২৬ মার্চ ২০২২


গোয়াইনঘাটে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

শেয়ার করুন

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : গোয়াইনঘাট উপজেলায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল। শঙ্কায় আছেন উপজেলার নিম্নাঞ্চল আর হাওরাঞ্চলের বোরো চাষিরা। গতকাল রাতে হঠাৎ করে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভেঙ্গে গেছে অনেক নদীর বাঁধ ও যাতায়াতের রাস্তা। ভাসিয়ে নিয়ে গেছে অনেকের দরকারি জিনিসপত্র।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল রাত তিনটার পর থেকে হঠাৎ করে পাহাড়ি ঢল নেমে আসে। নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে উপজেলার বেশিরভাগ নিম্নাঞ্চল এবং অনেক বুরো ক্ষেতের জমিতে পানি ঢুকে গেছে এমন খবর পাওয়া গেছে। শুধু এখানেই শেষ নয় সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতের অনেক নৌকা চলে এসেছে বাংলাদেশে আবার বাংলাদেশের অনেক নৌকা তলিয়ে গেছে পানির নিচে।

উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সিহাব জানান,পাহাড়ী ঢলের কারনে আগাম বন্যা। গতরাতে আমাদের বাংলাদেশে কোন বৃষ্টি হয় নাই। কিন্তু আমাদের ঠিক ওপাশে বিশ্বের সর্বাধিক বৃষ্টিপ্রবন স্হান ভারতের চেরাপুঞ্জি, মেঘালয় থেকে হঠাৎ করে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভেঙ্গে গেছে লুনি নদীর বাঁধ (আনফরের ভাঙা)। সকাল থেকে মানুষ পারাপারে দুর্ভোগ বেড়েছে।

এদিকে, হাদারপার বাজার থেকে গোরাগ্রাম যাওয়ার নদীর উপর বাঁধ ভেঙ্গে অনেক কিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। তিনি আরো জানান অপ্রত্যাশিত বন্যায় নিম্নাঞ্চল ও হাওরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেকের দরকারি অনেক কিছু যেখানে-সেখানে ফেলে রাখা ছিল। অপ্রত্যাশিত বন্যায় তা ভাসিয়ে নিয়েছে। এমন কি হাওরাঞ্চলের বুরো ফসলের জমিতে পানি ঢুকে গেছে উপরের কিছু জায়গা বাকী রয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরো জানান, পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় কর্মসংস্থান হারিয়ে উপজেলায় বসবাসকারী নিম্নআয়ের দিনমজুর মানুষেরা কৃষিকাজে মন দিয়েছিল। এই বছর উপজেলার অনেক পতিত জায়গায় কৃষিক্ষেতের আওতায় এসেছে। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে অনেক কৃষকের ফসলি জমি।

বর্তমানে কৃষকেরা আছেন দুশ্চিন্তা আর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন। কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। এই পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে এবং ছোট ছোট হাওরে পানি ডুকে গেছে। হাওরের বোরো, ইরি ধান পানিতে নিমজ্জিত বলে তিনি জানান।

জাফলং টুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক ওসি রতন শেখ জানান, গত রাতের হঠাৎ বন্যায় জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে পর্যটন ব্যবসায়ীদের এবং তাদের অনেক কিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। সীমান্তবর্তী ভারতের পঁচিশটি নৌকা বাংলাদেশ সীমানায় চলে এসেছে এবং তাদের কয়েকটি নৌকা পানিতে তলিয়ে গেছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ জানান, বন্যা বৃদ্ধি পাওয়ার খবরে আমি পরিদর্শনে বেরিয়েছি, বর্তমানে আমি উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের নলজুড়িতে আছি। এখানে কিছু নিচু জায়গাযর ফসলী জমি তলিয়ে গেছে। তবে দুই-একদিনের ভিতরে বন্যা চলে গেলে বোরো ধানের ক্ষতি হওয়ার কোন আশঙ্কা নেই। গোয়াইনঘাট নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও তিনি জানান।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দমকা হাওয়া ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। শুকিয়ে যাওয়া গোয়াইন-পিয়াইন ও সারী নদীর বুকে বিচরণ করছে পাহাড়ি ঢল। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বোরো ধানে ক্ষতির আশংকা।

শেয়ার করুন