৩১ মার্চ ২০২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিদ্দিকুর রহমান পাপলু। সিলেটের বিএনপির ঘরনার রাজনীতিতে নানা কারনে বার বারই আলোচিত সমালোচিত নাম। ছাত্রদলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতা থেকে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য, জেলা যুবদলের আহবায়ক, এর পর জেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির জৈষ্ঠ সদস্যের সামনে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করার কারনে এখন ‘আম ও ছালা’ দুটোই খোয়ালেন তিনি।
গত বুধবার দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকান্ডে জড়িত থাকার সু-নির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিলেট জেলা বিএনপির নব গঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলুর পদ স্থগিত করে দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটি। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তাকে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এরআগের দিন মঙ্গলবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত এক পত্রে সিদ্দিকুর রহমান পাপলুকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছিলে, ২১ মার্চ সিলেটে জাতীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অসাংগঠনিক আচরণ করেছিলেন পাপলু। দলের শৃঙ্খলাবহির্ভূত এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে লিখিত জবাব দলের মহাসচিব বরাবর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।
দলীয় সূত্রমতে, সম্মেলনের মাধ্যমে সিলেট জেলা বিএনপির তিন সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠনের প্রায় এক বছর পর গত ১৯ মার্চ সিলেট জেলা বিএনপির ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও ৯১ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি অনুমোদন দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই কমিটিতে সিদ্দিকুর রহমান পাপলুকে যুগ্ম সম্পাদক (৩) পদে রাখা হয়। কিন্তু পাপলুর দাবী ছিল তাকে জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক পদে রাখার। কমিটি গঠনের পর সঙ্গত কারনেই সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন পাপলু।
কমিটি গঠনের দুই দিন পর গত ২১ মার্চ নগরীর দরগাহ গেইটস্থ একটি হোটেলে ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা’ শীর্ষক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণমূলক আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা বিএনপি। এই সভার ঠিক পূর্ব মুহুর্তে নিজ কর্মী সমর্থকদের নিয়ে সভাস্থলের পাশে রেষ্টুরেন্টে আসেন পাপলু। এসময় সেখানে উপস্থিত দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির খছরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা ইসমাইল জবিউল্লাহর সামনে পাপলু ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। এঘটনা ভিডিও ধারণ করা হয়, পরবর্তীতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণই কাল হয়ে যায় পাপলুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে। রাজনীতির ময়দানে এখন ‘আম-ছালা’ দুটোই হারিয়েছেন এই বিএনপি নেতা।
যদিও পাপলুর সাথে ঘনিষ্টরা মনে করছেন তার স্থগীতাদেশ একটি সময় প্রত্যাহার হয়ে যাবে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দলের দুইজন সিনিয়র নেতার সাথে এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করার পর তার বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। কারন দল তার নিজস্ব গতিতে চলে, দলের কর্মকাণ্ডের উপর কেউ সংক্ষুব্দ হলে তা প্রকাশ করতে হবে গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়। দলের শৃংখলা বজায় রাখতে দলকে কঠোর হতে হয়, এটিই স্বাভাবিক নিয়ম।