৫ অক্টোবর ২০২১
বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি : দিনক্ষণ ঠিক না হলেও বিয়ানীবাজার উপজেলার ১০ ইউনিয়নে পুরোদমে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ উপজেলায় চতুর্থ অথবা পঞ্চম ধাপে অর্থাৎ ডিসেম্বরের প্রথম কিংবা মাঝামাঝি সময়ে ইউপি নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবার দলীয় প্রতীকে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। এজন্য আওয়ামী লীগের নৌকার কান্ডারি হতে দলের প্রবীণ নেতাদের সাথে নবীনদেরও ভোটের মাঠে কাজ করতে দেখা গেছে। এসব নবীনদের মধ্যে অনেকেই নৌকা পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন।
গতবারের ন্যায় এবারও তৃণমূলের ভোটের ওপর দলীয় প্রার্থী হওয়ার প্রাথমিক মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। তবে নৌকার প্রার্থীতা যাছাই-বাছাই করবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড। এবার বিগত নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়ন পাচ্ছেন না- এটা প্রায় নিশ্চিত।
জানা গেছে, গত ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে উপজেলার ১০ ইউনিয়নের মধ্যে চারখাই, দুবাগ, শেওলা ও মাথিউরা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীরা বিজয়ী হয়। তবে শুধুমাত্র লাউতা ইউনিয়নে আওয়াম লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়লাভ করে। অপর ৫ ইউনিয়নের মধ্যে আলীনগর ও কুড়ারবাজার ইউনিয়নে ধানের শীষের দলীয় প্রার্থী, তিলপাড়া ও মোল্লাপুর ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী ও মুড়িয়া ইউনিয়নে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী জয়ী হন।
বিগত নির্বাচনে হাতছাড়া হওয়া ইউনিয়নগুলোতে এবার আওয়ামী লীগ শক্তিশালী প্রার্থী দেওয়ার চিন্তা করছে। এ লক্ষ্যে প্রার্থীর পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীরা বিকল্প প্রার্থীও খুঁজছেন। তবে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সংখ্যা গতবারের চেয়ে তুলনামূলক কম হবে। সব মিলিয়ে ৩৫ থেকে ৪৫ জন শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের ভোট যুদ্ধে অংশ নিতে পারেন। এর মধ্য থেকেই নৌকা প্রতীকে ১০জন প্রার্থী বাছাই করবে আওয়ামী লীগ।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের ধারণা, এবার জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী অপেক্ষাকৃত কম হবে। পাশাপাশি ৭-৮ ইউনিয়নে অনায়াসেই দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করা সম্ভবপর হবে।
বিয়ানীবাজারে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন প্রায় অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী। এর মধ্যে বিগত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের পাশাপাশি প্রবাসীরাও রয়েছেন।
চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলীনগর ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন চান সিলেট জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি আহবাবুর রহমান খান শিশু ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম জায়গীরদার। চারখাই ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন।
দুবাগ ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পলাশ আফজাল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাওফিক মাহমুদ চৌধুরী।
শেওলা ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শামছ উদ্দিন খান, বর্তমান চেয়ারম্যান জহুর উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ হোসেন খান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফয়ছল আহমদ।
কুড়ারবাজার ইউনিয়নে সাবেক ফুটবলার তুতিউর রহমান তোতা ও আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল হক।
মাথিউরা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সিহাব উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক শহীদ পরিবারের সন্তান আলমগীর হোসেন রুনু, উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আমান উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী শামীম আহমদ।
তিলপাড়া ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মো. ইসলাম উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য সাংবাদিক ছাদেক আহমদ আজাদ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বিবেকানন্দ দাস বিবেক, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সালাহ উদ্দিন ছায়াদ ও জামিল হোসেন।
মোল্লাপুর ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক এম এ কাদির, যুক্তরাজ্য প্রবাসী শামীম আহমদ, আওয়ামী লীগ নেতা সাব্বির আহমদ হীরা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য দেলোয়ার হোসেন।
মুড়িয়া ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, বিয়ানীবাজার পৌর শ্রমিকলীগের সাবেক সভাপতি ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল ওয়াহিদ তারেক, বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাব্বির উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা শফিউর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কাওছার আহমদ।
লাউতা ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক চেয়ারম্যান এমএ জলিল, বর্তমান চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য লুৎফুর রহমান ফয়সল, সাবেক ছাত্রনেতা ও সাংবাদিক সজীব ভট্টাচার্য, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা পিএম পাল।
বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। তিনি যাকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করবেন তাকে নিয়েই আমরা ভোটযুদ্ধে মাঠে নামব। এবার আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করবে। আর সেই লক্ষ্যেই আমরা দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছি।