২০ আগস্ট ২০২১


আম্বরখানায় ‘ঝুনঝুনি চত্বর’ নিয়ে ‘বিব্রত’ কয়েস লোদী

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : নগরীর অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন সময়েই সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত নগরের বিভিন্ন মোড়ে কোনো পরিকল্পনা ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়াই স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে নগরবাসীর মধ্যে। সিলেটের ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতিকে উপেক্ষা করে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এবার এই সমালোচনায় যুক্ত হয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশেনেরই এক জনপ্রিয় কাউন্সিলর ও সাবেক প্যানেল মেয়র। সিলেট নগরের আম্বরখানা মোড়ে নির্মাণাধীন একটি স্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিসিকের ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।

আম্বরখানা মোড়ে সম্প্রতি একটি স্থাপনা নির্মাণ করছে সিসিক। এই স্থাপনা দেখতে অনেকটা শিশুদের খেলনা ‘ঝুনঝুনির’ মতো হওয়ায় অনেকেই ব্যঙ্গ করে এই স্থাপনার নাম দিয়েছেন ‘ঝুনঝুনি চত্বর’। এই স্থাপনা নিয়ে কয়েকদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা চলছে। বুধবার এমন অপরিকল্পিত স্থাপনার সমালোচনা করেন কাউন্সিলর কয়েস লোদীও। আম্বরখানা তার ওয়ার্ডেরই আওতাধীন। তবে এই স্থাপনাটিকে অরুচিকর উল্লেখ করে এটি নির্মাণ করায় নিজে বিব্রত বলে উল্লেখ করেন কয়েস লোদী।

এ ব্যাপারে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে কয়েস লোদী লিখেন-

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৪ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ-পূর্ব সীমানা শুরু হয়েছে আম্বরখানা থেকে। আম্বরখানা জামে মসজিদ এই ওয়ার্ডভুক্ত এলাকা। সেই আম্বরখানা সিলেট নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। ওসমানী বিমান বন্দর থেকে সিলেট নগরে প্রবেশের পর প্রথম একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই মোড় থেকে পূর্ব দিকের রাস্তা চলে গেছে শাহী ঈদগাহ হয়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও এমসি কলেজ। সেখান থেকে সিলেট সেনানিবাস, তামাবিল সীমান্ত, জাফলং। পশ্চিমের রাস্তা ধরে চলে যাওয়া যায় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প নগরী ছাতক ও সুনামগঞ্জ জেলা সদরে। আর দক্ষিণে সোজা কিছু দূর পাড়ি দিলেই দরগা-ই-হযরত শাহ জালাল (রহ) ও সিলেট নগরের সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থান। সেই আম্বরখানা পয়েন্টে সিলেট সিটি কর্পোরেশন একটি দৃষ্টিকটু, অর্থহীন, অরুচিকর স্থাপনা নির্মাণ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই কিম্ভুত আকৃতির স্থাপনার নামকরণ হয়েছে “ঝুনঝুনি চত্বর”। যা নিয়ে মানুষ হাসি তামাশা করছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সূচনাকাল থেকে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে এই ঝুনঝুনি নির্মাণে আমি বিব্রতবোধ করছি।

সিলেট সিটির সৌন্দর্য্যবর্ধনের জন্য কাজ করতে আগ্রহী স্থপতি পাওয়া যাবে। উন্মুক্তভাবে ডিজাইন দেয়ার আহবান জানালে অনেক নবীন স্থপতি নিজের মেধা খাটিয়ে সিলেটের ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নকশা প্রদান করবেন এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। সেই সব নকশা থেকে সিলেট নগরের বিভিন্ন মোড়ের জন্য উপযুক্ত স্থাপনা দেশবরেণ্য স্থপতিরা বাছাই করতে পারেন। সিলেট নগরের জন্য এমন সুযোগ থাকা সত্বেও খামখেয়ালীপনার খেসারত আমাদের দিতে হচ্ছে। যা কোন ভাবেই সিলেটবাসীর জন্য ভালো নয়।

সিলেটের সাহিত্য সংস্কৃতি অঙ্গনের পরিচিত মুখ বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শামসুল আলম সেলিম পোষ্টে এক মন্তব্যে লিখেছেন-

আম্বরখানা পয়েন্টের এই শিশু খেলনাটি সরিয়ে এখানে ইতিহাস, ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ট্রাফিক পয়েন্ট নির্মাণ করা হউক। আম্বরখানাবাসীকে এভাবে হেয়ো প্রতিপন্ন করার অধিকার কারও নেই।আমি এই অদ্ভুত নির্মানের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দ্রুত এটি অপসারনের দাবী করছি।

অন্য এক মন্তব্যে পরিবেশবিদ আব্দুল করিম কীম লিখেছেন-

কয়েস ভাই, নগরে ইচ্ছেখুশি স্থাপণা নির্মাণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ বন্ধ করা হোক। একজন কাউন্সিলর হিসাবে এই কিম্ভুতকিমাকার স্থাপনা নিয়ে হওয়া সমালোচনায় আপনি বিব্রতবোধ করলেও নির্মাতা হিসাবে মেয়র মহোদয় কি বিব্রত হয়েছেন? না, নিজের খেয়াল খুশিমত এমন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন?

প্রবাসী সাংবাদিক ইব্রাহিম খলিল লিখেছেন-

এই চত্বরে প্রবাসী সিলেটিদের ইতিহাস- ঐতিহ্য স্থান পেতে পারে। বিমান বন্দর থেকে নগরে প্রবেশ করেই, তা দেখে তারা পুলকিত হতে পারেন। আমার বিশ্বাস সিলেটের নতুন প্রজন্মের স্থপতিরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তা ফুটিয়ে তুলতে পারবেন। শুধু কনসেপ্ট তাদেরকে বুঝিয়ে দিলেই হবে। সম্মানিত কাউন্সিলরকে ধন্যবাদ বিষয়টি তুলে ধরার জন্য।

মনসুরজ্জামান চৌধুরী বাবুল নামের একজন লিখেছেন-

সিলেট সিটি করপোরেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আম্বরখানা পয়েন্ট এই পয়েন্টে যে স্থাপনা স্থাপন করা হয়েছে এটা একটা খেলনা এবং হাস্যকর স্থাপনা। অবিলম্বে এই তামাশা অপসারণ করে সিলেটের ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্থাপনা পুনঃনির্মান করা হোক আর জনগণের ট্যাস্কের টাকা দিয়ে যে বা যারা এই তামাশা করতেছেন তাদেরকে অবশ্যই সিটি করপোরেশনের জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। কোন ব্যাক্তির একক সিদ্ধান্তের দায়ভার সিলেট সিটি করপোরেশনের নাগরিক বৃন্দ বহন করবে না। এভাবে শতো শতো মন্তব্য জমা হচ্ছে পোষ্টে।

তবে সিসিকের ভারপ্রপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন- আজ আমাদের একজন কাউন্সিলর ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে লিখেছেন নজরে এসেছে। একটি প্রাইভেট কোম্পানীকে কাজটি করার স্পন্সর দেয়া হয়েছে। সেটি ডিজাইন করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্থাপত্যশিল্পী। তিনি এ বিষয়ে পরবর্তী সভায় আলোচনা করা হবে বলে।

শেয়ার করুন