১২ মার্চ ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১৮ সালের ১২ মার্চ নেপালের কাঠমুন্ডুতে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ইউএস বাংলার বিমান দুর্ঘটনার চার বছরপূর্তি আজ। ভয়াবহ সেই বিমান দুর্ঘটনায় ৫১ জন যাত্রী ও ক্রু প্রাণ হারান। সেদিনের বিমান দূর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন সিলেট জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজের ১২ নেপালী শিক্ষার্থী। তাদের জন্য আজও অশ্রুজলে বুক ভাসান সহপাঠি ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সেদিনের বিমান দূর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীরা হলেন- সঞ্জয় পৌডেল, সঞ্জয়া মহারজন, নেগা মহারজন, অঞ্জলি শ্রেষ্ঠ, পূর্নিমা লোহানি, শ্রেতা থাপা, মিলি মহারজন, শর্মা শ্রেষ্ঠ, আলজিরা বারাল, চুরু বারাল, শামিরা বেনজারখার, আশ্রা শখিয়া ও প্রিঞ্চি ধনি। তারা ছিলেন এমবিবিএস পরীক্ষার ফলপ্রার্থী। কথা ছিলো ফল বের হওয়ার পর দেশে চলে যাবেন। তবে সে আশা আর পুরণ হয়নি তাদের। নিজ দেশের মাটিতে পৌঁঁছেই বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্যদের সাথে প্রাণ হারান এই ১২ শিক্ষার্থী। তাদের মর্মান্তিক মৃত্যুর দিনটিকে স্বরণ করে এখনো স্মৃতিকাতর হন সহপাঠিরা। শিক্ষকরাও তাদের মনে করেন।
বিমান দূর্ঘটনায় নিহতদের সহপাঠি ১৯তম ব্যাচের ডা. ফয়েজ আহমদ বলেন, তারা যখন এমবিবিএস পরীক্ষা ও ইন্টার্নশিপ শেষ করে দেশে ফিরছিলো, একে একে সবার কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছিলো তারা। সে দিন আমরা সহপাঠিরাও তাদের বিদায় দিতে উপস্থিত ছিলাম। কথা ছিলো তারা আবার ক্যাম্পাসে আসবে। কিন্তু নিয়তি তাদেরকে আমাদের কাছ থেকে অনেক দূরে নিয়ে গেছে। কখনো কল্পনাও করতে পারিনা তারা আর আসবে না।
জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবেদ হোসেন বলেন, সেদিনের শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশের না হলেও তারা ছিল আমার সন্তানের মতো। তারা শিক্ষার্থী হিসেবেও অনেক মেধাবী ও বিনয়ী ছিলো। একসঙ্গে এতোগুলো মুখ আড়াল হয়ে যাবে বিশ্বাস করতেও কষ্ট হয়। তাদের হাসিমাখা মুখগুলো কখনো ভুলতে পারবো না। তারা যেখানে থাকে, তারা যেন ভালো থাকে এই কামনা করি।