২৮ নভেম্বর ২০২৩
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে তুমুল হৈচৈ, আনন্দ-উৎসাহে ঢাক-ঢোল, খোল-করতাল আর গোপিনী নাচ দেখার মধ্য দিয়ে শেষ হলো মনিপুরী সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ উৎসব মহারাসলীলা। মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও তার সখী রাধারলীলাকে ঘিরে কার্তিকের পূর্ণিমা তিথিতে ঊষালগ্নে সমাপ্ত হয় ১৮১তম রাস উৎসব কার্যক্রম।
প্রতিবারের মতো এবারও রাসোৎসবে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার ভক্তসহ দেশি-বিদেশি পর্যটকের ঢল নামে। মনিপুরী সম্প্রদায়ের এ বৃহত্তম উৎসব উপলক্ষে মনিপুরী ললিতকলা অ্যাকাডেমি প্রাঙ্গণে মনিপুরী তাঁতবস্ত্র প্রদর্শনী ও শিববাজার এলাকায় বিশাল মেলা বসে।
সোমবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে কমলগঞ্জের উভয়স্থানে রাখাল নৃত্যের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল রাসলীলা। সোমবার দুপুর ১২টা থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কমলগঞ্জে হাজির হয়েছিল নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা পেশার হাজারো মানুষ। মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে। কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর জোড়ামণ্ডপ প্রাঙ্গণে বিষ্ণুপ্রিয়া মনিপুরী, আদমপুরের মনিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্সসহ আরো দুটি মণ্ডপ প্রাঙ্গণে মনিপুরী মী-তৈ সম্প্রদায়ের আয়োজনে হয়েছে মহারাসোৎসব।
রাস উৎসব ঘিরে প্রতিবারের মতো এবারও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। উৎসবে যোগ দিতে দেশবিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগী পর্যটক এসেছেন এখানে। ভিড় সামলাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়।
মনিপুরী মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ জানান, মাধবপুর জোড়ামণ্ডপ রাসোৎসব সিলেট বিভাগের মধ্যে ব্যতিক্রমী আয়োজন। এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার আগমন ঘটে। বর্ণময় শিল্পসমৃদ্ধ বিশ্বনন্দিত মনিপুরী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবে সবার মহামিলন ঘটে। মনিপুরীদের রাসলীলার অনেক ধরন। নিত্যরাস, কুঞ্জরাস, বসন্তরাস, মহারাস, বেনিরাস বা দিবারাস। শারদীয় পূর্ণিমা তিথিতে হয় বলে মহারাসকে মনিপুরীরা পূর্ণিমারাসও বলে থাকেন।
মনিপুরী অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ও আদমপুরে আশ্বিন মাসের শেষ ভাগেই উৎসবের সাড়া পড়ে যায়। উপজেলার মনিপুরী সম্প্রদায়ের লোকের সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়ের লোকেরাও মেতে ওঠে একদিনের এ আনন্দ উৎসবে।