৭ ডিসেম্বর ২০১৭


তাহিরপুরে ২৪৯টি গ্রামের মধ্যে ১২০টিতে নেই প্রাথমিক বিদ্যালয়

শেয়ার করুন

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের দীপ সাদৃশ্য গ্রাম গুলোর শিশুরা প্রতিনিয়ত প্রাথমিক শিক্ষার জ্ঞানের আলো থেকে বিঞ্চিত হচ্ছে। আর মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকে পড়া শুনা করতে গিয়ে পরতে হয় নানা সমস্যায়। শিক্ষক, স্কুল সংকট, অসচেতনতা, আর্থিক, অভাব-অনটন, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ নানান সমস্যা থাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে হাওরপাড়ের শিশু শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগড়, বিশ্বাম্ভরপুর, দিরাই, শাল্লা সহ প্রতিটি উপজেলার দীপ সাদৃশ্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গ্রাম গুলোতে শিক্ষার প্রাথমিক সূচনা শুরু করে শেষ না করতেই ঝরে পড়ছে শিশু শিক্ষার্থীরা। ফলে সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে অবহেলিত সকল শিশুকেই স্কুলগামী নিশ্চিত করনের চেষ্টা রসাতলে যাচ্ছে দিন দিন।

কাগজে কলমে প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার মান উন্নয়নে সফলতা দেখানো হলেও বাস্তবে এর চিত্র ভিন্ন রকমের জানান জেলার সচেতন হাওরাবাসী। শিক্ষার মান উন্নয়নের প্রধান সমস্যা হল শিক্ষক। শিক্ষক সংকট লেগেই আছে হাওরপাড়ের প্রতিটি স্কুলে।

এছাড়াও রয়েছে স্কুলের দূরত্ব,সড়ক পথে যোগাযোগ না থাকা,বর্ষায় নৌকায় যুঁকি নিয়ে চলাচলের ভয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের মা,বাবা স্কুলে পাঠাতে অনীহা সহ রয়েছে নানা সমস্যা। মাছ ধরা ও বোরো জমি চাষাবাদ করা ছাড়া বিকল্প কাজের ব্যবস্থা না থাকা, অভাব ও প্রত্যান্ত এলাকায় এখনো মা, বাবার অসচেনতা, শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি না থাকায় পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

বিভিন্ন কাজ কর্মে পরিবারের সচ্ছলতার স্বার্থে কমল মতি শিশুরা আর হাওরে বাড়ছে শিশু শ্রমিক। আরো জানা যায়,তাহিরপুর উপজেলার ২৪৯টি গ্রামের মধ্যে ১২৯টি বিদ্যালয় রয়েছে আর ১২০টিতে নেই প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর মধ্যে সরকারী ৫৭টি, জাতীয়করন ৬৩টি, রেজিষ্টার্ড ৪টি এবং কমিউনিটি ৩টি বিদ্যালয়।

এসব দ্যিালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছে ৩১হাজার ৪৩৪জওে অধিক। এর মধ্যে ছাত্র ১৫হাজার ২৩৫জন,ছাত্রী আছে ১৬হাজার ১৯৯জনের অধিক। এসব বিদ্যালয় গুলোতে বিভিন্ন পদে ৪৪টি শিক্ষক পদের বেশি শূন্য আছে।

উপজেলার উত্তর শ্রীপুর, দক্ষিন শ্রীপুর, উত্তর বড়দল (আংশিক), দক্ষিন বড়দল ইউনিয়নের দীপ সাদৃশ্য গ্রাম ও সীমান্ত এলাকার শতাধিক গ্রাম গুলোতে বিদ্যালয় নেই, নেই পাশ্ববর্তি গ্রামে। ফলে স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে আর শিক্ষার জ্ঞানের আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অসহায় শিশু শিক্ষার্থীরা।

হাওর পাড়ের শিক্ষার্থীরা জানান-আমরার বাড়ি থেইকা স্কুল অনেক দূরে, শুকনা মাসে পায়ে হাইটা যাইতে হয় তাও ভালা কোন রাস্তা নাই। আর বর্ষার সময় জীবনের ঝুকি নিয়ে স্কুলে যাইতে হয় নৌকা দিয়ে। যাওয়ার সময় মাঝে মধ্যে বৃষ্টি ও হাওরের পানিতে পরে বই খাতা বিজ্জা যায়। স্কুল কাছা কাছি হইলে ভালা হইত।

শিক্ষক হাদি উজ্জামান,হাফেজ এমদাদ সহ সচেতন হাওরবাসী ও হাওর পাড়ের অভিবাবকগন বলেন, আমরা হাওরবাসী শুধু শিক্ষা না সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে আছি। বাড়ি থাকে স্কুল অনেক দূরে থাকে আমাদের সন্তানরা জীবনের যুকিঁ নিয়ে বর্ষায় নৌকার ব্যবস্থা করে স্কুলে যায় অনেক সময় আমরাই দেই না ভয়ে। আবার মাছ ধরা বোরো ধান চাষ করা ছাড়া অন্য কাজ না থাকায় অভাবের তারনায় অনেক সময় স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দেই।

তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, তাহিরপুর উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গ্রাম গুলোতে শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যকর সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত আছে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, হাওরবাসীর উন্নয়নের স্বার্থে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ও শিক্ষার প্রসারে জন্য যে গ্রাম গুলোতে স্কুল নেই এবং স্কুল অনেক দুরে সেই সব গ্রামে স্কুল স্থাপন করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয় এগিয়ে আসলে ও অভিবাবকদের সচেতন মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নিলে হাওরপাড়ের শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পরবে।

(আজকের সিলেট/৭ ডিসেম্বর/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন