১৯ জুলাই ২০২২


পুঁজিবাজারে গুজব ছড়াচ্ছে কারা?

শেয়ার করুন

আজকের সিলেট ডেস্ক : একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে পুঁজিবাজারের অগ্রযাত্রাকে থামাতে নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে চক্রটি তাদের ফায়দা হাসিল করতে চাচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে কোনো বাধা না থাকলেও এ বিষয়টি নিয়ে সক্রিয়ভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে। যার ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এতে অধিকাংশ বিনিয়োগকারী প্যানিক সেল দিচ্ছে। যার বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পুঁজিবাজারের ওপর।

সোমবারের পুঁজিবাজারে বড় পতনের জন্য এই চক্রটির গুজব ছড়ানোকেই দায়ী করছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, একটি কুচক্রী মহল সক্রিয়ভাবে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে আসছে। তারা পুঁজিবাজারের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে নানাভাবে গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে।

পুঁজিবাজারে সরকারি কর্মকর্তাদের বিনিয়োগ নিয়ে নতুন করে আবার গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী হলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা যাবে না তা কিন্তু নয়। আমার জানা মতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আইনগত কোনো বাধা নেই।’

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিনিয়োগ নিয়ে সরকারি চাকরি ও শৃঙ্খলা বিধিমালায় (২০১৮) এ সংক্রান্ত কোনো বিধিনিষেধ উল্লেখ নেই। এমনই মত দিচ্ছেন সরকারের একাধিক সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা। সরকারি কর্মকর্তাদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বাধা আছে এমন গুজবে সূচকের পতনে ভয়াবহ আকার ধারণ করে সোমবার।

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) থেকেও বলা হচ্ছে, ‘বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিকই তার কর দেওয়া অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবেন। সুতরাং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও পারবেন। এ নিয়ে গুজব ছড়ানো কোনোভাবেই মানা যায় না।’

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেন, ‘পুঁজিবাজার সব সময় ওঠানামার মধ্যেই থাকে। তবে বর্তমানে বাজারকে নেতিবাচক ধারায় প্রভাবিত করতে বেশকিছু গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তাদের কাজই হচ্ছে পুঁজিবাজার নিয়ে গুজব ছড়ানো।’

বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটি কুচক্রী মহল পুঁজিবাজারের ভালো সহ্য করতে পারে না। বাজার ভালো হলে তাদের গা জ্বলে। তাই তারা বিভিন্ন সময় গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে বাজারের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে চায়।’

‘তবে আমরা সর্বদা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এসব চক্রকে চিহ্নিত করতে। তাদের চিহ্নিত করে উপর্যুপরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে’—যোগ করেন শফিকুর রহমান।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, তেলের দাম বৃদ্ধিসহ বেশকিছু অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যার প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারেও। এত সবকিছুর বাধা অতিক্রম করে যখনি পুঁজিবাজার একটু ইতিবাচক ধারায় চলতে শুরু করে তখনই আবার বেশকয়েকটা মহল নানা গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে ওঠেপড়ে লাগে পুঁজিবাজারের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে।

এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে; রিজার্ভ কমে গেছে; বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ; সরকারি কর্মকর্তারা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে না এমন গুজব ছড়ানোসহ ইত্যাদি আরো বেশকিছু বিষয় নিয়ে কয়েকটি গ্রুপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছে। দালালরা বিভিন্নভাবে গুজব ছড়ায় কম দরে শেয়ার কেনার জন্য।

এরপর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে নান নেতিবাচক কথা বলে প্রভাবিত করে প্যানিক সেল করিয়ে থাকে। যা শেয়ারবাজারের ওপর মারাত্মকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে থাকে।

যেসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে-

সরকারি কর্মকর্তারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে না
সম্প্রতি ছড়ানো গুজবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তাদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বিষয়টি। একটি কুচক্রী মহল নানা ভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বিষয়টি নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে। যেখানে সরকারি চাকরি ও শৃঙ্খলা বিধিমালায় (২০১৮) সরকারি কর্মকর্তাদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে কোনো বাধা না থাকার কথা বলা হচ্ছে সেখানে মহলটি সক্রিয়ভাবে গুজব ছড়ানো মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে আতঙ্ক তৈরি করছে।

বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে
শেয়ারবাজারকে নেতিবাচক ধারায় প্রভাবিত করতে প্রতিনিয়তেই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে এই কথা বলে। এতে বিনিয়োগকারীরা অনেক বিভ্রান্তিতে পড়ছে আর তাদের শেয়ার কম দরে বিক্রি করে দিচ্ছে। এতে বাজার কোনোভাবেই দাঁড়াতে পারছে না। যার নেতিবাচক প্রভাব দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

রিজার্ভ কমে গেছে
দেশের রিজার্ভ কমে গেছে তাই বাজার আবারো ধসের দিকে যাবে এমন কথা বলে সাধারণ বিনিয়োগকারীসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবার মনেই একটা বড় আতঙ্ক ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে বাজারের সূচক ঈদের পর থেকে পতনেই চলছে শেয়ার বাজার।

শেয়ার করুন