৩১ আগস্ট ২০২১
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রবাসী অধ্যুষিত আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত পূণ্যভুমি সিলেট। নতুন পাসপোর্ট কিংবা রিনিউ করতে এই অঞ্চলের মানুষকে ছুটতে হয় সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে। কিন্তু সম্প্রতি পাসপোর্ট অফিসের জনবল সংকটে সেবা প্রদান স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও প্রত্যাশিত সেবা পাচেছন না অনেকেই। এ নিয়ে গ্রাহকদের নানান অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট অফিস এর তথ্য মতে বর্তমানে জনবল সংকটই বড় সমস্যা।
জানা যায়, সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে অনুমোদিত ৩১ জন জনবলের মধ্যে কর্মরত আছেন ১৯ জন। ১২ টি পদই খালি রয়েছে। যেকারনে সেবা প্রত্যাশীদের কাঙ্খিত সময়ে সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ১২ টি শূণ্য পদের মধ্যে রয়েছে- ১ জন উপ-পরিচালক, ১ জন অধীক্ষক, ৫ জন কম্পিউটার অপারেটর, ১ জন উচ্চমান সহকারী, ২ জন অফিস সহায়ক।
পাসপোর্ট অফিস কর্মকর্তারাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০০ মানুষ পাসপোর্টের জন্য আবেদন জমা দিচ্ছেন। আর প্রায় ১০০০ পাসপোর্ট ডেলিভারী হচ্ছে। যে কারনে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজারের মত মানুষ অফিসটিতে ভীড় করেন। এত মানুষকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশীম খেতে হচ্ছে কর্মকর্তা কর্মচারীদের। সকাল ৮টা থেকে শুরু করে রাত ৮/৯ পর্যন্ত ১২/১৩ ঘন্টা অফিস করতে হচ্ছে তাদের। কোন সেবা প্রত্যাশী যাতে খালি হাতে ফিরে না যান সেই চেষ্টাই করছেন কর্মকর্তারা।
এদিকে, এই গ্রাহকরা ভোগান্তি নিয়ে অভিযোগের আঙ্গুল তুলছেন অফিসটির কিছু কর্মকর্তাদের উপর। তাদের দাবী কিছু অসাধু কর্মকর্তারা ইচ্ছেকৃতভাবেই এমনটি করছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, দীর্ঘ দিন অফিস বন্ধ থাকা ও জনবল সংকটের কারনেই এমনটি হচ্ছে। তবে তারা দিন রাত আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, জনবল সংকটের কারনে এবং করোনা মহামারীর কারনে গত লকডাউনে অফিস বন্ধ থানায় এই লাইন আরো দীর্ঘ হচ্ছে। কাক ডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন পাসপোর্ট প্রত্যাশীরা। স্বাস্থ্যবিধি উপক্ষো করে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের আবেদন জমা দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে সিলেটে পাসপোর্টের আবেদন করতে আসা লোকজনের ভোগান্তির যেন শেষ নেই।
সরেজমিন পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত সুশৃংখল ভাবে লোকজন আবেদন জমা দিচ্ছেন। অফিসের ধারে কাছেও ভিড়তে পারছেনা দালালরা। নিয়ম মেনে আবেদন জমা দিতে গিয়ে অনেককেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জৈন্তাপুর উপজেলার এক ভোক্তভোগি জানান, সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে আবেদন জমা দিতে পারেনি। কারন সার্ভার ডাউন ছিল। পরের দিন তাকে আবার আসতে হয়েছে।
জানা যায়, সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক একেএম মাজহারুল ইসলাম যোগদানের পর থেকে শৃংখলা ফেরাতে চেষ্টা করছেন। দীর্ঘ দিনের জঞ্জাল দালালদের কাড়াতে কঠোর হয়েছেন। কাজের গতি বৃদ্ধির সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তার পরও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার করনে পুরোপুরি সফল হতে পারছেন না।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আবেদন করার পরও পাসপোর্ট না পাওয়ার পেছনে সব চেয়ে বড় সমস্যা দেখা দেয় এনআইডির সাথে আবেদনপত্র বা পূর্বের পাসপোর্টের তথ্যের মিল না থাকা। যার জন্য দীর্ঘ দিন পরও অনেকেই পাসপোর্ট পান না। এসব সমস্যা নিয়ে প্রতিদিনই ভিড় করেন সেবা প্রত্যাশীরা। জনবল সংকট থাকার কারনে পরিচালক নিজেই প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত এসব সেবা প্রত্যাশীদের সেবা দিয়ে থাকেন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক একেএম মাজহারুল ইসলাম বলেন, আমি এখানে যোগদানের পর পরই অফিসটিতে দালালমুক্ত করেছি। সকল জায়গায় সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছি যাতে দালালরা লোকজনকে হয়রানী করতে না পারে। সিসি ক্যামেরায় আমি নিজেই মনিটরিং করি। লোকজন লাইনে দাঁড়িয়ে সুশৃঙ্খল ভাবে হয়রানি ছাড়াই আবেদন জমা দিচ্ছে। যদিও লাইনটা প্রতিদিন দীর্ঘ হয় তার পরও আমি এবং আমার অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা রাত ৮ টা ৯টা পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে এবং আন্তরিকভাবে সেবা প্রদান করছে।
তিনি বলেন, নরমান পরিস্থিতিতে যেখানে প্রতিদিন যেখানে ২০০-২৫০ টি আবেদন জমা হতো। সেখানে লকডাউনের কারনে অফিস বন্ধ থাকায় এখন হঠাৎ করেই আবেদন বেড়ে গেছে। যেকারনে এখন কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সেবা প্রত্যাশীদের ভোগান্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের অফিসে জনবল সংকট রয়েছে। আমি আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। জনবল সংকটের সমস্যা সমাধান হয়ে গেলে সবাই সঠিক সময়ে সেবা পাবে ইনশাআল্লাহ।