৫ আগস্ট ২০২১
কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিথি : সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী টুকের বাজারে দীর্ঘ একযুগের বেশি সময়েও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বাজারের রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী, ড্রেনগুলো অপরিষ্কার, অলিতে–গলিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ময়লা-আবর্জনা। দখল-দূষণে বাজারের কয়েকটি ড্রেনে পানিপ্রবাহ প্রায় বন্ধ। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাজারের প্রতিটি গলির বেহাল অবস্থা। দিনের বেলায় বাজারজুড়ে পণ্যবাহী ট্রাক-পিকআপের লোড আনলোডের কারণে বাজার দিয়ে মানুষ চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সব মিলিয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রাজধানী খ্যাত টুকের বাজারের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের দুর্ভোগের সীমা নেই। বাজারের সর্বত্রই অব্যবস্থাপনার কারণে বাজারটি উন্নয়নের ছোঁয়া বঞ্চিত। এতে নানা সমস্যায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে এখান থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হলেও এ বাজারের উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের নেই কোনো নজরদারি। রক্ষণাবেক্ষণে নেই যথাযথ উদ্যোগ। অযত্ন-অবহেলায় পুরনো এ বাজারের ঐতিহ্য আজ ধ্বংসের দোরগোড়ায়। তাছাড়া সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সংস্কার, উন্নয়নের অভাব ও নানা অব্যবস্থাপনায় বর্তমানে টুকের বাজারে দেখা দিয়েছে চরম দুরবস্থা।
জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ছোটবড় মিলে ২০টির বেশি বাজার রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে টুকের বাজার। পাশাপাশি এখানে রয়েছে সাপ্তাহিক গরুর-ছাগলের হাট। এছাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে সাক-সবজি, মাছ, ধান, আম, কাঁঠাল, চালসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য ও গাছ-গাছালি এনে সাপ্তাহিক হাটে বিক্রি করেন। টুকের বাজারে সকাল-বিকাল দৈনন্দিন বেচাকেনা হয়।
বর্তমানে টুকের বাজার পরিচালনা কমিটির অর্থায়নে বাজারে মাঝে ভাঙ্গা রাস্তা নতুন করে ঢালাই ও গভীর নলকূপের ব্যবস্থা করলেও সরকারি অর্থায়নে পরিকল্পিত উন্নয়ন হয়নি দীর্ঘ একযুগের বেশি সময়ে। বাজারে কোনো গণশৌচাগার নেই বলে মানুষ যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করে পরিবেশ দূষিত করছে। সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে পয়ঃনিষ্কাশন হয় না। এতে সামান্য বৃষ্টিতে বাজারে পানি জমে যায়। পাশাপাশি মাছবাজার নোংরা, অপরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধময়। তাছাড়া পশু জবাইয়ের জন্য আলাদা সুব্যবস্থাও নেই বাজারে। কারণ, খোলা জায়গায় পশু জবাই একদিকে যেমন বিপজ্জনক, অন্যদিকে গরুর রক্তের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।
এছাড়া টুকের বাজারে আসা-যাওয়ার যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই খারাপ। তাছাড়া রাস্তা ও দোকানের ফ্লোর লেবেল এক থাকায় বৃষ্টি হলেই রাস্তা-দোকানে পানি জমে থাকে। কর্দমাক্ত থাকে পুরো বাজার।
বাজারের ব্যবসায়ী খায়রুল আমিন বলেন- মানুষের জীবন সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে হাট-বাজার। বাজারের যুগোপযোগী উন্নয়ন খবুই জরুরি। দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত বাজারের উন্নয়ন না হওয়ায় বাজারের ব্যবসায়ীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে পয়ঃনিষ্কাশন হয় না। এতে সামান্য বৃষ্টিতে বাজারে পানি জমে যায়। অলিতে–গলিতে ছড়িয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। বিভিন্ন সমস্যার কারণে বাজারে মানুষ চলাচল করা খুবই কষ্টকর।
টুকের বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মজনু মিয়া বলেন- বাজারের প্রকৃত উন্নয়নে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি। এ ছাড়াও টুকের বাজারকে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন একটি বাজার হিসেবে রূপান্তর করা হোক, যা সময়ের দাবি।
পশ্চিম ইসলামপুর ইউ/পি চেয়ারম্যান শাহ্ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন- অপরিকল্পভাবে দোকানপাট নির্মাণের ফলে টুকের বাজারের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে জানিয়ে সিলেট ভয়েস-কে জানান সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য পরিকল্পত একটি নকশা করে সংশিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে কাজ করা হবে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সুমন আচার্য বলেন- বাজারের সমস্যাগুলোর কথা আমার জানা নেই। ব্যবসায়ী ও বাজার পরিচালনা কমিটি লিখিতভাবে সমস্যাগুলো জানালে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।