৯ ডিসেম্বর ২০২১


লন্ডনে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস উদযাপন

শেয়ার করুন

লন্ডন, ৭ ডিসেম্বর ২০২১

বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০বছর পূর্তি ও মৈত্রী দিবস উদযাপনে যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন ও ভরতীয় হাই কমিশন গতকাল সোমবার যৌথভাবেএক বিশেষ অভ্যর্থনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে একটিস্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি প্রদান করে। ২০২১ সালের মার্চমাসে বাংলাদেশে এক রাষ্ট্রীয়  সফরের সময় ভারতেরপ্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এক প্রস্তাবে এই বিশেষ দিনটিকে প্রতিবছর যৌথভাবে ভারত–বাংলাদেশ মৈত্রী দিবস হিসেবেউদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ উপলক্ষে সোমবার আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানেসম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীও যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিব পার্টির কো–চেয়ার ওলিভারডাউডেন। বক্তব্য রাখেন লর্ড সরাজ পল, লর্ড গাঢিয়া, লর্ড ডীনগডসন ও লর্ড কারেন বিলিমোরিয়া।

বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম তাঁরবক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ৭১–এরমহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেনএবং মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ভারতের ঐতিহাসিক সমর্থনের কথাবিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশেরসুগভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে দুদেশের মাটি ও মানুষেরসম্পর্ক। দুদেশের মধ্যে যেমন অভিন্ন চুয়ান্নটি নদী প্রবাহমান, তেমনি অভিন্ন ধারায় প্রবাহমান উভয় দেশের মানুষেরপারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আবেগ।

হাই কমিশনার বলেন, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবংভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী যে শান্তি, অহিংসা ওমানবতার মহান আদর্শে দুদেশের মানুষকে উজ্জীবিত করে গেছেনতা বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আগামীদিনগুলোও আরো সুগভীর করবে ও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীরশ্রদ্ধা নিবেদন করে ভারতের হাই কমিশনার গায়ত্রি ইসার কুমারবলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সহযোগিতাকরার জন্য ভারতের সরকার ও জনগণ গর্বিত । তিনি তাঁরবক্তব্যে উভয় দেশের মধ্যে বিরাজমান বহুমাত্রিক ও গভীরসম্পর্কের কথা তুলে ধরে তা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহতথাকবে বলে উল্লেখ করেন।

অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলো উপমহাদেশেরপ্রখ্যাত সংগীত শিল্পী রুনা লায়লার দেশাত্ববোধক সংগীতপরিবেশনা, যা উপস্থিত সবাইকে বিমুগ্ধ করে। এছাড়া ব্রিটিশ–বাংলাদেশি ও ব্রিটিশ–ভারতীয় শিল্পীরা দেশাত্ববোধক গান ও নাচপরিবেশন করেন। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ওপর একটিতথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরাএকাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একমিনিট নীরবতা পালন করেন।

শেয়ার করুন