১৩ জুন ২০২১


জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্সে এসএমপি

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রবাসী আধ্যুসিত অঞ্চল সিলেট। সিলেটবাসীর আয়ের একটি বড় উৎস হচ্ছে ফরেন রেমিটেন্স। এসব কারনে সিলেট শহরে বেশ কিছুদিন থেকে ব্যাপক হরে বেড়ে গিয়েছে জুয়ার আসর। বিশেষ করে ভারতীয় ‘তীর’ নামক জুয়া নগরীর প্রতিটি অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়েছে। সামপ্রতিক সময়ে ছড়িয়ে পড়া এসব জুয়ার আসর তছনছ করে দিতে বিশেষ অভিযানে নেমেছে সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশ- এসএমপি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্সে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।

অভিযানের অংশ হিসেবে গত একমাসে এসএমপির অধিনস্থ এলাকায় বিশেষ ৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন ৬১ জন। উদ্ধার করা হয়েছে জুয়া খেলার বিভিন্ন সামগ্রী।

এসএমপি সূত্রে জানা যায়, গত ১লা মে এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুয়া খেলার সামগ্রীসহ ১২ জুয়াড়ীকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিনে পৃথক আরেকটি অভিযান চালিয়ে মোগলাবাজার থানা এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে আরো ৩ জুয়াড়ীকে গ্রেফতার করা হয়।

এর পর ৬ মে বিমানবন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুয়াখেলার সামগ্রীসহ ৪ জুয়াড়ী গ্রেফতার করা হয়। গত ১০ মে একই থানা এলাকা থেকে ৭ জুয়াড়ীকে গ্রেফতার করা হয়।
গত ২২মে দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭ জুয়াড়ীকে গ্রেফতার করা হয়। এর পর দিন ২৩ মে একই থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো ১৫ জুয়াড়ীকে গ্রেফতার করা হয়। এর তিনদিন পর ২৬ মে আবারো দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো ৫ জুয়াড়ীকে গ্রেফতার করা হয়। সর্বশেষ ৩১ মে আবারো এই একই দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো ৮ জুয়াড়ীকে গ্রেফতার করা হয়।

এসএমপির গত এক মাসের এই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৮টি অভিযানের মধ্যে ৫টি অভিযানই দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকায় পরিচালনা করা হয়। যা এই এলাকার মানুষের জন্য খুবই আশংঙ্কাজনক।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এই এলাকা আগে থেকেই জুয়ার বিস্তার ছিল। তার পরও আমরা চেষ্টা করছি এটি একে বারে বন্ধ করে দিকে। এই জুয়াড়ীরা বেশীর ভাগই ‘তীর’ খেলে যা অনলাইন নির্ভর। এই কারনে অনেক সময় ধরাই কঠিন হয়ে পড়ে। এদেরকে আদালতে চালান দেয়ার পর ২ থেকে ৫শ টাকা জরিমানা ও এক থেকে দুই দিনের জেল খেটে আবারো বাহিরে চলে এসে পুণরায় খেলা শুরু করে। এজন্য এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছেনা।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে এসএমপির মুখপাত্র ও এডিসি বি.এম আশরাফ উল্লাহ তাহের বলেন,এসএমপির মাননীয় পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের প্রচেষ্টায় ইতিমেধ্য তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহযোগীতায় বেশ কয়েকটি অনলাইন লিংক ও এ্যাপস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমরা সকল প্রকার জুয়া বন্ধ করতে চিরুনী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। এসএমপির সকল প্রকার জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্সে রেয়ছে। এখন যে স্পটে খেলা হবে সেই স্পটের মালিককেও আইনের আওতায় আনা হবে।

সিলেট জেলা বারের সাবেক সভাপতি এ্যডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, আসলে এটি ‘পাবলিক গেমভলিং এ্যক্ট’ অতিঃ পুরাতন আইনে খুবই সল্প সাজার বিধান রয়েছে। এই আইনটি পরিবর্তন জরুরী।

শেয়ার করুন