১৭ মার্চ ২০২১
কাউসার চৌধুরী (অতিথি প্রতিবেদক) : সিলেটে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য ডেডিকেটেড শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের ১৬টি আইসিইউ’র মধ্যে ৬টি অকেজো। কাজে আসছে না দুটি ডায়ালাইসিস মেশিন। নষ্ট হয়ে গেছে একমাত্র পোর্টেবল এক্সরে মেশিন। হাই ফ্লু নজেল কেনোলাও বিকল হয়ে যাচ্ছে। সিলেটে করোনার সংক্রমণ ক্রমশ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে শামসুদ্দিন হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জামের এমন দশায় উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আর.এম.ও) ডাঃ সুশান্ত কুমার মহাপাত্র জানিয়েছেন, বিকল হওয়া যন্ত্রপাতিসহ আইসিইউ’র ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে লোকজনের সহযোগিতায় সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও বিষয়গুলো দেখবেন। এ ব্যাপারে ঢাকা থেকে টেকনিশিয়ান আসার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের করোনা রোগীদের জন্যে সরকারিভাবে নির্ধারিত ডেডিকেটেড শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে গত বছরের ৫ এপ্রিল সিলেট বিভাগের প্রথম করোনা রোগী ডাঃ মঈন উদ্দিনের ভর্তির মধ্য দিয়ে সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্যে প্রস্তুত করা হয় হাসপাতালটি। এতে সাধারণ বেড ৮৪টি, আইসিইউ বেড ১৬টি, হাই ফ্লু নজেল কেনোলা ৬টি, অক্সিজেন সিলিন্ডার ২৬১টি, ৯টি ভেন্টিলেশন রয়েছে। করোনার প্রথম দফার ঢেউয়ের পর এ সকল যন্ত্রপাতি বিকল হতে থাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের ১৬টি আইসিইউ এর মধ্যে বর্তমানে ৬টি অকেজো। ৬টি আইসিইউর মনিটর নেই। নেই অক্সিজেন মিটার। এছাড়াও আরো সমস্যা থাকায় ৬টি আইসিইউ’র মনিটর নেই। নেই অক্সিজেন মিটার। এছাড়াও আরো সমস্যা থাকায় ৬টি আইসিইউ বর্তমানে কোন কাজে আসছে না। দুটি ডায়ালাইসিস মেশিন থাকার পরও মেশিন দুটি কাজে লাগছে না।
সূত্র জানায়, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের আর.ও মেশিনটি বেশ কিছুদিন ধরেই নষ্ট। মেশিনের মেমরিন পানি ছেকে দেয়। কিন্তু মেমরিনসহ মেশিনটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ডায়ালাইসিস মেশিন দুটিও বন্ধ রয়েছে। মেশিন দুটি পুরোদমে চালু করতে হলে নিজস্ব পৃথক প্ল্যান্ট স্থাপন করতে হবে। প্ল্যান্ট স্থাপন করতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। হাই ফ্লু অক্সিজেন মেশিনের অবস্থাও ভালো নয়। মনিটর না থাকায় আগের মতো হাই-ফ্লু অক্সিজেন মেশিন কাজ করছে না বলে সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, হাসপাতালের আইসিইউ রোগীদের এক্স রে করার জন্যে একটি পোর্টেবল এক্সরে মেশিন ছিল। মেশিনে ঢাকা লাগানো থাকায় রোগীর বেডের পাশেই মেশিনটি নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল। সহজেই বেডের অচেতন রোগীর বুক এক্সরে করা যেত। কিন্তু, অতি জরুরী এই এক্সরে মেশিনটিও নষ্ট হয়ে গেছে। এই এক্সরে মেশিনটি নষ্ট থাকায় আইসিইউ রোগীদের বুক এক্সরে করতে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
হাসপাতালের ৬টি হাই ফ্লু নজেল কেনোলার মধ্যে বর্তমানে ১টি পুরোপুরি বিকল। ৯টি ভেন্টিলেটরের মধ্যে ৩টি নষ্ট হয়ে গেছে। এ সকল যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা হুমকির মুখে পড়েছে।
লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোনার প্রথম ঢেউয়ে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল রোগীদেরকে ভালো মানের সেবা প্রদান করে। সুস্থ হওয়া রোগীদের মুখে হাসপাতালটির করোনা চিকিৎসার প্রশংসাও শোনা যাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার হাসপাতালের সাধারণ বেডে ৪০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। আইসিইউতে ছিলেন আরো ১০ রোগী।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, এক সপ্তাহ আগেও সিলেটে করোনা রোগীর চাপ তেমন ছিল না। করোনা শনাক্তের হারও কমে গিয়েছিল। কিন্তু গত ৫ দিন ধরে হঠাৎ করেই আক্রান্তের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। সামনের দিনগুলোতে আক্রান্তের হার বাড়ার আশংকা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এজন্যে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের এ সকল সমস্যার সমাধান দ্রুত প্রয়োজন।
শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল সূত্র জানায়, ডায়ালাইসিস মেশিন চালুর জন্যে নতুন ফিল্টার স্থাপন করতে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ডাঃ নাজমুস সাকিব চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এখানে কোন সমস্যা দেখা দিলে স্বাস্থ্য প্রকৌশল বা ঢাকায় স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। তারাই সমাধান করে দেন। এ সকল যন্ত্রপাতি ঠিক করতে জরুরী কোন বরাদ্দ নেই বলেও সূত্র জানায়।
প্রসঙ্গত, গেল বছরের ৫ এপ্রিল সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মঈন উদ্দিন করোনা শনাক্ত হন। তিনিই বৃহত্তর সিলেটের প্রথম করোনা রোগী। শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তির পর ১৫ এপ্রিল রাজধানী ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ডাঃ মঈন মারা যান। ২৫ এপ্রিল শনিবার রাত ৮টায় ভর্তির ৩ ঘণ্টার মধ্যেই চুনারুঘাটের ১০ বছর বয়সী এক শিশু মারা যায়। ২ দিন পর আইইডিসিআর শিশুটির করোনা শনাক্তের খবর নিশ্চিত করে। শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে এই শিশুটিই প্রথম মারা যায়। তবে শিশুটি লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল।