৩১ অক্টোবর ২০২১


২২ লাখ মানুষের জন্য নেই কোনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগে বিশেষজ্ঞ কোনও চিকিৎসক নেই। এই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় জেলার ২২ লাখ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের একমাত্র নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এইচ এম এনামুল হক। তিনি একটি মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাই এই বিভাগে কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই।

সম্প্রতি হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে রোগীর সঙ্গে কথা হয়। তারা জানিয়েছেন, ডা. এইচ এম এনামুল হক একমাত্র ডাক্তার হওয়া তিনি ঘন ঘন ছুটিতে থাকেন, কোন রোগী দেখতে পারেন না। অনেক রোগী ডাক্তার না পেয়ে প্রাইভেট ডাক্তার দেখাতে হয়। গরিব রোগীর জন্য ৭০০ টাকা দিয়ে ডাক্তার দেখানো সম্ভব হয় না। এখন উনি কারাগারে আছেন কতদিন থাকবেন কে জানে। তিনি যতদিন কারাগারে আছেন কোন ডাক্তার নেই রোগী দেখার জন্য। সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি ছাড়া আর কিছু না।

এসময় তুহিন আহমেদ নামের এক রোগী বলেন, আমি হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি নাক নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই। অনেকের মুখে শুনছি তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন। সেখানে ডাক্তার না পেয়ে আমি ৭০০ ভিজিট প্রাইভেট ডাক্তার দেখাতে হয়। আমার বড় কোন সমস্যা নয় তারপরও তিনি টেস্ট দিলেন ১ হাজার টাকার।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মোরর্শেদ বলেন, হাসপাতালের বর্তমান ডা. এনামুল হক পারিবারিক কারণে আইনি জটিলতায় আছেন। ২২ লাখ মানুষের জন্য একজন ডাক্তার আছেন। আইনি জটিলতার জন্য অবশ্যই রোগীদের অসুবিধা হবে। এখন আইনি প্রক্রিয়া আদালতের নির্দেশনা ছাড়া কিছু বলা যাবে না।

মৌলভীবাজার মডেল থানার সূত্র জানায়, ডা. এনামুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী ইমানা ইসমাত যৌতুকের অভিযোগ এনে তাঁর বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। গত রোববার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব- ৯ । পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুমায়ুন কবির বলেন, পারিবারিক কারণে আইনি জটিলতায় ডা. এনামুল হক গ্রেপ্তার হয়েছেন। আপাতত নাক-কান-গলা বিভাগে বিশেষজ্ঞ কোনও চিকিৎসক নেই। এতে চিকিৎসাসেবা কিছুটা ব্যাহত হবে।

অন্য কোন ডাক্তার আসবেন কি না এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, উনার চাকরি যায়নি বা চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়নি এই পদে তিনি বহাল আছেন। উনার যে প্রাপ্য বেতন তিনি তা পাচ্ছেন। একই সাথে অন্যান্য সুবিধাও পাচ্ছেন। এখানে অন্য কোন ডাক্তার আনার সুযোগ নেই। নাক-কান-গলা বিভাগের রোগীদের অসুবিধা হলেও আপাতত কিছু করার নেই।

শেয়ার করুন