৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২


অবশেষে সেই দুই রিটার্নিং কর্মকর্তা বরখাস্ত

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : জকিগঞ্জে ভোট জালিয়াতি ও ব্যালট পেপারে সিল মারার অপরাধে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাদমান শাকিবকে অবশেষে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শুকুর মাহমুদ মিঞা সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিব মো. হুমায়ুন কবির খন্দকার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে বরখাস্ত করা হয়। একই অপরাধে বরখাস্ত হয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল হকও।

গত ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট জালিয়াতিতে হাতেনাতে সিলমারা ব্যালট পেপারসহ আটক হন জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাদমান শাকিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল হক। দুজন জকিগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন। নির্বাচন কর্মকর্তার ভোট জালিয়াতির খবর দেশজুড়ে আলোচিত হলেও তার বিরুদ্ধে সে সময় নেওয়া হয়নি বিভাগীয় ব্যবস্থা। এমনকি কোনো তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়নি। অবশ্য পুলিশের দায়ের করা মামলায় কারাগারে যেতে হয়েছিল সাদমান সাকিবকে।

জানা গেছে, নির্বাচনের দিন ভোট জালিয়াতির অভিযোগে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে হাতেনাতে আটকের পরও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘দয়ার নজর’ ছিল সাদমান সাকিবের প্রতি। মামলা থেকে তাকে ছাড়ানোর চেষ্টাও করেন অনেকে। অবশ্য রেহাই পাননি সাকিব। পুলিশের দায়ের করা মামলায় কারাগারে যেতে হয় তাকে। ভোট জালিয়াতি মামলায় নির্বাচন কর্মকর্তা অভিযুক্ত হলেও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়নি নির্বাচন কমিশন। এমনকি ঘটনার তদন্তও করা হয়নি। সম্প্রতি তিনি জকিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন পান।

জামিনে মুক্তির পর মুখ খুলেন অভিযুক্ত উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাদমান সাকিব। বিভিন্ন অনলাইনভিত্তিক টিভি ও গণমাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বক্তব্য দেন তিনি। এমনকি ভোট জালিয়াতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জানতেন বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে চাকরির কারণে সবকিছু খুলে বলতে পারছেন না।

এমনকি নিজের কিছু মানুষকে দিয়ে মানববন্ধন ও সাফাই গাওয়ানোর খবরও পাওয়া যায়। ফলে জামিনে বেরিয়ে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে নিজের ‘ইমেজ ক্লিন’ করার চেষ্টা করছিলেন তিনি।

এদিকে নির্বাচনে নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনায় উচ্চ আদালতে রিট করেছেন অ্যাডভোকেট দিদার আলমসহ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ বেশ কয়েকজন। রিটের ওপর শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সকালে বিচারপতি মামনুর রহমান ও খন্দকার দিলারুজ্জামান কর্তৃক গঠিত বেঞ্চ ওই দুই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা দেন।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট দিদার আলম বলেন, এ দুই কর্মকর্তা দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করেছেন। এত বড় অপকর্ম করেও তারা জকিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন পান।

অপর নির্বাচনী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা কৃষি অফিসার আরিফুল হককে বরখাস্তে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

শেয়ার করুন