৮ মার্চ ২০২১


হাওরে লাভজনক হচ্ছে প্রাকৃতিক হাঁসের খামার

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : হাওর অধ্যুষিত মৌলভীবাজারের কাউয়াদিঘি, হাকালুকি ও হাইল হাওরসহ ছোট-বড় বিভিন্ন হাওরে কৃষকরা গড়ে তুলেছেন হাঁসের প্রাকৃতিক খামার। প্রত্যেক খামারে রয়েছে হাজারের ওপরে হাঁস। এসব হাঁস হাওরের মাছ বা জলজ প্রাণী এবং জলজ উদ্ভিদ খেয়ে বেড়ে উঠছে। শুকনো মৌসুমে খাল-বিল-নদীর অল্প পানিতেও রয়েছে পর্যাপ্ত হাঁসের খাবার। এ পেশা লাভজনক হওয়ায় হাওরপাড়ে এখন অনেকেই হাঁসের খামার করতে আগ্রহী হচ্ছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারে ৪৩২টি হাঁসের খামার রয়েছে। খামারগুলোতে মোট হাঁসের সংখ্যা ৭ লক্ষ ৪৮ হাজার ৫শ’ ৭০টি।

সরেজমিনে হাওর কাউয়াদিঘির মধ্যস্থলে গেলে চোখে পড়ে হাজার হাজার হাঁসের ঝাঁক। রাখাল যেমন গরুর পাল নিয়ে ছুটে চলে মাঠে, তেমনি হাঁসের ঝাঁক নিয়ে ছুটে চলেন খামারী। দল বেঁধে এসব হাঁস হাওরের খাল, বিল ও নদীর অল্প পানির মাছ বা জলজ প্রাণী কিংবা শেওলা খাচ্ছে। হাওরে মানুষ এসব হাঁস পালনে এবং এই হাঁসের ডিম, বাচ্চা ও বড় হাঁস বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওরে গেলেও একই দৃশ্য চোখে পড়ে।

স্থানীয় লোকজন বলেন, ‘হাওরের হাঁসের ত্যাল (তেল) হয় জব্বর।’ এই হাঁসের স্বাদ অন্য হাঁস থেকে আলাদা বলেই এর বেশ কদর আছে স্থানীয় বাজারে। এসব হাঁসের ডিমেরও অনেক চাহিদা রয়েছে স্থানীয় বাজারে। লাভজনক হওয়ায় হাওর পাড়ের অনেকেই হাঁসের খামার গড়ে তুলেছেন। পাইকারি ক্রেতারা খোঁয়াড় থেকে ডিম সংগ্রহ করে বাক্স ভর্তি করে গাড়িতে উঠিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে ডিমের আড়তে চালান দেন বলেও জানা গেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী জুয়েল মিয়া বলেন, হাওরের খামারে উৎপাদিত ডিমের চাহিদা বাজারে অনেক বেশি এবং দামও ভালো পাওয়া যায়।

হাঁসের খামারি সুবু মিয়া বলেন, ‘আমি ১৫ বছর পূর্বে একশ’ হাঁস দিয়ে খামার শুরু করি। এখন আমার খামারে প্রায় দেড় হাজার হাঁস রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমার খামারে ৫ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। হাঁস ডিম দেয়া বন্ধ করলে আমরা আর্থিক সংকটে পড়ে যাই। শ্রমিকদের মজুরি দিতে হিমশিম খেতে হয়।’

মৌলভীবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: আব্দুস ছামাদ বলেন, হাওর অধ্যুষিত এ অঞ্চলে হাঁস পালনের একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। দিনদিন এ পেশায় লোকজন এগিয়ে আসছে। তিনি বলেন, আমরা খামারিদের সার্বিক পরামর্শ দিচ্ছি।

শেয়ার করুন