৯ জানুয়ারি ২০২২
চাল নিয়ে ‘চালবাজি’ হচ্ছে বাজারে। অর্থাৎ চাল ব্যবসায়িদের নানান প্রতারণার শিকার ভোক্তা সাধারণ। আর এই প্রতারণার অন্যতম হচ্ছে, ভূয়া পরিচয়ে চাল বিক্রি করা। যেমন-বাজারে ‘মিনিকেট’ ও ‘নাজিরশাইল’ নামে যে চাল বিক্রি হচ্ছে সেটা চালের সঠিক পরিচয় নয়। খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের দেশে মিনিকেট ও নাজিরশাইল নামে কোন ধানের অস্তিত্ব নেই। বাজারে ২৮ ও ২৯ জাতের ধানের চালকে মিনিকেট হিসেবে বিক্রি করা হয়। এর কারণ হচ্ছে, প্যাকেটজাত করে নতুন নাম দিয়ে চাল বাজারে বিক্রি করা যায় অধিক মূল্যে।
খাদ্যমন্ত্রী সম্প্রতি রাজধানীতে সাংবাদিক সম্মেলনে এইসব তথ্য দেন। সম্মেলনে বলা হয়, ব্যবসায়িরা যে কোন ব্র্যান্ডের নামে চাল বিক্রি করতে পারবেন। তবে কোন জাতের চাল এই নামে বিক্রি করা হচ্ছে তা প্যাকেটের গায়ে লিখতে হবে। এই ধরনের নীতিমালা করতে যাচ্ছে খাদ্যমন্ত্রণালয়। সাংবাদিক সম্মেলনে আরও বলা হয়, চাল কেটে সরু করা যায় না; পলিশ করে চকচকে করা যায়। চকচকে চালের প্রতি মানুষের আকর্ষণ রয়েছে বলেই ব্যবসায়িরা যে কোন চালকে চকচকে করার উদ্যোগ নেয়। সত্যি বলতে কি, শুধু চাল নয় আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্যের বাজারেই চলছে নানান কারসাজি। অধিক মুনাফা আর ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নানা কৌশল অবলম্বন করে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ি ও সরবরাহকারিরা। এতে তারা ক্রেতাস্বার্থ কিংবা জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামায়না। তাদের স্বার্থে প্রয়োজনে খাদ্যপণ্যে নানা ধরনের ভেজাল ও মিশ্রণ করতে কুন্ঠাবোধ করে না। ‘মিনিকেট’ ও ‘নাজিরশাইল’ চালও সেই ধরনের কারসাজির ফল। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হচ্ছে, এই সব নামে দীর্ঘদিন ধরে বাজারে চাল বিক্রি হচ্ছে। অথচ কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করছে। আসলে সরকারি গবেষণায়ই বলা হয়েছে মিনিকেট বলে কোন ধান নেই। কারণ চাল কেটে সরু করা যায় না। কোন কোন এলাকায় সরু চাল উৎপাদিত হয়। তবে তাকে ‘মিনিকেট’ বলে ডাকা হয় না।
চাল নিয়ে এই যে কারসাজি চলছে, তার অবসান দরকার। উৎপাদন থেকে বিপনন পর্যন্ত সব জায়গায়ই শৃঙ্খলা নিয়ে আসতে হবে। এখানে একটা বিষয় অত্যন্ত জরুরি যে, ব্যবসায়িক স্বার্থে চালকে একাধিকবার ছাঁট দিয়ে ঝকঝকে চকচকে করা হয় এতে চালের পুষ্টিগুণ বিনষ্ট হয়। তাছাড়া, আমাদের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত ব্রি-২৮ ও ২৯ জাতের চাল বাজারে বিক্রি হচ্ছে অন্য নামে। এটা রীতিমতো অপরাধ। এই ব্যাপারগুলো মাথায় নিয়েই পরিকল্পনা নিতে হবে সরকারকে।