৩১ অক্টোবর ২০২১
নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে আর কোনো ভোটে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। তাদের মতে, এই সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু দলীয় ভাবে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন নিয়ে বিশেষ কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে দলটি। দল ভোট বর্জনের ঘোষণা দিলেও মাঠের চিত্র পুরো উল্টো।
ধানের শীষ ছাড়া ভোটের মাঠে ঠিকই সক্রিয় রয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। প্রথম ধাপের মতো দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা। কেন্দ্র থেকেও এক রকম সবুজ সংকেত রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে মতো সিলেটেও প্রায় সবগুলো ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপির প্রার্থীরা।
কোনো কোনো ইউপিতে বিএনপির একাধিক প্রার্থীও ভোটের মাঠে রয়েছেন। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বিএনপির ভোটব্যাংক রয়েছে সেখানে তাদের তৎপরতা বেশি। এছাড়া যেখানে আওয়ামী লীগের শক্ত বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে সেখানেও জয় ছিনিয়ে আনার ব্যাপারে আশাবাদী বিএনপির প্রার্থীরা। স্থানীয় ভোটারদের মতে, বিএনপি মাঠে থাকায় বেশির ভাগ ইউপিতেই ত্রিপক্ষীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপের দেশে ৮৪৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হচ্ছে। এদিন সিলেটের ৩ উপজেলায়ও ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলাগুলো হচ্ছে সিলেট সদর, কোম্পানীগঞ্জ ও বালাগঞ্জ।
এই তিন উপজেলায় বিএনপির ১২ জন ও জামায়াতের ২ জন স্বতন্ত্র পরিচয়ে নির্বাচন করছেন। সিলেট সদর উপজেলার ৪ ইউনিয়নে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন হচ্ছে। এতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র পরিচয়ে নির্বাচন করছেন। বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হচ্ছেন হাটখলা ইউনিয়নে রফিকুল ইসলাম, জালালাবাদ ইউনিয়নে ইসলাম উদ্দিন ও মোগলগাঁও ইউনিয়নে ফজলু মিয়া। কান্দিগাঁও ইউনিয়নে প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের আব্দুল মনাফ।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৫ ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে ৪টিতে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি-জামায়াতের ৭ নেতাকর্মী স্বতন্ত্র পরিচয়ে নির্বাচন করছেন। ইসলামপুর পূর্ব ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি আলমগীর আলম চেয়ারম্যান পদের শক্তিশালী প্রার্থী। ইছাকলস ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা বিএনপির কার্যকরী কমিটির সাবেক সদস্য মকবুল আলী, আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্ব পালনকারী আবু সাদ আব্দুল্লাহ ওরফে সাইস্তা মিয়া নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির এই দুই নেতার বাইরে জামায়াতের কাজি জসিমও নির্বাচন করছেন স্বতন্ত্র পরিচয়ে।
উত্তর রনিখাই ইউনিয়নে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। দক্ষিণ রনিখাই ইউনিয়নে বিএনপির কার্যকরী কমিটির সদস্য শামস উদ্দিন শাহীন ও সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহাব উদ্দিন লড়ছেন। তেলিখাল ইউনিয়নে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির সুজন মিয়া।
বালাগঞ্জ উপজেলার ৬ ইউনিয়নের মধ্যে বালাগঞ্জ ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মুনিম, পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান ও দেওয়ান বাজার ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান নাজমুল আলম নির্বাচন করছেন।