১৬ জানুয়ারি ২০২২


নবীগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলন. একজনের কারাদণ্ড

শেয়ার করুন

মোঃ ফাহাদ আহমদ, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) থেকে : নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউপির পাহাড়পুর এলাকাধীন কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার দায়ে এক ব্যক্তিকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন- মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউপির হামরকোনা গ্রামের মৃত. ইয়াওর মিয়ার ছেলে মো. হায়দার আলী (৩৮)।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উত্তম কুমার দাশ এ সাজা প্রদান করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনেকদিন যাবত একদল প্রভাবশালী কুচক্রিমহল রাতের আঁধারে কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। খবর পেয়ে গত ১লা জানুয়ারি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উত্তম কুমার দাশ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে তিনটি ড্রেজার মেশিন পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেন। এতেও বালু উত্তোলনকারী চক্র কিছুতে থামেনি। ক্রমান্বয়ে প্রতি রাতে কুশিয়ারা নদী থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালাতে থাকে। খবর পেয়ে আজ আবারও ভ্রাম্যমান আদালত ঘটনাস্থলে এসে একজনকে আটক করে নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা আরও জানান, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে প্রতিবছর বর্ষায় নদী ভাঙ্গনের দেখা দেয়। এতে নদীর তীরবর্তী অনেকের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। অনকের আবার হুমকির ন্যায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। অন্যদিকে বালু উত্তোলন ও ট্রাক গাড়ি যাতায়াতের ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্টের পাশাপাশি এলাকার সড়কগুলোর ক্ষতিসহ রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকার আহবান।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উত্তম কুমার দাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ৪ ও ৬ ধারা লঙ্গনের দায়ে উক্ত আইনের ১৫ (১) ধারা অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে হায়দার আলী নামে একজনকে ৩ (তিন) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন