১৪ আগস্ট ২০২১
কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি : কোম্পানীগঞ্জের মরা ধলাই খালের দখল উচ্ছেদে জেলা প্রশাসনের নোটিশকেও তোয়াক্কা করা হয়নি। খালটির অবৈধ দখল ছাড়তে ১৫ দিনের নোটিশ দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। এক বছর আগে দেওয়া সেই নোটিশেও উচ্ছেদ হয়নি কোনো স্থাপনা।
জানা গেছে, ভোলাগঞ্জ থেকে রুস্তমপুর, নোয়াগাঁও-পাড়ুয়া হয়ে টুকার বিল পর্যন্ত খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় চার কিলোমিটার। একসময় এই খালে নৌকা চলত। খালের পানি মানুষ নানা কাজে ব্যবহার করত। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে খালটি অস্তিত্ব হারায়। দখলবাজরা তৈরি করে বসতবাড়ি। কেউ নির্মাণ করেন দোকান। কেউ তোলেন প্রাচীর।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্র জানায়, খালটিতে অবৈধ দখল করা জমির পরিমাণ ২ দশমিক ৩৭ একর। অবৈধ দখলদারের সংখ্যা শতাধিক। ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই সরকারি সম্পত্তির অবৈধ দখল ছাড়তে নোটিশ দেওয়া হয়। এরপর ভুক্তভোগীরা একাধিকবার স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর দখলদারদের ১৫ দিনের সময় দিয়ে নোটিশ দেয় জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আসলাম উদ্দিন স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে বলা হয়, দখলদারেরা বেআইনিভাবে খালটি দখলে রেখেছেন। ভূমি ও ইমারত (দখল পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ ১৯৭০ (অধ্যাদেশ নম্বর-২৪ / ৭০)–এর ৫ ধারার বিধানমতে নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে বর্ণিত ভূমি, ইমারত অথবা এর অংশ বিশেষ ত্যাগ করার এবং এর ওপরে নির্মিত গৃহাদি অপসারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে, নোটিশের বেঁধে দেওয়া সময়ের এক বছর পার হলেও একটি অবৈধ স্থাপনাও অপসারণ করা হয়নি। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দখলদারেরা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। নিজ দায়িত্বে কেউ কোনো স্থাপনা সরিয়ে নেননি। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তাতে দুর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসী।
ভোলাগঞ্জ গ্রামের ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন, পাড়ুয়ার ইব্রাহিম আলী, রস্তমপুরের আলী আসকর ও নোয়াগাঁও গ্রামের আবুল কাশেম জানান, মরা ধলাই খালটি রক্ষায় তাঁরা একাধিকবার স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জসিমুল ইসলাম আঙ্গুর বলেন, খাল দখল করে পৈতৃক সম্পত্তির মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। জনস্বার্থে খালটি পুনরুদ্ধার করে সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
পাড়ুয়া গ্রামের ডাক্তার আবদুল হাসিব বলেন, দখলের কারণে মরা ধলাই খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই ভোলাগঞ্জ-পাড়ুয়া-রুস্তমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, উপজেলা পরিষদের সভায় খালটি দখলমুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। একটি উচ্ছেদ মামলাও হয়েছিল। এক বছর আগে দখলদারদের উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়। জনস্বার্থে এটি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শামীম আহমদ বলেন, একসময় এই খালে নৌকা চলত। স্থানীয় লোকজন গৃহস্থালি কাজে এর পানি ব্যবহার করতেন। কিন্তু এখন সেই খাল দেখে বোঝা মুশকিল, এটা খাল না খণ্ড খণ্ড ডোবা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্য জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে হয়তো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।