে।