৬ আগস্ট ২০২১


গোলাপগঞ্জে অর্থকষ্টে সংকটে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকেরা

শেয়ার করুন

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : করোনাভাইরাসের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশেষ সংকটে পড়েছে কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক–পরিচালকেরা। শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতনে পরিচালিত স্কুলগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ। তাই অভিভাবকদের কাছ থেকে বেতন আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই প্রায় দেড় বছর ধরে বেতন না পেয়ে মানবেতর দিন যাপন করছেন শিক্ষক–পরিচালকেরা।

হেতিমগঞ্জ নতুন কুঁড়ি শিশু বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক অরুণ দেব বলেন, অনেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও ভালো বেতনে চাকরির সুযোগ না পেয়ে সামান্য বেতনে কিন্ডারগার্টেনে তাঁরা শিক্ষকতা করেন। অনেকে এর সঙ্গে সঙ্গে টিউশনি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু কিন্ডারগার্টেনের পাশাপাশি টিউশনিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষকেরা খুবই অর্থকষ্টে আছেন। তাঁরা লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণও গ্রহণ করতে পারছেন না। আবার মুখ ফুটে কিছু বলতেও পারছেন না।

গোলাপগঞ্জ চাইল্ড কেয়ার কিন্ডারগার্টেনের প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর আলম সোহেল বলেন, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অনেকগুলো পরিবারের বাঁচা–মরা জড়িত। পরিবার নিয়ে তাঁরা খেয়ে না খেয়ে দিন যাপন করছেন। তিনি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার সঙ্গে জড়িতদের খেয়ে–পরে বাঁচার সুযোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান।

দ্বীন মোহাম্মদ একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীনও শিক্ষক–শিক্ষিকাদের দৈন্য দশা লাঘবে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন।

হাসনা নাজিম মডেল স্কুলের শিক্ষক আবুল হাসনাত বলেন, ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে স্কুলগুলোর ভবন মালিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তাঁরা যেন ভাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করেন।’

গোলাপগঞ্জ কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ঢাকাদক্ষিণ হালিসিটি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অজামিল চন্দ্র নাথ জানান, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ৭৮টি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় পৌনে ছয় শ শিক্ষক শিক্ষকতা করেন। নামমাত্র বেতন ভাতা ও গৃহশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে যে অর্থ উপার্জন করতেন, তা দিয়ে পরিবার–পরিজন নিয়ে কোনোরকমে চলতেন তাঁরা। কিন্তু কোভিড পরিস্থিতিতে তাঁদের জীবন তছনছ হয়ে গেছে। বর্তমান অবস্থায় না আছে বিদ্যালয়ে বেতন ভাতা, না আছে গৃহশিক্ষকের কাজ। এমন অবস্থায় শিক্ষক শিক্ষিকাদের অর্থকষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান নাজমুল আলম বলেন, সারা দেশের মতো গোলাপগঞ্জের কিন্ডারগার্টেনগুলোও বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষকেরা অর্থ সংকটে রয়েছেন। তাঁদের সংকটময় সময় উপজেলা পর্যায় থেকে সহযোগিতার কোনো সুযোগ এখন পর্যন্ত নেই। তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী সহযোগিতা করা হবে।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ গোলাম কবির বলেন, নন–এমপিও শিক্ষকদের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ নেই। তবে কোনো শিক্ষক যদি সংকটের মধ্যে থাকেন, এ বিষয়ে জানালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

শেয়ার করুন