১১ ডিসেম্বর ২০২২


জ্বালানির দাম বাড়লেও ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না বিপিসি

শেয়ার করুন

আজকের সিলেট ডেস্ক : ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ড ভাঙা জ্বালানির দাম প্রভাব ফেলেছে দেশের বাজারেও। ভর্তুকি কমাতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ও করা হয়েছে। তবে এরপরও লোকসান গুনছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরশন (বিপিসি)। প্রতিদিন প্রায় ৮ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে সংস্থাটি। অর্থাৎ প্রতি মাসে প্রায় ২৪০ কোটি টাকা।

বিপিসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার সুবিধাটি ডলারের বিপরিতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতি ডলারে ১০ থেকে ১২ টাকার যে অবমূল্যায়ণ হয়েছে, এতে বিপিসির ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। এটিই বিপিসির লোকসানের মূল কারণ।

বিপিসির চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ বলেন, ‘বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় না করায় প্রায় এক বছর পর্যন্ত বিপিসির নিজস্ব তহবিলের টাকায় ভর্তুকি দিয়ে তেল বিক্রি করা হয়। এতে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা টাকা থেকে ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে ডলারের বিপরিতে টাকার অবমূল্যায়ণের কারণে তেল আমদানিতে খরচ বেশি পড়ছে। এই কারণে বিপিসি এখনো লোকসানের মধ্যেই আছে। তবে জ্বালানি তেলের দাম কমায় বিপিসির লোকসানের মাত্রা কিছুটা কমে এসেছে, কিন্তু আমরা এখনো লোকসানমুক্ত হতে পারিনি।’

এ বি এম আজাদ বলেন, ‘এখন প্রতি লিটার ডিজেলে আমাদের লোকসান হচ্ছে ৪ থেকে ৫ টাকা। যা গত দেড়-দুই মাস আগেও লিটারে ৮ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত লোকসান ছিল। এখন বিপিসির দৈনিক লোকসান হচ্ছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। তবে ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন বিক্রিতে লোকসান নেই। গত আগস্ট মাসে ডিজেলের দাম বাড়ানোর পর থেকে ডিজেল বিক্রিতে এখনো লোকসান দিতে হচ্ছে।’

এদিকে বিশ্ববাজারে দাম কমার কারণে দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম কমানো দাবি উঠেছে। তবে এই অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম কমানো হলে বিপিসির লোকসান আরো বেড়ে যাবে। লোকসানে থাকলে বিপিসি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।

জ্বালানি বিভাগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লোকসানে থাকা বিপিসিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে সামনে জ্বালানি বাজার আবার অস্থির হয়ে উঠলে বিপিসির পক্ষে তখন সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা ৭০ থেকে ৭২ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ডিজেলের চাহিদা ৪৮-৪৯ লাখ মেট্রিক টন। এখন দৈনিক গড়ে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেট্রিক টন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ‘বিপিসি ডিজেলে এখনো কিছুটা লোকসান দিচ্ছে। তাই এই মুহূর্তে দাম কমানোর যোক্তিকতা নেই। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে যে পরিমাণ পরিবহন ভাড়া বেড়েছে, এখন দাম কিছুটা কমানো হলেও পরিবহন ভাড়া কমবে না। এতে মানুষ কোনো সুবিধা পাবে না।’

তিনি বলেন, ‘দাম কমানোর চেয়ে ভালো হচ্ছে সরকার আয় করুক। পরবর্তীতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে ভর্তুকি হিসেবে দিতে পারে। এই টাকা অন্য খাতে যেন ব্যবহার করা না হয় সেটিও মাথায় রাখতে হবে। তবে সরকার চাইলে অকটেন ও পেট্রোলে দাম কমাতে পারে।’

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে লোকসান হয় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। আর চলতি বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি হতে থাকলে ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে।

জ্বালানি তেলের মূল্য পরিশোধ করার জন্য বিপিসিকে দুই মাসের জ্বালানি তেলের মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ (২৫ শতাংশ বৃদ্ধিসহ) চলতি মূলধন হিসেবে রাখতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বাড়লে বিপিসির মূলধনও বাড়াতে হয়।

২০২০-২১ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল তুলনামূলক সহনশীল থাকায় ওই সময় বিপিসির ১২ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধন রাখা হত। এখন রাখা হচ্ছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

শেয়ার করুন