১৭ ডিসেম্বর ২০২১


দ্বন্দ্ব শুধুই চেম্বার নিয়ে

শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক : দু’জনই আওয়ামী লীগ নেতা। সিলেটের ব্যবসায়ীদের নেতাও। গত টার্মেও তারা দু’জন সিলেট চেম্বারে পরিচালক হয়ে ব্যবসায়ীদের সেবা করেছেন। এখন দু’জন একে-অপরের শত্রু। টেবিল চাপড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে চলে এসেছিলেন একজন। অপরজনকে সভাপতি ঘোষণা করে নির্বাচন বোর্ড। এরপর থেকে দু’জনের নেতৃত্বে দু’দিকে চলছে একে-অপরের মোকাবিলার প্রস্তুতি। এমন সময় হাসিমাখা মুখে দু’জন ধরা পড়লেন ক্যামেরার ক্লিকে।

বাঁধভাঙা এ হাসিতে কী গলছে বরফ- এমন প্রশ্ন এখন সবার। একজন হলেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি প্রার্থী আব্দুর রহমান জামিল ও অপরজন হলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য ও চেম্বারের নির্বাচন বোর্ড ঘোষিত সভাপতি তাহমিন আহমদ তাক্কু।

সিলেটের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন সিলেট চেম্বার অব কমার্সের পরিচালনা পর্ষদ গঠন নিয়ে তারা দু’জন এখন মুখোমুখি। এ নিয়ে সিলেটের ব্যবসায়ী সমাজও দু’ধারায় বিভক্ত। চেম্বার রাজনীতির আড়ালেও সক্রিয় হয়েছে সিলেটের রাজনীতি। অনেক মহলই এতে নাক গলাচ্ছেন। আর যতই দিন যাচ্ছে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। গত শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে চেম্বার নির্বাচন। এ নির্বাচনে এবার তাহমিন আহমদের নেতৃত্বে থাকা সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের ব্যানারে ১১ জন পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। একইসঙ্গে আব্দুর রহমান জামিলের নেতৃত্বে সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের ব্যানারেও ১১ জন পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। ফলাফল সমান হওয়ার কারণে কোনো পক্ষই পরিচালনা বোর্ড গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

ফলে বিষয়টি গড়িয়েছিল সমঝোতায়। চেম্বারের সাবেক কয়েকজন নেতাকে নিয়ে আলোচনা হলেও সমঝোতা হয়নি। শেষ পর্যন্ত পরিচালনা বোর্ড গঠন করতে একদিকে তাহমিন আহমদ ও অন্যদিকে আব্দুর রহমান জামিল সভাপতি পদে প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

চেম্বারের সংঘবিধির একটি ধারা দেখিয়ে তাহমিন আহমদ নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুর জব্বার জলিলকে অবহিত করলে নির্বাচন বোর্ড গত সোমবার বিকালে সভাপতি প্রার্থী আব্দুর রহমান জামিল ও সহ-সভাপতি প্রার্থী হুমায়ূন আহমদের মনোনয়ন বাতিল করেন।

পরে নির্বাচন বোর্ড তাহমিন আহমদকে সভাপতি ঘোষণা করেন। এরপর টেবিল চাপড়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আব্দুর রহমান জামিলের নেতৃত্বে থাকা সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের ১১ পরিচালক নির্বাচন বয়কট করে চলে আসেন। এ নিয়ে রাতে চেম্বার ভবনের আশপাশকে ঘিরে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের মহড়া পাল্টা মহড়া হওয়ার কারণে পুলিশ মোতায়েনে বাধ্য হয়েছিল প্রশাসন।

পরদিন মঙ্গলবার চেম্বারের সংঘবিধির আইন অনুযায়ী আব্দুর রহমান জামিল ও হুমায়ূন আহমদ আপিল করলেও সেটি খারিজ করা হয়। সংঘবিধি অনুযায়ী এখন চেম্বারের সভাপতি মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা তাহমিন আহমদ। তার সঙ্গে সিনিয়র সহ-সভাপতি হয়েছেন ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ ও সহ-সভাপতি আতিক হোসেন।

বুধবার বৈঠক করে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের পরিচালকরা জানিয়েছেন- তারা আইনি লড়াই করবেন এবং সিলেটের সব ব্যবসায়ীদের নিয়ে চেম্বারের এই নির্বাচনী কার্যক্রম বয়কট করবেন। এ অবস্থায় ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করায় গত বুধবার বিকালে সিলেট চেম্বার মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে কেঁদেছেন নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার জলিল। চেম্বার নিয়ে যখন দু’পক্ষ মুখোমুখি তখন দুই অংশের দুই নেতাকে বিজয়ের দিনে দেখা গেলো একসঙ্গে, হাসিখুশি পরিবেশে।

মহান বিজয় দিবসের দিন সকালে নগরীর শহীদ সোলেমান হলে মহানগর আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা হয়। এতে উপস্থিত হন চেম্বারের দুই নেতা আব্দুর রহমান জামিল ও তাহমিন আহমদ। সঙ্গে ছিলেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চেম্বার পরিচালক দেবাংশু দাশ মিঠু। আলোচনা সভা শেষে মুসলিম সাহিত্য সংসদের সামনেই দেখা হলো তাহমিন ও জামিলের। এ সময় দু’জনকে হাসিখুশি দেখাচ্ছিল। একজন অন্যজনকে দেখে এগিয়ে যান। হাতও মেলান। হাসিখুশি অবস্থায় কথা বলেন। এমন সময় সেখানে ছিলেন মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা রাহাত তরফদার। এ দৃশ্য দেখে তিনি ছবি তোলেন। এ সময় সেখানে আসেন চেম্বারের আরেক পরিচালক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা দেবাংশু দাশ মিঠু। তারা ৪ জন একসঙ্গে ছবি তোলেন। সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে কথাও বলেন।

আওয়ামী লীগ নেতা রাহাত তরফদার জানিয়েছেন, তারা দু’জন চেম্বারে মুখোমুখি থাকলেও দু’জনের মধ্যে আন্তরিকতা বহাল রয়েছে। গতকাল দেখা হওয়ার পর দু’জন একে অপরের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তারা হাসিখুশি ছিলেন। পরে দেবাংশু মিঠু এসে সেখানে শরীক হন। তিনিও আন্তরিকতার সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি জানান, কিছু সময় কথা বলার পর তারা দু’জন যে যার মতো চলে যান।

শেয়ার করুন