২৭ আগস্ট ২০২১


শায়েস্তাগঞ্জে অযত্নে পড়ে আছে শহিদ মিনার

শেয়ার করুন

শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : মহামারী করোনায় থমকে গেছে সারাবিশ্ব। এর প্রভাবে বাংলাদেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের শিক্ষাব্যাবস্থা ও শিক্ষার্থীরা।

করোনা ঠেকাতে কখনো লকডাউন, কখনো সাটডাউন বা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। আর এসব বিধিনিষেধে বিগত প্রায় ১৭ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে স্কুল-কলেজসহ সবধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ধাপে ধাপে স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার ঘোষণা করা হলেও করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন অবধি চালু করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, দীর্ঘদিন স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় অযত্নে আর অবহেলায় পড়ে আছে শায়েস্তাগঞ্জের সব শহিদমিনার। ধুলোবালি, ময়লা-আবর্জনা আর কোথাও কোথাও জমেছে শেওলা।

শায়েস্তাগঞ্জের বেশিরভাগ স্কুল-কলেজেই ভাষা শহিদদের প্রতি সম্মান জানাতে তৈরি করা হয়েছে শহিদমিনার। স্বাভাবিক অবস্থায় শহিদমিনারগুলোকে আলাদা যত্ন করে রাখা হত। কিন্তু একটানা স্কুলগুলো বন্ধ থাকায় শহিদমিনারে জমেছে ময়লা-আবর্জনা আর ধুলোবালি। আবার কোথাও কোথাও জমেছে শেওলা। বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলোর প্রথম প্রহরেই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্কুল কলেজের শহিদমিনারে ও ফুল দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করা হয়। কিন্তু স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় জাতীয় দিবসগুলো ও সীমিত পরিসরে পালিত হয়ে আসছে। ফলে শহিদমিনারগুলোর অবহেলা ও কেবলই দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার নুরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহিদমিনারের সিঁড়িতে জমেছে ময়লা। তার সামনের জায়গাগুলো অপরিচর্যার কারণে কর্দমাক্ত হয়ে আছে। উপজেলার ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়নের মোজাহের উচ্চ বিদ্যালয়ের শহিদমিনারে দেখা গেছে ধুলোর আস্তরণ। আশেপাশের ঘাসগুলো গজিয়ে উঠেছে।

নুরপুর ইউনিয়নের শাহজীবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহিদমিনারে রাতের বেলায় দেখা গেছে কেউ কেউ জুতা পায়ে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। শায়েস্তাগঞ্জের বিরামচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহিদমিনারে পড়ে আছে নানান রকম নির্মাণ সামগ্রীর অবশিষ্ট জিনিসপত্র। এছাড়া শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শহিদমিনারে দেখা গেছে ঝরাপাতার স্তুপ। সবখানেই শুধু অবহেলার চিত্র।

প্রতিষ্ঠানগুলোর দপ্তরিদের নিয়মিত দেখভাল না থাকায় শহিদমিনারের পরিচর্যা হচ্ছে না। শহিদদের স্মৃতি বিজরিত শহিদমিনারের ঠিকমত দেখাশোনা করার জন্য ম্যানেজিং কমিটিরও কোন উদ্যোগ নেই। এতে করে শহিদমিনারের প্রতি অসম্মান হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতনমহল।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. জালাল উদ্দিন রুমি জানান, করোনাকালীন সময়ে স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শহিদমিনারের অপরিচ্ছন্ন হয়ে আছে। এরজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি ও দপ্তরীদের উদাসীনতাই দায়ী, যা কাম্য নয়। যদিও স্কুল বন্ধ থাকায় দপ্তরীর কাজ নেই, তারা অন্তত শহিদমিনারসহ বিদ্যালয়ের মাঠ-প্রাঙ্গণ দেখভাল করলে এমন পরিস্থিতি হত না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি দেয়া উচিত।

শায়েস্তাগঞ্জ ইসলামি একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল হক জানান, শুধু জাতীয় দিবস নয়, শহিদমিনারের প্রতি সবসময় শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। আর এর ঠিকমত পরিচর্যা হচ্ছে কিনা সবসময় নজরদারি রাখা দরকার।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমানকে একাধিক বার মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

শেয়ার করুন