২৪ মে ২০২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগরজুেড় এখন বইছে ভোটের হাওয়া। আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠেয় সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন ১১ জন। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রার্থী ৪ জন, বাকি ৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ইতিমধ্যে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছন প্রার্থীরা।
মেয়র পদে মনোনয়ন দাখিল করা রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা হলেন- মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী (আওয়ামী লীগ), নজরুল ইসলাম বাবুল (জাতীয় পার্টি), হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান (ইসলামী আন্দোলন) ও মো. জহিরুল আলম (জাকের পার্টি)। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন- মোহাম্মদ আবদুল হানিফ কুটু, মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান খান, সামছুন নুর তালুকদার, মো. ছালাহ উদ্দিন রিমন, মাওলানা জাহিদ উদ্দিন চৌধুরী, মো. শাহজাহান মিয়া ও মোশতাক আহমেদ রউফ মোস্তফা।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির নজরুল ইসলাম বাবুলের মধ্যে মুল লড়াই হওয়ার সম্ভবনা থাকলেও একাধিক বারের মেয়র প্রার্থী ছালাহ উদ্দিন রিমন ও গরীবের বন্ধু খ্যাত মো. শাহজাহান মিয়াকে (শাহজাহান মাষ্টার) নিয়ে চায়ের টেবিল পুরোই সরগরম।
নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা প্রার্থীদের হলফনামা অনুযায়ী এই চার প্রার্থীর মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতায় সমমান ৩ জন।আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বিএ (সম্মান), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান এলএলবি পাস ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান মিয়া বিএসএস ডিগ্রি পাস। নজরুল ইসলাম বাবুল এবং ছালাহ উদ্দিন রিমন নিজেকে ‘স্বশিক্ষিত’ লিখেছেন। এছাড়াও হলফনামায় বেশিরভাগ প্রার্থী ব্যবসায়ী বলে উল্লেখ করেছেন।
আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী
আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বিএ (সম্মান) পাস। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। তাঁর বার্ষিক আয় ২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৪ টাকা। আনোয়ারুজ্জামানের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদই আছে ৪১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪৮ টাকা। এর বাইরে অস্থাবর সম্পদের মধ্যে দুটি টিভি, একটি রেফ্রিজারেটর, দুটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) এবং ২ সেট সোফা, চারটি খাট, একটি টেবিল, ১০টি চেয়ার ও দুটি আলমারি আছে। তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে ৪৭ ভরি স্বর্ণালংকার। আনোয়ারুজ্জামানের স্থাবর সম্পদের মধ্যে ৩ বিঘা কৃষিজমি, ২৩ শতক অকৃষিজমি, একটি দালান ও একটি বাড়ি বা ফ্ল্যাট আছে। তবে তাঁর কোনো দায় বা দেনা নেই।
মো. নজরুল ইসলাম
স্বশিক্ষিত জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর বার্ষিক আয় ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৯ টাকা। তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটা মামলা তদন্তাধীন। এ ছাড়া অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হলেও সেগুলো থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। নজরুল ইসলামের ২ কোটি ৩৪ লাখ ৫১ হাজার ৯৬৩ টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে। পাশাপাশি অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তাঁর একটি বিএমডব্লিউ, একটি টয়োটা প্রাডো, চারটি কার্গো ভ্যান, আটটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি মোটরসাইকেল আছে। এ ছাড়া তাঁর স্ত্রীর নামে ২১ লাখ ১২ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে। নজরুলের স্থাবর সম্পদের মধ্যে ১৩৫ দশমিক ৭৮ শতক অকৃষিজমি, একটি ফ্ল্যাট এবং চারটি দালান ও টিনশেড বাড়ি আছে। তাঁর ৫ কোটি ২৯ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৭ টাকার ঋণ আছে।
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থীর ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি তাদের আয়, আয়ের উৎস, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, মামলা, দেনাসহ বেশ কিছু তথ্য দিতে হয়। প্রার্থীদের হলফনামা ঘেঁটে শিক্ষাগত যোগ্যতার এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সিলেট সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়সল কাদের বলেন, প্রার্থীদের হলফনামা যাচাই-বাছাই করে অসংগতি পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২৫ মে। আর ১লা জুন পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। আর ২১ জুন প্রতিটি কেন্দ্রে ইভিএম এ ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।