২৬ মার্চ ২০২১
অতিথি প্রতিবেদক : মুক্তিযুদ্ধে সিলেট শহরের প্রথম দুই শহীদ হলেন তরুণ রাজনৈতিক কর্মী আব্দুস সামাদ ফকির ও রিকশাচালক জোলাই শাহ। প্রথমজন শহীদ হন ২৫ মার্চ দিবাগত রাতের শেষের দিকে আর দ্বিতীয় জন ২৬ মার্চ সকালে।
সিলেটের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখক ও গবেষক তাজুল মোহাম্মদের বই ‘সিলেটে গণহত্যা’য় এ তথ্য পাওয়া যায়।
বইটির তথ্যানুযায়ী, একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতেই পাক হানাদাররা সারাদেশে শুরু করে অপারেশন সার্চ লাইট। এ অপারেশনের শুরুতেই সারাদেশের তরুণ যুবা ও মুক্তিকামী মানুষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। চালায় নির্বিচার হত্যাকাণ্ড। ইতিহাসের সেই জঘন্য হত্যাকাণ্ড সেই রাতেই শুরু হয়েছিল সিলেটেও।
সেদিন মধ্যরাতেই তারা সিলেট শহরে পৌঁছে এবং ছড়িয়ে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে। শহরে প্রবেশ করতে গিয়ে তারা নানা জায়গায় প্রতিরোধের মুখে পড়ে। শহরের নাইওরপুলস্থ রামকৃষ্ঞ মিশনের সামনে একদল মুক্তিকামী যুবক মধ্যরাতের পরেও ব্যরিকেড তৈরিতে ব্যস্ত ছিল।
জল্লাদরা তাদের দিয়েই সিলেট শহরে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। মুক্তিকামী যুবকদের উপর তারা গুলিবর্ষণ করতে শুরু করে। সাথে সাথে যুবকদের একজন, আব্দুস সামাদ ফকির মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অন্যেরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
শহরের দ্বিতীয় শহীদ হিসাবে ‘সিলেটে গণহত্যা’ বইতে যার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ছিলেন একজন রিকশা চালক। নাম জোলাই শাহ। বাড়ি কুমিল্লায়। থাকতেন নগরীর চন্দনটুলা এলাকায়।
২৬ মার্চ ভোরের দিকে তিনি দরগাগেইট এলাকার সোনালী ব্যাংকের কাছে ‘ জয়বাংলা’ শ্লোগান দিতে দিতে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ গুলি এসে তার বুক ঝাঁঝরা করে দেয়। সাথে সাথে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।