৮ নভেম্বর ২০১৭


বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে ‘লাগামহীন’ নিত্যপণ্যের দাম

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং ও প্রয়োজনীয় তদারকির অভাবে বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরের ছোট-বড় বাজারগুলোতে বেশ কিছু দিন ধরে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদিসহ সবজির দাম এখন আকাশছোঁয়া। পেঁয়াজবাজারের লাগাম টেনে ধরাই যাচ্ছে না। চালের বাজারের পর পেঁয়াজের বাজারেও এখন আগুন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। আর এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৪০ টাকা থেকে ৫৫ টাকা পর্যন্ত। এভাবে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ায় জনজীবনে নাভিশ্বাস ওঠে যাচ্ছে।

সবজি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য লাগামহীন হওয়ার কারণে বিপাকে পড়েছেন অনেকে। এছাড়া সবজির দাম বাড়ায় কেবল যে নিম্ন আয়ের লোকজন বিপাকে পড়েছেন। বাজারের এই চিত্র নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের মধ্যে।

ক্রেতারা অভিযোগ করে বলেছেন, বাজার মনিটরিংয়ের অভাব এবং অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন। আবার বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে পণ্য সরবরাহ কম। এর ফলে বেশি দামে তাদের পণ্য কিনে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। কয়েক দফা বন্যা এবং বৃষ্টির কারণে এবার সবজির আবাদ ব্যহত হয়েছে বলে জানান বিক্রেতারা।

বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি সপ্তাহে বাড়ছে সবজির দাম। লাগামহীন সবজির দাম থাকার কারনে অনেকটাই ক্রেতাশূন্য সবজির বাজার। ক্রেতা সাধারণকে একাধিক দোকান ঘুরে দরকষাকষি করতেও দেখা যাচ্ছে। তবে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং করার কথা বলা হলেও দুই উপজেলার ক্রেতা সাধারণ এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে অনেকেই বলেন, এগুলো কাগজেপত্রে মনিটরিং দেখানো হচ্ছে। বাস্তবে এর কোনো মিল নেই। প্রকৃত অর্থে যদি মনিটরিং ব্যবস্থা থাকতো তাহলে কেন সরকারের দেয়া পণ্যের মূল্যতালিকা প্রতিটি বাজারে সাঁটিয়ে দেয়া হচ্ছে না? এতেই প্রমাণিত হয় যে, উপজেলার কোনো বাজারেই প্রশাসনের মনিটরিং ব্যবস্থা নেই।

শীতকাল আসার আগেই শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও এর দামও বেশ চড়া। বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজি বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির মধ্যে পটল প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, করোলা, ঝিঙে, শসা এবং টমেটো মান ও আকার ভেদে ৫০ থেকে ২শ টাকা, কচুর মুখি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, নতুন আলু ৮০ থেকে ৯০ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৪০ টাকা, শিম ১৪০ থেকে ২শ টাকা, মূলা ৬০ থেকে ৬০ টাকা, ভেন্ডি ৬০ টাকা এছাড়া লাল শাক, ডুগি শাক, লাই শাক বিক্রি হচ্ছে আটি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

অপরদিকে মুদিপণ্য গুলোও আগের চেয়ে অনেকটা ছড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। পেঁয়াজ প্রতিকেজি, ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা, রসুন ৯০ থেকে ১০০টাকা, আদা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, চাউল প্রতিকেজি (মোটা) ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা, (চিকন) ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, সয়াবিন প্রতি লিটার (খোলা) ১শ টাকা, বোতল ১১০-১৩৫ টাকা, মশুর ডাল প্রতিকেজি ৯০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য অধিক চড়া মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে।

ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারে সবজি কিনতে আসা আব্দুল করিমসহ একাধিক ক্রেতা বলেন, বাজারে ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজিই পাওয়া যাচ্ছে না। আর চালের দামতো ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত আদায় করছেন। এমন অবস্থায় আমরা নিম্নবিত্তরা কোথায় যাবো। এই বাজারে আসা রুহুল আমিন নামের এক দিনমজুর জানান, আমি সারাদিন কাজ করে পাই ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। প্রতিদিন চাল কিনেই আর সবজি কেনা সম্ভব হয় না।গতকাল সোমবার বালাগঞ্জ বাজারে আসা ক্রেতা হিরন মিয়া বলেন, বাজারে যেভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে তাতে করে আমাদের পক্ষে সদাইপাতি কেনা মুশকিল হয়ে যাবে।

বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ সিংহ বলেন, বালাগঞ্জ উপজেলায় বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা অব্যাহত আছে। তবে উপজেলার বাজারগুলোতে মনিটরিং ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হবে।

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, বাজারগুলোতে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

 

 

(আজকের সিলেট/৮ নভেম্বর/ডি/ডিআর/ঘ.)

শেয়ার করুন