১৪ এপ্রিল ২০২২
আহমাদ সেলিম (অতিথি প্রতিবেদক) : অভিজাত বিপনী বিতান, ফ্যাশন হাউস কিংবা ফুটপাত-গত দুই বছর সবার মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছিলো করোনা নামে এক মহামারি ভাইরাস। সকল শ্রেণিপেশার মানুষের মতো, করোনা উলট-পালট করে দিয়েছিলো ব্যবসায়ীদের অতীতের সকল রেকর্ড। অনেকে ব্যবসার লোকসানে জর্জরিত হয়ে পেশাবদল করতে বাধ্য হয়েছিলেন। অনেক ব্যবসায়ী হয়েছেন ঋণগ্রস্ত।
তবে, এবার রমজানে করোনার সেই ভয়াল চিত্র নেই। তাই ব্যবসায়ীদের মনে আশার প্রদীপ জ্বলতে শুরু করেছে। গত দুই বছর করোনার করুণদশা কাটিয়ে এবার ভালো ব্যবসা করবেন-এমন প্রত্যাশায় বুক বেঁধেছেন সিলেটের ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে নগরীর সবগুলো বিপণিবিতান পুরনো দুঃখ ভুলে সেজেছে নতুন সাঝে।
ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। কিন্তু করোনার ভয়াবহতায় সেই আনন্দ, সেই খুশি, ধনী-গরিব সকল মানুষের জীবন থেকে হারিয়ে গিয়েছিলো। মানুষের প্রতিটি দিন কেটেছিলো চরম উৎকণ্ঠার ভেতর দিয়ে। অন্য সবার মতো ব্যবসায়িক জীবনে দারুণ আকাল কাটিয়েছেন ছোট-বড় সকল ব্যবসায়ী। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ঈদকে সামনে রেখে সিলেট ফিরেছে পুরনো চেহারায়।
সবগুলো বিপণিবিতান সেজেছে বর্ণিল সাজে। সন্ধ্যার পরপরই জ্বলছে নানা রঙের নিয়ন আলো। শুধু সাজানো নয়, ব্যবসা নিয়েও আশাবাদী তারা। অধিকাংশ বিপণিবিতানে রমজানের শুরু থেকে জমতে শুরু করেছে। বিশেষ করে দশ রমজানের পর থেকে ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত দিনের বেলাতেই ক্রেতাসমাগম হচ্ছে বেশি। রাতে খুব একটা ভিড় চোখে পড়ছে না। পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড়ের ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে অনেকেই ইফতারের আগেই সেরে নিচ্ছেন কেনাকাটা।
নগরীর প্রতিটি বিপণিবিতান, পাদুকা দোকান ও কসমেটিক্সের দোকানগুলোতে মানুষের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিটি দোকানে শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রিপিস, ফ্রক, প্যান্ট, শার্ট বেচাকেনার ধুম পড়েছে।
বন্দরবাজার মধুবন সুপার মার্কেট, হাসান মার্কেট, জিন্দাবাজার ব্লু-ওয়াটার শপিং সিটি, সিলেট প্লাজা, মিলেনিয়াম, সিটি সেন্টার, আলহামরা শপিং সিটি, চৌহাট্টা এলাকার মানরু থেকে শুরু করে ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানীরাও নতুন পোশাকের পশরা সাজিয়ে বসেছেন। তুলেছেন দেশি-বিদেশি কাপড়।
ব্লু-ওয়াটার শপিং সিটির জেনারেল ম্যানেজার মলয় দত্ত মিঠু জানান, করোনায় সারা দেশের মতো সিলেটের ব্যবসা মেরুদন্ড ভেঙে গিয়েছিলো। তবে এবার আমরা প্রচন্ড আশাবাদী ব্যবসা নিয়ে। আশা করছি গত দুই বছরের ক্রান্তিকাল কাটিয়ে উঠতে পারবো। প্রথম রোজা থেকেই আমাদের মার্কেটে ব্যবসা জমে উঠেছে।
সিটি সেন্টারের একজন ব্যবসায়ী জানান, করোনার সময় জমানো টাকা খরচ করে চলেছি। নিরূপায় হয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পাশাপাশি কর্মচারীদেরও চাকরি থেকে বিদায় দিয়েছি। কিন্তু এবার দিন বদলেছে। তাই আমরাও ব্যবসা নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছি। অবস্থা ভালো দেখে ছাটাই করা সেই কর্মচারীদের আবার ডেকে এনেছি। তিনি বলেন, রমজানের শুরু থেকে ক্রেতাদের আনাগোনা আমাদের আশা জাগাচ্ছে।
নগরীর মধ্যে বেশ কয়েকটি অভিজাত ফ্যাশন হাউস রয়েছে নয়াসড়ক, কুমারপাড়া, বারুতখানাসহ আশপাশ এলাকায়। গতকাল নয়াসড়কের ফ্যাশন হাউস মাহা, জেলরোডের আড়ং থেকে শুরু করে সবকটি ফ্যাশন হাউসে ছিলো ক্রেতাদের ভিড়। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সকল বয়সী মানুষ তাদের পছন্দের পোশাক কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
একই চিত্র দেখা গেছে, কুমারপাড়ার দেশী-দশ থেকে শুরু করে অধিকাংশ ফ্যাশন হাউসে। অনেকে নিরিবিলি পরিবেশে, পরিবার পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করেছেন। কুমারপাড়ার বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে কথা হয়।
তারা জানান, এবার করোনা মহামারি না থাকায় ব্যবসা ভালো হচ্ছে। তবে পনের রোজার পর থেকে পুরোদমে ব্যবসা জমে উঠার প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা।