২ জানুয়ারি ২০২২
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়াইয়ে ভোটের মাঠে নেমেছেন দুই ভাই। ছোট ভাই মো. সুলেমান মিয়া নৌকা প্রতীক ও বড় ভাই বিএনপি ঘরানার মো. আব্দুল হান্নান আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মো. সুলেমান মিয়া কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান। বড় ভাই মো. আব্দুল হান্নান উপজেলা বিএনপির সাবেক নেতা ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান।
এর আগে ২০১১ সালের ইউপি নির্বাচনে তারা উভয়েই প্রার্থী হয়েছিলেন। যদিও ওই নির্বাচনে বড় ভাইকে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ছোট ভাই মো. সুলেমান মিয়া। এরপর ২০১৬ সালের নির্বাচনে ছোট ভাইকে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বড় ভাই মো. আব্দুল হান্নান।
ইসলামপুর ইউনিয়নের ভোটার শরিফ উদ্দিন ও সাদিক আলী বলেন, একই পরিবার থেকে দুই ভাই চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় আমরা দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে গেছি। এর আগেও তারা একসঙ্গে একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবার আবারও দুই ভাই নির্বাচন করছেন। তাদের নিয়ে আমাদের মধ্যেও এক প্রকারের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ভোট দেওয়ার সময় সিদ্ধান্ত নেবো।
চা-শ্রমিক মহেশ গোয়ালা বলেন, তারা দুজনই ভালো মানুষ। তাদের প্রচুর সুনাম আছে। তাদের এই পরিবার ছাড়া এখনো কোনো লোক দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান পদে এসেও সফল হতে পারছেন না। কিন্তু দুই ভাইয়ের একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটা অনেকেই ভালোভাবে নিচ্ছেন না।
একই পদে আপন দুই ভাই প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে ছোট ভাই মো. সুলেমান মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, আমরা একই পরিবারের। তবে ভোটের লড়াইয়ে দুই ভাইয়ের পরিচয় ভিন্ন। আমি আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী আর বড় ভাই মো. আব্দুল হান্নান বিএনপি ঘরানার স্বতন্ত্র প্রার্থী।
মো. আব্দুল হান্নান বলেন, আমি বর্তমান চেয়ারম্যান। জনপ্রতিনিধি হিসেবেও সফল। মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক নিবিড়। সুতরাং মানুষের চাওয়ার মূল্যায়ন করতে গিয়ে ভাই পরিচয়ের চেয়ে জনগণ বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। এজন্য আমাকে প্রার্থী হতে হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার বলেন, এবারের নির্বাচনে ইসলামপুর ইউনিয়নে মোট তিনজন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ইউনিয়নে মোট ভোট ২০ হাজার ৫২৬।
উল্রেখ্য, পঞ্চম ধাপে আগামী ৫ জানুয়ারি কমলগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩৩ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১০৬ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩২৭ জনসহ মোট ৪৬৬ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন।