৯ মে ২০২২


হোটেল তিতাস থেকে খদ্দের সহ গ্রেফতার ৯, অধরা গিয়াস

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : নগরীর প্রবেশ পথ দক্ষিণ সুরমার কদমতলী এলাকার হুল আলোচিত সেই তিতাস আবাসিক হোটেল যেন পতিতালয়ে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত এখানে চলছে অসামাজিক কার্যক্রম। আর এতে বিপথগামী হচ্ছে তরুন ও যুব সমাজ। মাঝে মধ্যে মাসে চান্দে লোক দেখানো নাম মাত্র অভিযানে কিছু পতিতা ও খদ্দের গ্রেফতার হলেও মুল হোতারা রয়ে যাচ্ছে ধরাছোয়ার বাহিরে। ফলে দিব্যি চলে এসব অসামাজিক কর্মযজ্ঞ। সব শেষ এ হোটেলে অভিযান চালিয়ে ৩ খদ্দের সহ ৬ পতিতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে। এর আগে রোববার দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই হোটেলের ২য় তলার বিভিন্ন কক্ষ থেকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানার উস্তিংগেরগাও-এর মৃত সাইদুর রহমানের ছেলে মোজাম্মেল হক (২২), সিলেটের জৈন্তাপুর থানার সরখাল গ্রামের রমজান আলীর ছেলে মো. আব্দুল করিম (২৮), সুনামগঞ্জের দিরাই থানার উদ্দুলপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে সোহেল (২৮), কুমিল্লা জেলার কোতয়ালি থানার মঙ্গলটুলী গ্রামর কাজী আলমগীরের মেয়ে নিহার আক্তার (২১), সুনামগঞ্জ জেলার সদর থানার পশ্চিম ফেনারবাগ গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে রিমা (১৯), বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থানার মানষা গ্রামের কালীদাস মজুমদারের মেয়ে শ্রীমতি মনি (২৬), খুলনা জেলার দিঘলিয়া থানার জুংগসিয়া গ্রামের ওয়াহেদুজ্জামানের মেয়ে আখি (২৪), চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার আলগীবাজার গ্রামের মতিয়ার রহমানের মেয়ে শান্তা (২৫), ও নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানার গাজীরখেওয়া গ্রামের নুর নবীর মেয়ে নীলা (১৯)।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হোটেল তিতাসে বেশ কয়েক বছর থেকে চলছে এই অসামাজিকতা। গিয়াস নামে এক দালাল স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যদের ম্যানেজ করেই চালাচ্ছে এই পতিতালয়। যার ফলে মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালিত হলেও সে বার বারই থেকে যায় অধরা। এমনকি তার নামে মামলাও হয়না। এই হোটেলে সার্বক্ষণিক খদ্দেরদের আনাগেনার ফলে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ীরা জানান, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে প্রকাশ্যেই এসব ব্যবসা চলে। এই হোটেলের নিয়ন্ত্রক হচ্ছে পতিতা দালাল গিয়াস। আমরা বাঁধা দিলে পুলিশ দিয়ে হয়রানির ভয় দেখায়। এই গিয়াসকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনলেই কেবল বন্দ হতে পারে এই পতিতালয়। এটি বন্দ হলে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা করতে পারব।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ সুরমার কদমতলি এলাকার তিতাস আবাসিক হোটেল যেন এক পতিতাপল্লি। কিছুদিন পরপরই এ হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় নারী-পুরুষদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

গত বছরের ২৭ আগস্ট তিতাস আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে ৫ পুরুষ ও ২ নারীকে গ্রেফতারে করে পুলিশ। ওই দিন হোটেলটির ২য় তলার দুটি কক্ষ থেকে এই ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে গত বছরের ১৫ জানুয়ারি এ হোটেলে অভিযান চালিয়ে ৫ তরুণী ও ৯ যুবকসহ মোট ১৪ জনকে আটক করে দক্ষিণ সুরমা থানাপুলিশ।

শেয়ার করুন