১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩


লাউ ও বেগুন চাষ করে স্বাবলম্বী কৃষক রাজেন্দ্র

শেয়ার করুন

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : বেগুনগুলো দূর থেকে যে কেউ দেখলে লাউ বলে মনে করবেন। আসলে সেগুলো লাউ নয় লাউয়ের মতো বড় আকারের বেগুন। তাই এগুলোর নামকরণ করা হয়েছে লাউ বেগুন। কমলগঞ্জ উপজেলার তিলকপুর গ্রামের কৃষক লাউ বেগুন (বারি-১২) জাতের রোপন করে এর সফল উৎপাদন করে বাজিমাত করেছেন কৃষক রাজেন্দ্র কুমার সিংহ। সেই সাথে তার স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি আর্থিক ভাবে লাভবান ও হচ্ছেন।

মাঝারি গাছের ডালে দোল খাচ্ছে বড় বড় সবুজ বেগুন। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, বেগুনের ভারে যেকোনো সময় ভেঙে পড়বে গাছের ডাল। একেকটি বেগুনের ওজন এক কেজি থেকে দুই কেজি। আকারে বড় হওয়ায় এগুলোকে অনেকেই লাউ-বেগুন বলে থাকেন। অন্য জাতের তুলনায় এ ধরনের বেগুন নরম। স্বাদ ও পুষ্টিমানে অনন্য বারি-১২ জাতের এ বেগুনের চাহিদাও অনেক।

সরেজমিনে উপজেলার তিলকপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ৩০শতক ফসলি জমিতে বারি-১২ জাতের বেগুন চাষ করেছেন কৃষক। এর মধ্যে দুইপাঠে আলাদা করে চাষ করেছেন। এক জায়গায় পৌনে চারশো এবং অন্য জায়গায় একশো গাছের চারা রোপন করেছেন। তার সাথে সাথি ফসল হিসাবে বরবটি, টমেটো, মরিছের চারা ও রোপন করেছেন। তবে একদম বারি ১২ জাতের বেগুনে কোন প্রকার রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করেননি। শুধু মাত্র জৈব সার ও প্রাকৃতিকভাবে তৈরী কীটনাশক ব্যবহর করছেন। ইতোমধ্যে তার রোপীত বারি ১২ বেঘুন গাছে ফলন ধরেছে। বেগুনগুলো দূর থেকে যে কেউ দেখলে লাউ বলে মনে করবেন। আসলে সেগুলো লাউ নয় লাউয়ের মতো বড় আকারের বেগুন। তাই এগুলোর নামকরণ করা হয়েছে লাউ বেগুন। নিয়মিত বেগুনগাছের পরিচর্যা করেন। মাঝে মধ্যে উপজেলা কৃষি অফিসের লোকজন এসে তাদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

কৃষক রাজেন্দ্র জানান, কমলগঞ্জে এবার পরীক্ষামূলকভাবে এ বেগুনের আবাদ করা হয়েছে। ভালো ফলন হওয়ায় এ বেগুনে লাভও হচ্ছে বেশি। তবে পাখি ও পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে আলাদা যতœ নিতে হয় এ বেগুন গুলোর। গাছে হলুদ রংয়ের কাগজ দিয়ে মার্ক করে রাখলে পোকা গুলো হলুদ রংয়ের মার্ক করা কাগজে এসে পড়ে মারা যায়। এতে পোকা ফসলের ক্ষতি করতে পারেনা। ফলে ফসল ভালো উৎপাদন করা যায়।

কৃষক রাজেন্দ্র কুমার সিংহ জানান, এই প্রথম ৩০ শতক জমিতে বারি-১২ জাতের লাউ-বেগুন চাষ করেছেন। পাতাকুঁড়ি সোসাইটি ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের সহযোগীতায় তাদের কাছ থেকে বেগুনের বীজ এনেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতি কেজি বেগুন ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি করছি। বাজারে নিতে হয় না, গ্রাহকরা জমিতে এসেই এসব বেগুন কিনে নিয়ে যায়। প্রতিটি লাউ-বেগুন ওজনে ১ কেজি থেকে ২ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই সবজি খুব নরম। অন্য বেগুনের তুলনায় স¦াদ বেশি। ইতিমধ্যে অল্প জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে (বারি-১২) লাউ বেগুন চাষ করেছিলাম। ফলন ভালো হয়েছে। ভালো দাম ও পাচ্ছি। যে টাকা খরচ করেছিলাম তা ইতোমধ্যে আয় করতে পেরেছি। এখন ক্ষেতে যা ফসল রয়েছে তা পুরোটা লাভের। ভবিষতে জমির পরিমাণ বাড়ানোর ইচ্ছা আছে।

বেগুন কিনতে আসা সালাউদ্দিন বলেন, লাউ-বেগুনের স্বাদ অন্য জাতের চেয়ে আলাদা। বিশেষ করে এ বেগুনের ভর্তা ও ভাজি তৈরী করা ভালো মানের।

এদিকে, উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়ন থেকে আশা আবুল হাসনাত স্বপন বলেন, আমি বাড়ির জন্য দুই কেজি লাউ-বেগুন কিনেছি এখান থেকে। তরকারিও খাবো এবং বাকিগুলো ভর্তা করে খাবো। এ বেগুন খুব সুস্বাদু।

কমলগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ রায় বলেন, এবারই প্রথম কমলগঞ্জ উপজেলায় এই বেগুন চাষ শুরু হয়েছে। এলাকায় কৃষকরা বেশ উদ্বুদ্ধ হয়েছেন লাউ-বেগুন চাষে। কীভাবে পাখি ও কীটপতঙ্গ থেকে বেগুন রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে মাঠে এসে কৃষকদের সব সময় পরামর্শ দিচ্ছি।

শেয়ার করুন