২০ আগস্ট ২০২১


সিলেটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্ঠায় পর্যটন শিল্প

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : করোনাকালীন বিধিনিষেধে এতোদিন ছিলো নীরব। ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা সাদা পাথর বিছানা পেতে পর্যটকদের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকলেও সাড়া মেলেনি। প্রতি বছর অন্তত পাঁচ লক্ষাধিক পর্যটকের আনাগোনায় পর্যটনকেন্দ্রগুলো সরব থাকলেও এবার বর্ষায় ‘শ্রী’ সিলেটের রূপ দেখতেও আসেনি কেউ। কিন্তু গতকাল সকল নীরবতা ভেঙ্গে স্বচ্ছ জলে গা ভাসিয়ে দিতে বৃষ্টিস্নাত দিনে জড়ো হয়েছিলেন অনেক পর্যটক। সেই সাথে সরব হয়ে উঠে সিলেটের সকল পর্যটন কেন্দ্র।

এদিকে অতি আনন্দে স্বাস্থ্যবিধি অনেকটাই বিঘ্নিত হলো প্রথম দিনেই। সেইসাথে পরিবেশের দূষণ শুরু। তবে পর্যটন কেন্দ্র সরব হতে শুরু করলেও আশা আর হতাশায় ব্যবসায়ীরা। পরিবেশ দূষণ নিয়ে শঙ্কিত পরিবেশ কর্মীরা। আর প্রকৃতির সান্নিধ্য পেয়ে খুশি পর্যটকরা।

সাদাপাথর এলাকায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছিলেন নগরীর আম্বরখানা এলাকার বাসিন্দা আহমদ নাহিদ ইমতিয়াজ। তিনি বলেন, দিনটা মেঘাছন্ন। দীর্ঘদিন পর মনে হচ্ছে বন্দীদশা থেকে মুক্ত হলাম। এসময় সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রকে গড়ে উঠা রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন মায়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে লোকসানের কথা জানিয়ে বলেন, সাদাপাথর পর্যটক না আসলে আমাদের ব্যবসা নাই। এখন পর্যটন কেন্দ্র খুলায় কিছুটা হলেও জানে বাঁচা সম্ভব।

সিলেটজুড়ে চা বাগান, রাতারগুল, জাফলং, পাংতুমাই, বিছানাকান্দি, সাদাপাথর, লালাখাল, মাধবকুণ্ড ঝর্ণা কিংবা বিভাগের আনাচেকানাচে থাকা অসংখ্য পর্যটন কেন্দ্র সমৃদ্ধ করেছে সিলেট অঞ্চলকে। কিন্তু পর্যটনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছিলো অন্ধকার। এবার বন্ধ দ্বার খোলায় আলো জ্বলেছে হোটেল-মোটেলে। তবে পর্যটন কেন্দ্র খুললেও আশা আর হতাশায় সিলেট বিভাগের প্রায় পাঁচ শতাধিক হোটেল, গেস্ট হাউস ও রিসোর্ট মালিকরা। ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে আছে শঙ্কা। এমনকি অন্তত আরো তিন মাস না গেলে ব্যবসাও শুরু হবে না বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের।

সিলেটের খাদিমনগর এবং লালাখাল এলাকায় অবস্থিত দুইটি নাজিমগড় রিসোর্ট। দুই প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা কর্মচারী মিলে কাজ করছেন প্রায় দুই শতাধিক মানুষ। মাসে যাদের বেতন প্রায় ৩৫ লাখ টাকার উপর। এমন অবস্থায় দীর্ঘ লকডাউনে ঋণের বোঝা বেড়েছে এ দুই প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু দীর্ঘদিন পর বৃহস্পতিবার প্রথম দিন প্রতিষ্ঠান খুললেও ব্যবসা হয়নি মোটেও।

ডিসেম্বর না আসলে ব্যবসা জমে উঠার সম্ভাবনা নেই জানিয়ে নাজিমগড় রিসোর্টের এমডি নাজিম কামরান চৌধুরী বলেন, ‘সরকারি ছুটি না থাকলে মানুষ ঘুরতে আসে না। তাছাড়া দেশ অভাবে। প্রায় ১৮ মাস থেকে লকডাউন। মাঝখানে মাত্র তিন মাস ব্যবসা করার সুযোগ হয়েছিলো। আর এখন আবার খুলেছে। জানি না কতদিন খুলা থাকে। আমার দুই প্রতিষ্ঠানে মিলে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতনই হয় ৩৫ লাখ টাকার উপর। অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচ বাদই দিলাম। এতদিন কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতনটাও সঠিকভাবে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদেরওতো পরিবার আছে। এখন আমাদের দাবি হলো সরকার থেকে বিনা সুদে দীর্ঘমেয়াদী কোন ঋণের ব্যবস্থা করলে অন্তত টিকে থাকা যাবে।’

অপরদিকে, পর্যটন কেন্দ্র খোলার সাথে সাথে পরিবেশ দূষণ নিয়ে শঙ্কিত পরিবেশ কর্মীরা। তাই নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলায় পর্যটকদের উদ্বুদ্ধ করতে পরামর্শ দিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম।

এদিকে সিলেট বিভাগীয় হোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি সুমাত নুরী জুয়েল বলেন, করোনাকালীন লকডাউনের শুরুতে আমরা হিসেব করে দেখেছি প্রতিদিন সিলেট বিভাগে পর্যটন খাতে অন্তত ৩ কোটি টাকা লোকসান হয়। সে হিসেবে এখন এর পরিমাণ কম হলেও হাজার কোটি টাকার বেশি। এমতাবস্থায় পর্যটন কেন্দ্র খুললেও অতীতের লোকসান পুষিয়ে ওঠার কোন সুযোগ নেই। সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন কি না তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ব্যবসায়ীদের টিকিয়ে রাখতে পর্যটন খাতে সরকার থেকে দীর্ঘমেয়াদী কোন বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন।

এদিকে সরকার থেকে পর্যটনখাতে থুক বরাদ্দের দাবি জানিয়ে সিলেট চেম্বারের সভাপতি এটিএম শোয়েব বলেন, পর্যটনের সাথে অধিকাংশ ব্যবসা জড়িত। একদম গাড়ি থেকে শুরু করে পর্যটন স্পটগুলোতে যেসব চা বিক্রেতা সেও এর অংশ। সুতরাং এ ক্ষতি বা দেশের ক্ষেত্রে অবদান হিসেব করা মুশকিল। তাই সরকারের কাছে আমরা ইতোমধ্যে থুক বরাদ্দের জন্য দাবি জানিয়েছি। সেই সাথে দীর্ঘ লকডাউনের পর পর্যটন কেন্দ্র খোলায় হোটেল মোটেলে পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে কড়াকড়ি নির্দেশ দেওয়া আছে বলেও জানান তিনি।

বিধিনিষেধ নিয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ সিলেটের পরিদর্শক মো. আখতার হোসেন বলেন, সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। মাস্ক পরা এবং শারীরিক দূরত্ব যাতে মানা হয় সে ব্যাপারে কড়াকড়িভাবে কাজ করা হচ্ছে। তাছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতেও আমরা কাজ করছি।

এদিকে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে জরিমানা গুনতে হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিলেটের জাফলং, শ্রীপুর, বিছানাকান্দিসহ বেশ কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র নিয়ে গড়ে ওঠা গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাহমিলুর রহমান।

শেয়ার করুন