২০ এপ্রিল ২০২২
ধর্ম ও জীবন ডেস্ক : রমজান মাস অন্য মাসের তুলনায় অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ ও মহিমান্বিত। তাই এ মাসের কদর করতে হবে। ইবাদত বন্দেগি করার মাধ্যমে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে হবে। বিরত থাকতে হবে, অন্যায় ও খারাপ কাজ থেকে।
হাদিসে বলা হয়েছে, ‘এ মাসে যদি কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আপন ইচ্ছায় কোনো নফল নেকির আমল করে, সে অন্যান্য মাসের ফরজ ইবাদতের সমান সওয়াব পাবে। আর যে একটি ফরজ আদায় করবে সে অন্যান্য মাসের সত্তরটি ফরজের সমান সওয়াবের হকদার হবে। ’
এমন ঘোষণাকে আরও মহিমান্বিত করেছে আরেকটি ঘোষণা। সেটি হলো, হাদিসে কুদসিতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘রোজা নির্দিষ্ট করে আমার জন্য রাখা হয়। আর আমিই এর প্রতিদান দেব। ’
আবার, হাদিসে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমান ও এহেতেসাবের (আত্ম পর্যালোচনা) সঙ্গে রোজা রাখবে তার অতীতের গুনাহ-অপরাধ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। ’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র মুখ নিঃসৃত বাণীসমূহ যেকোনো ইমানদারকে আনন্দে উদ্বেলিত না করে পারে না।
রোজা রাখা মানে পানাহার থেকে বিরত থাকা নয়। রোজায় সকল খারাপ কাজও বর্জন করতে হয়। যথাযথ হকের সঙ্গে রোজা পালনে সচেষ্ট হতে হয়। রোজা রেখে অশ্লীল কাজে বা বাজে কথায় নিজেকে নিয়োজিত করা যাবে না। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও কাজ পরিত্যাগ করে না তার শুধু খানা-পিনা পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নাই। ’ বাজে কথা ও অসার কাজ পরিত্যাগ করা মুমিনদের একটি সার্বক্ষণিক গুণ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তারা (ঈমানদাররা) বেহুদা কথা ও কাজ হতে দূরে থাকে। ’ -সূরা আল মুমিনুন: ০৩
রোজার মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্থাৎ খোদাভীতি অর্জন। এটা এমন একটা ভয় যা মানুষকে খারাপ কাজ হতে ফিরিয়ে রাখে। একজন রোজাদার আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় রোজা পালন করে, আল্লাহর ভয়ে গোপনেও কিছু খায় না, সৎ কাজে এগিয়ে যায়, রোজার সওয়াব নষ্ট হয় এমন অনেক জিনিস পরিহার করে- এভাবে সিয়াম সাধনা (রোজা) আল্লাহর হুকুম মানতে মানুষকে অভ্যস্থ করে এবং মানুষের সুকুমার বৃত্তিগুলোকে জাগিয়ে তোলে।
যে রোজা মানুষকে ভালো হতে উৎসাহিত করে না, যে রোজার মাধ্যমে মানুষ খারাপ কাজ পরিহার করতে শেখে না- সে রোজা যথার্থ রোজা নয়।