২১ ডিসেম্বর ২০২১
ওসমানীনগর প্রতিনিধি : একমাস অতিবাহিত হলেও বাড়ি ফিরেননি সিলেটের চার যুবক। ১৫ নভেম্বর তাবলিগের নাম করে বাড়ি থেকে বের হন এই চার জন। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাদের ব্যক্তিগত সেলফোনও বন্ধ রয়েছে। সম্ভ্যাব্য সকল স্থানে খোঁজ নিলেও তাদের ব্যাপারে কোনো তথ্য পাননি পরিবারের লোকজন।
ফলে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার সাথে যোগ হয়েছে রহস্যও। ওই চার যুবক হলেন সিরাজ মিয়ার ছেলে সাদিকুর রহমান সাদিক, ছোরাব আলীর ছেলে হাসান সাঈদ, মানিক মিয়ার ছেলে তুহিন মিয়া ও সামছুল হক স্বপনের ছেলে শেখ আহমেদ মামুন।
তাদের প্রত্যেকের বাড়ি ওসমানীনগর উপজেলাধীন ৭ নম্বর দয়ামীর ইউনিয়নের দয়ামীর গ্রামে। নিখোঁজদের মধ্যে দু’জন মাদরাসার ছাত্র, একজন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এবং অপরজন দারোয়ানের কাজ করতেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন নিখোঁজ ৪ যুবক বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় এক সঙ্গে চলাফেরা করতেন। এর আগে ৪ জন একসাথে ইসলামের বিভিন্ন দ্বাওয়াতি কার্যক্রমে অংশ নিতেন। বিভিন্ন সময়ে ওই চার যুবককে ইসলামী বিভিন্ন প্রচারপত্রও বিলি করতে দেখা গেছে।
একই গ্রামের সুজন আহমদ বলেন, ‘ধারণা করছি-এদের পিছনে কোনো জঙ্গীগোষ্ঠীর মদদ থাকতে পারে। না হলে হঠাৎ করেই তাদের ৪ জন একসাথে নিখোঁজ হতে পারেন না এবং নিখোঁজের একমাস অতিবাহিত হলেও একসাথে ৪ জনের মোবাইল ফোনও বন্ধ থাকতে পারে না।’
তাছাড়া ঘটনার ১২ দিন পর ২৭ নভেম্বর পরিবারের পক্ষ থেকে ওসমানীনগর থানায় ডায়েরি করার বিষয়টিকেও তিনি সন্দেহজনক বলে মনে করছেন। তাদের খোঁজ না পেয়ে ২৭ নভেম্বর ওসমানীনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
নিখোঁজ হওয়া যুবক হাসান সাঈদের বাবা ছোরাব আলী বলেন, বছর তিনেক আগে ঢাকার একটি মাদ্রাসা থেকে টাইটেল পাস করে এরপর থেকে এলাকায় অবস্থান করছিল সাঈদ। ৫ মাস আগে তাকে বিয়ে করাই। বেরিয়ে যাওয়ার দিন সে বলেছে- বিদেশি তবলিগ জামাতের সঙ্গে যোগ দেবে। এরপর থেকে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে তার খোঁজ-খবর নিতে গেলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
শেখ আহমেদ মামুনের বাবা সামছুল হক স্বপন বলেন, সে (মামুন) বাজারে যাচ্ছে বলে বের হয়। পরবর্তীতে তার মুঠোফোনে কল দিলে সেটি বন্ধ দেখায়। এখনও মোবাইল ফোনটি বন্ধ আছে। সে লিডিং ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র।
মানিক মিয়ার ছেলে তুহিন মিয়া তবলিগের কথা বলে ঘর থেকে বের হয়ে গেছেন। তার ব্যক্তিগত কোনো মুঠোফোন নেই। তিনি এলাকায় থাকাকালীন সময়ে দারোয়ানের কাজ করতেন।
সিরাজ মিয়ার ছেলে সাদিকুর রহমানও তবলিগে যাওয়ার কথা বলে গেছেন। তিনি মাদরাসায় লেখাপড়া শেষ করে বছর তিনেক আগে বিয়ে করেন এবং এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
ওসমানীনগর থানার ওসি এসএম মাইন উদ্দিন বলেন, ‘তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছে। আমরা তাদেরকে খুঁজে বের করার জন্য বিভিন্ন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও এ ব্যাপারে তৎপর আছে।’