২৫ ডিসেম্বর ২০২১


গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে আ,লীগের ‘গলার কাটা’ বিদ্রোহীরা

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : এবার ইউপি নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। তবে তাদের অনেক প্রার্থী স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে ভোটের মাঠে রয়েছেন। সিলেটে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি একাধিক ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আছে নৌকার ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী।নির্বাচন সুষ্টুভাবে সম্পন্ন করতে দুই উপজেলায় ৬জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য এদিন দায়িত্ব পালন করবেন। রবিবার অনুষ্টিতব্য চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার ২০টি ইউপিতেই ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন নির্বাচনে সিলেটে ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন স্বতন্ত্র ব্যানারে প্রার্থী হওয়া বিএনপি নেতারা।

ইউপি নির্বাচনের শুরু থেকেই ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনে নেই বিএনপি। ফলে দলীয় প্রার্থিতা কিংবা দলীয় প্রতীক ধানের শীষের মার্কাও নেই। কিন্তু মার্কা না থাকলেও মাঠে সরব রয়েছেন বিএনপি নেতারা। স্বতন্ত্র ব্যানারে প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিগত কয়েক ধাপের নির্বাচনে সিলেটে বিএনপি ও অন্যান্য শরিক দলের নেতারা ভোটের মাঠে চমক দেখিয়েছেন। এ কারণেই চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যা বেড়েছে।

এবার সিলেট জেলার সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রায় সব ক’টিতেই ভোটযুদ্ধে নেমেছেন বিএনপি নেতারা। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে- গোলাপগঞ্জ সদর, বাঘা, ফুলবাড়ী, লক্ষীপাশা, ঢাকা দক্ষিণ, লক্ষণাবন্দ, ভাদেশ্বর, পশ্চিম আমুড়া, উত্তর বাদেপাশা, শরীফগঞ্জ ইউনিয়ন। এছাড়া বিয়ানীবাজার উপজেলার ১০টির মধ্যে রয়েছে আলীনগর, চারখাই, দুবাগ, শেওলা, কুড়ারবাজার, মাতিউরা, তিলপাড়া, মুল্লাপুর, মুড়িয়া, লাউতা ইউনিয়নে নির্বাচন হবে। ২০টি ইউনিয়ন পরিষদ কোনো কোনো ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থীও রয়েছেন। এ কারণে চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন নির্বাচনে সিলেটে ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন স্বতন্ত্র ব্যানারে প্রার্থী হওয়া বিএনপি নেতারা।

অপর দিকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের পিছু ছাড়ছেন না বিদ্রোহীরা। এ কারণে ভোট ভাগাভাগিতে জয় ঘরে তুলতে বিএনপির নেতারা ভোটের মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে ভোটের মাঠে প্রচারণায় গতি বাড়িয়েছে আওয়ামী লীগ। জেলা-উপজেলার নেতারা প্রতিদিনই ছুটে বেরিয়েছেন এক ইউনিয়ন থেকে আরেক ইউনিয়নে। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকার কারণে সিলেটের ভোট নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রশ্ন উঠেনি।

এ দুই উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন “স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের চেয়ে আঞ্চলিকতা বেশি কাজ করে। দলের মনোনীত প্রার্থী ছাড়াও একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকে। দলীয় অনেক প্রার্থীর ব্যক্তি ইমেজ তুলনামূলকভাবে ভালো না থাকে না।”

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে থাকার ফলে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অনেকটা অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করছে। ভোটাররাও বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। প্রতিটি ইউপিতে ভোটের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখবেন বিএনপি সমর্থক ভোটাররা এমনটি মনে করছেন আওয়ামী লীগ সমর্থকরা।

এ দিকে ভোটের মাঠে বিএনপি নেতারা প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি দলীয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার। তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে নেই এটি সবাই জানেন। কেউ যদি এলাকাভিত্তিক সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হয় সেটি তার ব্যাপার। আবার অনেকেই বর্তমান চেয়ারম্যান থাকায় প্রার্থী হয়েছেন। তারা ধানের শীষ প্রতীক নয়, স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তাদের সাথে দলের পদবিধারীরাও নেই। ফলে যারা প্রার্থী হয়েছেন সেটি একান্ত তাদের সিদ্ধান্ত। এতে বিএনপির সম্পৃক্ততা কিংবা অংশগ্রহণ কোনোটাই নেই।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশিক নূর (ইউএনও) জানান, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে সবধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সুষ্টু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে তিনি সকল মহলের সহযোগীতা কামনা করেন।

শেয়ার করুন