২৫ মার্চ ২০২১
নিজস্ব প্রতিবেদক : লোকবল সংকটে ধুঁকছ সিলেট ভোক্তা অধিদফতর। মূলত ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণে কাজ করে এই সংস্থাটি। অথচ এখন তারা নিজেই অসহায়।
তাদের এই অসহায়ত্বের কথা শিকার করেছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, সিলেটের সহকারী পরিচালক আমিরুল মাসুদ বলেন, পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় বাজার মনিটরিংয়ে আমরা অনেকটা অসহায়। তবুও আমাদের কার্যক্রম থেমে নেই।
এদিকে তদারকির অভাবে সিলেটে শাক, সবজি, ফলমূলের দোকান থেকে শুরু করে নামীদামী ব্র্যান্ডের সুপার শপ, সবখানেই ভেজাল পণ্যে সয়লাব। আছে অতিরিক্ত দাম রাখার অভিযোগ। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রির তো আছেই। আর এসব পণ্য ব্যবহার কিংবা ভোগ করে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বাদ যাচ্ছে না শিশুখাদ্য থেকে রোগীর খাবারও। এতে ভোক্তারা শুধু ঠকছেই না, ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্যেও।
তবে এতোসব সংকটের মাঝেও আশার আলো দেখাচ্ছে সিলেট ভোক্তা অধিকার অধিদফতর। গেল বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ৭৫২টি তদারকি অভিযান পরিচালনা করেছে সংস্থাটি। এসব অভিযানে ১ হাজার ৬১৩টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্নভাবে শাস্তি দেয়া হয়েছে। তাছাড়া অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে ১৭৭টি। এর মধ্যে ১৯টি প্রমাণিত হয়েছে। কয়েকটি খারিজ ও কয়েকটি প্রমাণিত হয়নি। অপরদিকে ভোক্তা অধিকারের সিলেট মেট্রোর পক্ষ থেকে এই সময়ে ১৬৪টি অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে ৩২৪টির মত প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।
সিলেট নগরীর বিভিন্ন সুপার শপ ও মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, বিএসটিআইয়ের তালিকার বাইরে আরও অসংখ্য প্রক্রিয়াজাতকৃত ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য কোনও ধরনের মান যাচাই ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে। বিএসটিআইয়ের সিল ছাড়াও পণ্য রয়েছে। আবার বিএসটিআইয়ের আওতাভুক্ত অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিএসটিআইয়ের মান যাচাই ছাড়াই বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সিলেটের সভাপতি জামিল চৌধুরী বলেন, বিএসটিআই সনদ দেয়ার পর এখতিয়ারভুক্ত পণ্যগুলোর যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে কি-না সে বিষয়েও তদারকি করে না। ফলে সাধারণ মানুষ মানহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও দূষিত খাবার খাচ্ছে।
তিনি বলেন, পণ্যের মান সঠিকভাবে প্রণয়ন ও অভিযান অব্যাহত রাখতে বিএসটিআইয়ের পাশাপাশি ভোক্তা অধিদফতরকে আরও উদ্যোগী হতে হবে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, সিলেটের সহকারী পরিচালক আমিরুল মাসুদ জানান, ‘বাজার মনিটরিংয়ে আমরা অনেকটা অসহায়। পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় মাত্র দুইটি টিম দিয়ে পুরো জেলা নিয়ন্ত্রণ করা কোনোভাবেই সম্ভব না। একটি জেলায় কমপক্ষে ১০টি টিম কাজ করা উচিৎ থাকলেও সেখানে কাজ করছে মাত্র দুইটি টিম।
তিনি বলেন, একটি জেলার জন্য কমপক্ষে একজন উপ-পরিচালক ও ৩ জন সহকারী পরিচালক, একজন পিয়ন, একজন অফিস সহকারী ও নিরাপত্তারক্ষীসহ কম পক্ষে ৭ জন মানুষের প্রয়োজন হলেও এখন আমি ও আমার অফিস সহকারী মিলে মাত্র ২ জন।
আমিরুল মাসুদ বলেন, আমাদের যাতায়াতের জন্য কোনও যানবাহন নেই। খাদ্যের বা পণ্যের মান পরীক্ষার জন্য নেই কোনও ল্যাব, সরঞ্জামাদি। এসব নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার আবেদন করলেও কোনও কাজ হয়নি।