৭ মে ২০২১


করোনা মুক্তির প্রার্থনায় জুমাতুল বিদআহ পালিত

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মহামারি আকার ধারণ করেছে। এ ভাইরাস থেকে বিশ্বের সব মানুষের সুরক্ষা, আক্রান্তদের দ্রুত আরোগ্য লাভ, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি এবং দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনায় জুমাতুল বিদার নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া করা হয়েছে। জুমাতুল বিদা রমজান মাসের শেষ জুমা। জুমাতুল বিদার মাধ্যমে বিদায় সমাগত ফজিলতপূর্ণ রমজান মাসের।

শুক্রবার শেষ জুমা সিলেটেও যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভে ও অধিক পুণ্যের আশায় মসজিদে হাজির হন। জুমার নামাজ শেষে দু’হাত তুলে প্রার্থনা করেন মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজেদের পাপ মোচনের জন্য তওবা করে ক্ষমা চান। দোয়া করেন সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে।

রোজায় বিদায় লগ্নে জুমাতুল বিদা উপলক্ষে মসজিদে মসজিদে ছিল মানুষের ঢল। ফজিলত থেকে বঞ্চিত না হতে সিলেটের শাহজালাল (র.) মাজার মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি বরাবরের ন্যায় লক্ষ্যণীয় ছিল।

মুসলমানদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাহে রমজান। ধর্মমতে, এই মাসে কবরের শাস্তি মাফ করা হয়। আল্লাহ তার বান্দাকে গোনাহ থেকে পবিত্রতা দান করেন। সোওয়াবের ক্ষেত্রেও বহুগুণ বেশি পাওয়া যায়। এসব কারণে রমজানকে মুসলমানেরা আল্লাহ থেকে পাওয়া এক ধরনের উপহার হিসেবে মনে করেন। একারণে নগরীর মসজিদগুলোতে নামাজের আগ থেকেই মুসল্লিরা যেতে শুরু করেন।

এসময় তারা যথেষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অধিকাংশ মুসল্লিদের কাছে ছিল, আলাদা জায়নামাজ, মুখে ছিল মাস্ক। ছিল হ্যান্ড স্যানেটাইজারের ব্যবস্থা। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। আল্লাহ কাছে নিজেদের গোনাহ মাফের প্রার্থনা করেন।

এসময় বিশ্বব্যাপী মহামারী আকার ধারণ করা করোনাভাইরাস থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহর নিকট আকুল আবেদন করা হয়। নিজে এবং অপরের জন্য খোদা তায়ালার কাছে প্রার্থনার সময় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মুসল্লিদের কান্নার আওয়াজে বাড়ি হয় মসজিদের দেয়াল।

নগরীর হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজারে নামাজ পড়তে এসেছেন পায়রা এলাকার বাসিন্দা আকরাম হোসেন। এসময় তার সাথে আলাদা জায়নামাজ ছিল। মুখে পড়েছেন মাস্ক। ছিল হ্যান্ড স্যানেটাইজারও।

আকরাম বলেন, রমজানের শেষ শুক্রবার হওয়ায় মানুষের একটু বেশিই ভিড় হবে। তাই একটু আগেই চলে এলাম। আল্লাহর কাছে, নিজের এবং অপরের জন্য প্রার্থনা করবো। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী থেকে সবাইকে মুক্তির দোয়া করবো। আগামী বছর বাঁচব কিনা জানিনা, তাই জীবনের সমস্ত গোনাহের জন্য আল্লাহর কাছে মাফ চাইবো।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, দিবসসমূহের মধ্যে জুমাতুল বিদা সর্বশ্রেষ্ঠ দিন। রমজানের প্রতিটি দিন তার আগের দিন অপেক্ষা শ্রেয়তর এবং অধিক ফজিলতপূর্ণ। তাই রমজানের শেষ জুমা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যমণ্ডিত। কেননা, জুমাতুল বিদার মাহাত্ম অত্যধিক। রমজান মাসের সর্বোত্তম দিবস হলো জুমাতুল বিদা।

শেয়ার করুন