১ মার্চ ২০২২


পরিচিত কাউকে দেখলেই মুখ লুকাচ্ছেন মধ্যবিত্তরা

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে ক্রমশ লম্বা হচ্ছে টিসিবির লাইন। মধ্যবিত্তরাও এখন সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। টিসিবির লাইনে দাঁড়ানো ছাড়া উপায় নেই তাদেরও। তাই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভিড় বাড়ছে টিসিবির ট্রাকে। কিন্তু সেখানেও ডিলারদের খেয়ালখুশিমত ট্রাক আসা যাওয়া। তবে কর্তৃপক্ষ বলছেন, চাহিদা তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় আগে প্যাকেট করে নিয়ে আসলেই মজুদ পণ্য বিক্রিতে লাগে মাত্র দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় সাত-পাঁচ না ভেবে নিম্নবিত্তদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন মধ্যবিত্তরাও। অনেকে আবার কিছুটা দূরে অন্য এলাকায় গিয়ে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন পণ্য কিনতে। যাতে পরিচিত কেউ দেখে না ফেলে।

নগরীর মদিনা মার্কেট আখালিয়া এলাকার বিদ্যানিকেতন স্কুলের সামনে দেখা যায় দাঁড়িয়ে আছেন অন্তত দুই শতাধিক মানুষ। কিন্তু তখনো আসেনি টিসিবির ট্রাক। চলছে সারির সামনে আসার জন্য ধাক্কাধাক্কি। বয়সের ভার আর দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ক্লান্ত হয়ে অনেকে বসে পড়ছেন মাটিতে। তবুও যদি মিলে কাঙ্ক্ষিত পণ্য।

একজন সারি ঠিক করার জন্য চেষ্টা করছেন; এমন সময় এক যুবক সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় বলে উঠলেন, ‘অবা ভাই আফনে কইরা বুড়া সবরে আগে দিতা। বাজারো দাম কিতা জোয়ানরার কাছ থাকি কম রাখেনি। আগে নিজে খাইয়া বাঁচি। সবতাত আগুন লাগছে।’

টিসিবির পণ্য বিক্রির নির্ধারিত স্থানে ট্রাকের পেছনে মানুষের দীর্ঘ সারির দৃশ্য হর হামেশা দেখা গেলেও ট্রাক ছাড়াই এতো মানুষের দাঁড়িয়ে থাকা দেখে যে কারোরই অবাক হবার কথা।

রোদের মাঝে এতো মানুষ দাঁড়িয়ে থাকার কারণ জিজ্ঞাস করলে প্রিয়াঙ্কা রানী নামের ৫০ ঊর্ধ্ব এক নারী বলেন, ‘টিসিবির গাড়ি আসবে। তেল, ডাল কিনার জন্য দাঁড়িয়েছি।’

টিসিবির আঞ্চলিক পরিচালক ইসমাইল মজুমদার বলেন, প্রতিদিন তিনটি ট্রাকে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। নির্ধারিত ৯ টি মোড়ে এক একদিন এক জায়গায় থাকে ট্রাক। বৃহস্পতিবারের পয়েন্ট ছিলো আখালিয়া, রেজিস্ট্রারি মাঠ ও আবুল মাল আবুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সাধারণ আয়ের মানুষদের কিছুটা স্বস্তি দিতেই সরকার ভর্তুকি দিয়ে তেল, চিনি, ডাল ও পেঁয়াজ বিক্রি করছে। খাদ্য অধিদফতরের মাধ্যমে একইভাবে ভর্তুকি মূল্যে আটা ও চাল বিক্রি হচ্ছে। এই কর্মসূচি আগামী রমজানেও চালু থাকবে।

শেয়ার করুন