১৭ আগস্ট ২০২১
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের ফুলতৈলছগামে এক যুবকের মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ করেছে নিহত যুবকের পরিবার। সোমবার মো. আমিনুর রহমান(৩২) নামের ঐ যুবক স্থানীয় খলিল আহমদের ফিশারিতে কাজ করতে গেলে ঘন্টা খানেক পর প্রায় অর্ধমৃত অবস্থায় এক শ্রমিক তাকে বাড়িতে দিয়ে যায়। পরে তাকে দ্রুত ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত যুবক ফুলতৈলছগামের মো. মশ্রব আলীর ছেলে এবং ১নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি। তিনি এক পুত্রসন্তানের জনক।
পুলিশ ও পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে খলিল আহমদের পরিবারের সাথে আমিনুর রহমানের পরিবারের দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খলিল আহমদ ফিশারিতে কাজের জন্য অন্য শ্রমিকদের সাথে আমিনুর রহমানকে নেয়। বেলা দেড়টার দিকে এক শ্রমিক আমিনুর রহমানকে অর্ধমৃত অবস্থায় বাড়িতে দিয়ে যায়। পরে বাড়ির লোকজন তাকে দ্রুত ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে প্রেরণ করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খলিল আহমদের ফিশারিতে তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের ভাই মো. আতাউর রহমান বলেন, তারা শ্রমিকদের থেকে জানতে পেরেছেন তার ভাই আহত হয়ে পড়ে থাকলেও কেউ সহায্য করতে আসেনি। সে পানি পানি বলে চিৎকার করলেও কেউ লক্ষ্য করেনি। পরে এক শ্রমিক দয়াপরবশ হয়ে তাকে অর্ধমৃত অবস্থায় বাড়িতে দিয়ে যায়। হাসপাতালে নেয়ার সময় পথিমধ্যে সে ‘বুকুত মারি লাইছে’ বলে নিশ্চুপ হয়ে যায়। হাসপাতালে নিয়ে গেছে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় তোয়াকুল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আব্দুল হান্নান বলেন, দুই পরিবারের মধ্যে পূর্ব থেকে বিরোধ চলছে। এই বিরোধ থেকেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
এদিকে, পুলিশ জানতে পেরেছে, গাছ কাটার সময় গাছের ডালের আঘাতে আমিনুর রহমান দূরে ছিটকে পড়ে। পরে তাকে আহত অবস্থায় বাড়ি পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ পরিমল চন্দ্র দেব বলেন, নিহত যুবকের পরিবার থানায় রয়েছে। তারা অভিযোগ দিতে চাইছেন। যুবকের লাশ মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।