২৮ আগস্ট ২০২১


প্রাণ ফিরছে পর্যটন কেন্দ্রে

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ১৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে সিলেটের সব পর্যটন কেন্দ্র খুললেও সমাগম খুবই কম ছিল।গত এক সপ্তাহে সিলেটের পর্যটন ও বিনোদনকেন্দে্র পর্যটকের আনাগোনা তেমন ছিল না। তবে গতকাল শুক্রবার সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

শুধু পর্যটন কেন্দ্র ভিড় ছিল তা কিন্তু নয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হযরত শাহজালাল(রহ.) ও হযরত শাহ পরাণ (রহ.) মাজারে ভক্ত আশিকান জড়ো হতে থাকেন। লকডাউনের কারণে অনেকেই ভ্রমণে বের হতে না পারায় লকডাউন পরবর্তীতে সিলেট আসছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকদের কাছে সিলেটের সবচেয়ে আকর্ষনীয় স্থান ছিল গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং, মায়াবী ঝর্ণা, বিছনাকান্দি, জলারবন রাতারগুল। এখানকার পরিবেশ—প্রকৃতি এবং রূপ—লাবণ্যতা পর্যটকদের প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করে। মানুষ আনন্দ পেতে এখানে ছুটে আসে।

সিলেটের পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের ভিড়। শহরতলীর লাক্কাতুরা চা—বাগান, বাইশটিলা,বিনোদনকেন্দ্র ওসমানী শিশু উদ্যানে সেলফি তুলেই মনের বাসনা পূরণ করছেন। কেউবা পরিবার পরিজন নিয়ে এসে মনের আনন্দে মেতে উঠেছেন। এছাড়া নগরী ও শহরতলীর দৃষ্টি নন্দন উন্মুক্ত ও নিরিবিলি জায়গাগুলোতে লোকজন ভিড় দেখা যায়।

করোনাভাইরাসের কারণে দেড় বছর ঘরে আটকা থাকা ছেলে—মেয়েকে নিয়ে সিলেট ঢাকা থেকে সিলেট ২ দিনের জন্য বেড়াতে এসেছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা তৈয়ব আলী। কথা হলে তিনি বলেন, করোনা ও লকডাউনের কারণে পরিবারের কেউ কোথাও বেড়াতে যেতে পারিনি। ঘরে থাকতে থাকতে সবাই অস্বস্থিবোধ করছিল। লকডাউনের গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে সিলেটে বেড়াতে এসেছি। খুব ভালো লাগছে।

হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে মাহমুদুল হাসান ও রাসেল নামে আরও দুই পর্যটকের সাথে কথা হলে তারা জানান, দুইজনে আলাদা আলাদা গ্রুপে ১০জন বন্ধ সিলেট এসেছেন। গোয়াইনঘাটের জাফলং ও রাতারগুল দিনের মধ্যে ঘুেও সন্ধ্যায় মাজার জিয়ারত করতে বেরিয়ে ছিলেন। সিলেট নিয়ে তাদেও মনে অনেক কৌতুহল দেখা যায়। রাসেল জানান,বাবা –মায়ের সাথে আগে এশবার এসেছিলেন মাজারে।এবার বন্ধুদেও সাথে এসেছেন। এষানকার পরিবেশ দেখে ভালো লাগছে তাদের।

যাত্রা বাড়ি থেকে প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরিজীবি জিকু ও পুরাণ ঢাকা থেকে আসা রিফাত এবং নুসরাত বলেন, সিলেটের প্রায় সব জায়গা ঘুরেছেন তার মধ্যে তাদের সব থেকে পছন্দের জায়গা ছিল ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর। বেশ উপভোগ করেছেন তারা। জানলেন সিলেটের বাহিরে থেকে যারা সিলেট সম্পর্ক খারাপ মন্তব্য করেন তারা সেটা না জেনে করেন।সিলেটের মানুষ ও পরিবেশ খুব ভালো।

তবে দরগাহ এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী আবু জাকারিয়া বলেন, লকডাউনের কারণে আমাদের ব্যবসার ধস নেমেছে।লকডাউনের পর হোটেল মোটেল খুলে দিলেও পর্যটশরা আসছেন না।তবে গত সপ্তাহের চাইতে এ সপ্তাহে পর্যটকদের উপস্থিতি তুলনা মূলক ভালো।আশা করছি করোনার ভয় কাটিয়ে মানুষ আবারো পর্যটনমুখি হবেন।

এর আগে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি কঠোর বিধিনিষেধের কারণে পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল–মোটেল ও রিসোর্ট বন্ধ ছিল। সরকারি বিধিনিষেধ শিথিলে অনেকটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা।

শেয়ার করুন