১০ নভেম্বর ২০২১


মৌলভীবাজারে আমনের বাম্পার ফলন

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : আমন ধানের ফলন ভালো হওয়ায় মৌলভীবাজার জেলার কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে ধানের ন্যায্যমূল্য ও শ্রমিক সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, যান্ত্রিক নির্ভর হলে শ্রমিক সংকট থাকবে না। খরচ কমার পাশাপাশি উৎপাদন আরও বাড়বে। ইতোমধ্যে সদর উপজেলার আজমেরু ও ভুজবল এলাকায় জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আয়োজনে আগাম জাতের ব্রি ধান-৮৭ কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে কাটা শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান কম্বাই হারভেস্টার চালিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কাটার উদ্বোধন করেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, এ বছর জেলায় আমন চাষাবাদ হয়েছে এক লাখ এক হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন চাল।

২০২১-২২ অর্থবছরের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের উন্নয়ন সহায়তার (ভর্তুকি) মাধ্যমে জেলায় বরাদ্দ আসে ১৫টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার, তিনটি রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, ১৯টি রিপার, ১৫টি ধান মাড়াই যন্ত্র ও একটি ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র। এ ছাড়া জেলায় সব মিলিয়ে ৬০টি কম্বাইন হারভেস্টার চলতি আমন মৌসুমে ধান কাটবে। ৩৫০০ কৃষককে বিনামূল্যে উন্নত জাতের বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক সৈয়দ হুমায়েদ আলী শাহিন ও এস এম উমেদ আলী জানান, এ বছর ১৩০ বিগা (কেয়ার) জমিতে ব্রি ধান-৮৭, ৭৫ ও হাইব্রিড জাতের ধানিগোল্ড ধান চাষ করেছেন। ভালো পরিচর্যা করায় ফলন ভালো হয়েছে। ধান কাটা শুরু হয়েছে। তাদের আশা, ২৫০০ থেকে ২৬০০ মণ ধান পাবেন।

তারা আরও জানান, প্রতিবছর ধান কাটার সময় শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। আবার শ্রমিক পেলেও অতিরিক্ত মজুরি গুনতে হয়। একদিকে জমির ধান উঠাতেও দেরি হয়। এ কারণে কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটতে শুরু করেছেন। চারা রোপণের জন্য রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিন নিয়েছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী বলেন, জেলায় এ বছর বেশি পরিমাণ জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। নতুন ধানের জাত দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের। চলতি আমন মৌসুমে আগাম জাতের বিনা ধান-১৭, ব্রি-ধান ৭১, ৭২, ৭৫ ও ৮৭, ধান কাটা চলছে। ইতোমধ্যে একভাগ ধান কাটা হয়েছে। ধান কাটা জমিতে সরিষা, ভুট্টা ও সূর্যমুখী আবাদ হবে। এতে শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধি পাবে ও জাতীয়ভাবে উৎপাদন যোগ হবে। আমন মৌসুমে ৭০ ভাগ ভর্তুকির ১৫টি কম্বাইন হারভেস্টার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কম সময়ে অল্প খরচে কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা, মাড়াই করে মাঠ থেকে উঠানে আনা একবারে সহজ হয়েছে। পর্যায়ক্রমে যান্ত্রিক নির্ভরশীল হলে শ্রমিক সংকট একসময় থাকবে না।

জেলা প্রশাসক মীর নাহীদ আহসান বলেন, সরকার কৃষিখাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি দিচ্ছে। কৃষকদের পরিশ্রম ও কৃষি বিভাগের আন্তরিকতায় শস্যের উদ্বৃত্ত অঞ্চল হিসেবে পরিণত হয়েছে মৌলভীবাজার।

শেয়ার করুন