২ আগস্ট ২০২২


জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ

শেয়ার করুন

আজকের সিলেট ডেস্ক : দেশের বাজারে ফের বাড়তে যাচ্ছে জ্বালানি তেলের দাম। চলতি সপ্তাহে যেকোনো দিন দাম বৃদ্ধির ঘোষণা আসতে পারে। ইতোমধ্যে তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। সমন্বয় করা না হলে বাংলাদেশ প্রেট্রলিয়াম করপোরেশন-বিপিসির লোকসান ঠেকানো কঠিন হবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বিশ্ববাজারে কমার মধ্যেই দেশে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। বিশ্ববাজারে দাম কমার পেছনে জুলাই মাসে চীন ও জাপানে কারখানায় উৎপাদন কম হওয়াকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে আরও কমবে কি না সেটি চলতি সপ্তাহে তেল রপ্তানিকারী দেশগুলোর সংগঠন ওপেক এবং অন্যান্য বড় তেল উৎপাদনকারী দেশের কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য বৈঠকের ওপর নির্ভর করছে। ওই বৈঠকে প্রধান আলোচ্য থিাকছে তেলের সরবরাহে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টি।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারে ডিজেল ও অকটেন বিক্রিতে দীর্ঘদিন ধরে লোকসান গুনতে হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)। দৈনিক ৯০ কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে সংস্থাটির। লোকসান ঠেকাতেই দেশের বাজারে দামে সমন্বয় করা হচ্ছে।

বিপিসির চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ বলেন, ‘জ্বালানি দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকার পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের এখন ডিজেল ও অকটেন বিক্রিতে দৈনিক প্রায় ৯০ কোটি টাকার মতো লোকসান দিতে হচ্ছে। ডিজেল ও অকটেন বিক্রিতে গত পাঁচ মাসে (ফেব্রুয়ারি-জুন) সাত হাজার কোটি টাকা লোকসান দিতে হয়েছে।’

বর্তমানে এক লিটার ডিজেল কিনতে সরকারের খরচ হচ্ছে প্রায় ১২৭ থেকে ১২৮ টাকা। তবে তা বিক্রি করতে হচ্ছে ৮০ টাকায়। ক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশ কমে বিক্রি করায় বাকি টাকা সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

এ বি এম আজাদ বলেন, ‘এভাবে লোকসান চলতে থাকলে বিপিসির উন্নয়ন প্রকল্পেও তার প্রভাব পড়বে। প্রকল্পের সংরক্ষিত অর্থে ভর্তুকি দিয়ে ডিজেল-অকটেন বিক্রি করা হচ্ছে। যা দিয়ে সর্বোচ্চ আগস্ট মাস পর্যন্ত চলা যাবে।’

জ্বালানি বিভাগের সূত্রে আরও জানা যায়, এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিকসহ অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে জ্বালানির দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিজেলে লোকসান বেশি বিধায় লিটার প্রতি দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়তে পারে। জ্বালানি তেল সাশ্রয়ের জন্য সরকার সম্প্রতি ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ রেখেছিল। এতে জ্বালানি সাশ্রয় তেমনভাবে না হওয়ায় আবার সেগুলো চালুর পরিকল্পনা করছে।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রুড তেল আমদানিকারক দেশ চীনে গত জুনে উৎপাদনের গতি বেড়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে নতুন করে লকডাউন ঘোষণা করায় জুলাইয়ে প্রত্যাশিত উৎপাদন হয়নি। কেইক্সিং/মার্কিটের ম্যানুফ্যাকচারিং ম্যানেজারস ইনডেক্সে (পিএমআই) গত জুনে চীনের পয়েন্ট ছিল ৫১ দশমিক ৭। গত ১৩ মাসের মধ্যে জুনে উৎপাদন ছিল সবচেয়ে বেশি। কিন্তু জুলাইয়ে এ সূচকে চীনের পয়েন্ট ছিল ৫০ দশমিক ৪, যেটা ছিল প্রত্যাশিত পয়েন্টের চেয়েও অনেক কম।

এদিকে সোমবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১ দশমিক ১৯ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে হয়েছে ১০২ দশমিক ৭৮ ডলার। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দর প্রতি ব্যারেল এখন ৯৭ দশমিক ১৯ ডলার। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪৩ ডলার বা দেড় শতাংশ কমেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার ফলে বাংলাদেশে তেলের দাম কমবে কি না জানতে চাইলে জবাবে এবিএম আজাদ বলেন, ‘দেশের বাজারে দাম কমবে কি না তা এখনি বলা যাচ্ছে না। এখানে ইমপোর্টেড মেকানিজম, অন্যান্য হিসাব নিকাশ কাজ করছে। তবে জ্বালানি খাতে যে বাংলাদশের সাত হাজার কোটি টাকার লোকসান হয়েছে, সে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠাই এখন মূল টার্গেট।’

শেয়ার করুন