২৮ নভেম্বর ২০২১


কবুতর খামার ঘুচাচ্ছে বেকারত্বের অভিশাপ

শেয়ার করুন

শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : শখের বশে কবুতর পালন শুরু করলেও বর্তমানে তা বাণিজ্যিকভাবে লালন-পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন শায়েস্তাগঞ্জের অনেক যুবক। বাড়ির আঙিনা বা বাসার ছাদে এই কবুতর পালন করা হচ্ছে। এতে আয় যেমন বাড়ছে তেমনি বেকারত্ব ঘুচাচ্ছে যুবকদের। এমন বাস্তবতায় বাণিজ্যিকভাবে লালন-পালনে উৎসাহী হয়ে ওঠছেন স্থানীয় যুবকরা।

জানা গেছে, তুলনামূলকভাবে অন্যান্য পোষা প্রাণীর চেয়ে কবুতর পালনে তেমন বেগ পোহাতে হয় না। কবুতরের মাংস পুষ্টিকর ও সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। আর এই চাহিদাকে পুঁজি করে শায়েস্তাগঞ্জ শহরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে গড়ে ওঠেছে অন্তত অর্ধশতাধিক ছোট বড় কবুতরের খামার। যেগুলোতে সৌখিন খামারিরা বিভিন্ন প্রজাতির কবুতর পালন করছেন।

এই কবুতর শুধু আমিষের চাহিদা পূরণের জন্য নয়, অনেকেই কবুতর নিয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক খেলায় অংশগ্রহণও করছেন। নিয়ে আসছে পুরষ্কারও। সব মিলিয়ে শায়েস্তাগঞ্জে কবুতর পালন এখন উপজেলার বাণিজ্যিক চিন্তার উপকরণ হয়ে ওঠছে।

খামারিরা জানান- কবুতরের মধ্যে গিরিবাজ, ফ্লাই, রেইসিং, প্যান্সি, ফিজিউনসহ বিভিন্ন জাতের কবুতরই বেশি পালন করছে এখানকার স্থানীয়রা। ওইসব জাতের কবুতর অনেক সময় ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা জোড়ায়ও বিক্রি হয়ে থাকে। যে কারণে ওই জাতের কবুতর বেশি পালন করা হচ্ছে।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নুরপুর ইউনিয়নের সুরাবই কাজী বাড়ির সুমন মিয়া গত ৩ বছর ধরে বাসার ছাদে গড়ে তুলেছেন শখের কবুতরের খামার। বাসার ছাদের উপর তারের জালি দিয়ে বেড় দিয়ে ও উপরে টিন দিয়ে তিনি খামার নির্মাণ করেছেন।

তার খামারে তিনটি স্তর করে আলাদা আলাদা করে কবুতর রাখা হয়েছে। সাদা, কালো কিংবা গোলাপি রঙের কবুতর দেখলে যেন চোখ জুড়িয়ে যায়। কিছু কবুতর আবার তিনি আলমিরার মত সাজিয়ে রেখেছেন।

সুমন মিয়া ১০ জোড়া কবুতর দিয়ে খামার শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তার খামারে ৫০ জোড়া কবুতর রয়েছে। এর মাঝে রেডস চেগার, সবজি রেসার, নাসকি রেসার, মিলি রেসার, কালো বাগদাদী, হোয়াইট বাগদাদী, কালো ময়না ওমা ও গ্রিজেল রেসার জাতীয় কবুতর রয়েছে। ক্রেতাদের কাছে এসব শ্রেণির কবুতরের বেশ চাহিদাও রয়েছে।

তিনি জানান- এসব কবুতরের জন্য তিনি ৬৫ টাকা কেজি দরে মিস্কার খাবার কিনে নিয়ে আসেন। প্রতি মাসে ৫-৭ হাজার টাকা তাদের খাবারের পেছনে ব্যয় হয়। তিনি নিজেই খামারের পরিচর্যা ও দেখভাল করে থাকেন।

সুমন মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, এ পর্যন্ত তার ৩৪টি কবুতর মারা গেছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ ঠাণ্ডা লেগে রাণীক্ষেত রোগে মারা যায়। পরে তিনি ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন কিনে সব কবুতরের শরীরে পুশ করেছেন। সুমন মিয়া এখনো কবুতর বিক্রি করেন নি। তার ইচ্ছা খামার আরো বড় করবেন।

সুরাবই গ্রামের সৈয়দ মারুফ আহমেদ। তিনি বাসার পাশে আলাদা রুমে গত কয়েকবছর যাবত কবুতর পালন করে আসছেন। তার খামারে ১০-১২ জোড়া কবুতর রয়েছে।

একই গ্রামের মাসুক ভান্ডারী বেশ কয়েকবছর যাবত শখের বসে কবুতরের খামার দিয়েছিলেন। ব্যস্ততার কারণে তিনি সময় দিতে না পারায় খামারের কবুতর বিক্রি করার জন্য ক্রেতা খুঁজছেন। তার খামারে প্রায় ৫০-৬০ জোড়া কবুতর রয়েছে।

খামারীদের দেয়া তথ্য মতে- ঠিকমত খাদ্য ও পরিচর্যা পেলে কোন কোন কবুতর দুই-তিন মাস পরপরই নতুন বাচ্চা দেয়। আর প্রতি জোড়া কবুতর ২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হয়ে থাকে। যে কারণে শুধু বেকার যুবকরাই নয়, কবুতর পালনে এগিয়ে এসেছেন জেলার অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। নিজেদের বাসা বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ছাদে খাঁচা তৈরি করে পালন করছেন দেশি-বিদেশি নানা জাতের কবুতর।

ৎশায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রমাপদ দে জানান, এখন অনেক যুবকই নিজ উদ্যোগে কবুতর পালনে এগিয়ে আসছেন। বেকার যুব সমাজকে কবুতর পালনে এগিয়ে আসতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর থেকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এটি একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এছাড়া কবুতর পালনে শ্রম ও খরচ কম। তাই এ পেশায় যুবকরা বেশি ঝুঁকছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে আমরা কবুতরের জন্য কৃমির ঔষধ, ভ্যাকসিন বিনামূল্যে দিয়ে থাকি।’ এছাড়া যেকোন পরামর্শের জন্য তিনি খামারীদেরকে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করেছেন।

শেয়ার করুন